• ই-পেপার

নিলামের মাটির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব : মনিরামপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

দুর্গাপুর

অবৈধভাবে রুটি উৎপাদন করায় ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
অবৈধভাবে রুটি উৎপাদন করায় ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের জন্য অবৈধভাবে বনরুটি উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের শিবগঞ্জ ঘাটে মিড ডে মিলের বনরুটি পরিবহনকালে ১০টি বস্তায় মোট ৯০০ প্যাকেটসহ একজনকে আটক করে প্রশাসন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধভাবে উৎপাদন ও পরিবহনের দায়ে সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় ব্যবসায়ীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাত জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ফিডিং কর্মসূচির বনরুটি নির্ধারিত স্থানে উৎপাদন না করে সরকারি প্যাকেট ব্যবহার করে অবৈধভাবে মিড ডে মিলের বনরুটি উৎপাদন করে আসছিল দুর্গাপুর পৌর শহরের শিবগঞ্জের ‘ভাই ভাই’ বেকারি। তাকে আটকের পাশাপাশি কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
 

নিজের ভিটায় ঠাঁই নেই, পরিত্যক্ত ঘরে কাটছে আনোয়ারার জীবন

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
নিজের ভিটায় ঠাঁই নেই, পরিত্যক্ত ঘরে কাটছে আনোয়ারার জীবন

ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে বসতঘরে। আর থাকার জায়গা না পেয়ে মা আনোয়ারা বেগম (৭৫) ঘুরে বেড়ান পথেঘাটে। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে। একসময় যে বাড়িতে সবাই মিলেমিশে থাকতেন, আজ সেই বাড়িটাই যেন তার কাছে বড্ড অচেনা। একরাশ হতাশা নিয়ে দিন কাটছে এই অসহায় নারীর।

আনোয়ারা বেগম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত ছদুর হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ছদুর হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন তিনি। পরে ছেলের বিয়ে হলে সংসারে নতুন সদস্য আসেন। ধীরে ধীরে ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম নিজেই সংসার ছেড়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে শুরু করেন।

থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় পরে স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নেন। এখনো রাত কাটান সেখানে। এদিকে ছেলে প্রবাসে গিয়েও সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফলে পরিবারটিও এখন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছেলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, সেখানে আমি এক ধরনের বোঝা। একটি ঘরে সবাই একসঙ্গে থাকাও সম্ভব হচ্ছিল না, তাই নিজেই বের হয়ে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে চেয়ে খাই। কখনো খেতে পারি, কখনো উপোস থাকতে হয়। সরকারি সহায়তা শুধু বয়স্ক ভাতা পাই। স্বামীর ভিটায় যদি একটি ঘর হতো তাহলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘আনোয়ারা বেগমের জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে তার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতে পারে। বর্তমানে তিনি যে পরিত্যক্ত নড়বড়ে ঘরে থাকছেন সেখানে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’

ধর্ষক-মাদকের পক্ষে তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে : আইনমন্ত্রী

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ধর্ষক-মাদকের পক্ষে তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ধর্ষক ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কারো পক্ষে কেউ তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক নেতাও তদবির করেন, তবে সেই নেতাকেও একই মামলায় হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান সোহেল, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম, পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিস বিন হাসান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।

সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে অবহেলার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিস করেন। কিন্তু জেলা ও উপজেলার অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে এখনো অফিসে আসার অনীহা রয়েছে। কর্মকর্তারা যদি স্ব স্ব স্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনো সংকট থাকবে না।’

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা (এফিসিয়েন্সি) বৃদ্ধি ও জনভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে প্রথমে ৬০-৭০ কোটি টাকা এবং পরে তা বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতি পাওয়ায় একনেক বৈঠকে সেটি স্থগিত করেছি। রাষ্ট্রের টাকা বেশুমার লুটপাট ও বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার বন্ধে এখন প্রকল্পগুলোর বাস্তবতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা এখন স্মার্ট হয়ে গেছে। তারা সীমান্তে মাদক পাচারে ড্রোন ব্যবহার করছে। আদালতে আইনি ফাঁক-ফোকর গলাতে তারা অল্প পরিমাণে (১০-১৫ পিস) মাদক বহন করে। ফলে বিচারকরা পরিমাণের দিকে তাকিয়ে সহজে জামিন দিয়ে দিচ্ছেন। এদের দমনে সরকার আরো কঠোর হবে।’

চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বাজেট অত্যন্ত চিন্তাশীল, সুদূরপ্রসারী, উচ্চাভিলাষী এবং জনকল্যাণের বাজেট। বিএনপি দেশ ও জনগণের রাজনীতি করে বলেই এই বাজেট নিয়ে রাজপথে কোনো মিছিল-মিটিং নেই।’

১২৭৮ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলেন গয়েশ্বর–আমান

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
১২৭৮ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলেন গয়েশ্বর–আমান
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত ১ হাজার ২৭৮ পরিবারের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বর ও তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাঘৈর বটতলা এলাকায় পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান এবং  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে এ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ‎প্রধান অতিথি হিসেবে আমান উল্লাহ আমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, কোনো মানুষ যেন অভাব-অনটনের কারণে কষ্টে না থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এসব সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি সুবিধাভোগীদের এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তেঘরিয়া ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। 

তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিকল্প নেই। সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।