• ই-পেপার

ফরিদপুর

ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিংড়ায় অধ্যক্ষের অর্থায়নে ইউনিফর্ম উপহার পেল শিক্ষার্থীরা

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় অধ্যক্ষের অর্থায়নে ইউনিফর্ম উপহার পেল শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ইউনিফর্ম গাছ উপহার দিচ্ছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম।

সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তহবিল ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ইউনিফর্ম উপহার দিয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাহাদুরপুর কারিগরি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এই পোশাক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষ শেখ মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আমার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো করুণা নয়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। একটি উন্নয়নকামী ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণে এবং ‘সবার জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। অর্থাভাব যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের প্রতিবন্ধক না হয় এবং পোশাকি বৈষম্য ভুলে প্রতিটি সন্তান যেন একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো গ্রহণ করতে পারে, সেই তাগিদ থেকেই আমার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি ও এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চামারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. রাশিদুল ইসলাম, ‘চামারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আল আমিন মৃধা (সাজু), ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।’

বীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল আরোহীর

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল আরোহীর
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. আবু জাফর আল মুনছুর (৪৩) নামের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট ছোট বটতলী এলাকায় ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু জাফর আল মুনছুর রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার রাজশাহী চিনিকল এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন আবু জাফর আল মুনছুর। পথে বীরগঞ্জ উপজেলার ছোট বটতলী এলাকায় হোসেন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়

ভারি বর্ষণে ফের ডুবল খুলনা শহর

খুলনা অফিস
ভারি বর্ষণে ফের ডুবল খুলনা শহর
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘শহরে বাস করেও আকাশে মেঘ দেখলে এখন ভয় করে। একটু ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তাতো ডুববেই, ঘরে পানি ঢুকে যাচ্ছে। ফার্নিচার, ইলেকট্রিক জিনিস-পত্র সব নষ্ট হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ডুবতে হলো।’ এভাবে নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান।

শুধু মোস্তাফিজুর রহমানই নয়, খুলনায় মেঘ দেখলেই আতংকে ভুগছেন রূপসা, মুজগুন্নি, টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা আবাসিক, সোনাডাঙা আবাসিক, শিপইয়ার্ড, নতুন বাজারসহ খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার নিচু এলাকার বাসিন্দারা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে তিনঘন্টার ব্যবধানে ফের ডুবেছে মহানগরী খুলনা। বৃষ্টিতে রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, পিকচার প্যালেস, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, টিবি বাউন্ডারি রোড, দোলখোলাসহ প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, ব্যবসা প্রতিপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ইজিবাইক, রিকশা, মাহেন্দ্র, সিএনজি, মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই জলাবদ্ধতায় বিপাকের পড়েন কর্মজীবী মানুষও। আকষ্মিক রিকশা, ইজিবাইক ও যানবাহনের কয়েকগুন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন।

00

বেসরকারি খুলনা ওয়েদার ফোরকাস্ট টিম (কেডব্লিউএফটি)’র তথ্য অনুযায়ী খুলনায় দুই ঘন্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে। টিম জানিয়েছে, রেইন গেজেট অনুযায়ী খুলনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে। এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার

এবং ময়ূর নদসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার করার বিষয় ছিল। চলতি বছরেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কোন পরিবর্তন হয়নি।

খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সমন্বয়হীনতা, নদী-খাল দখলের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফলে মেঘ দেখলে মানুষের আতংক তৈরি হচ্ছে।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিরামহীন কাজ করছে। বিগত সময়ে ড্রেনগুলো নষ্ট করা হয়েছে। পাম্প হাউজ, স্লুইজগেটগুলো কাজ করছে না। এ জন্য নগরীর পানি নামতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিনই রেডিমাটি অপসারণ, বর্জ্য নিষ্কাষণে কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীর ১৭, ১৮ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন ও এসব কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক।’ 

মেঘনাপারের ‘মিনি কক্সবাজারে’ অবৈধ স্থাপনা

বিপাকে পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
মেঘনাপারের ‘মিনি কক্সবাজারে’ অবৈধ স্থাপনা
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মিনি কক্সবাজার খ্যাত আলেকজান্ডার মেঘনা তীরে গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে ২০০ গজ হেঁটে গেলেই মেঘনা নদী। নদীর তীর ব্লক দিয়ে বাঁধাই করে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জায়গাটি পরিণত হয় বিনোদন কেন্দ্রে। সমুদ্র সৈকতের রূপ পাওয়ায় এটি একসময় পরিচিতি পায় মিনি কক্সবাজার হিসেবে।

জায়গাটি মূলত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনাতীর। হাজারো দর্শনার্থীতে মুখর থাকলেও সেখানে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঘরতে আসা মানুষদের।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধ ঘিরে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ঢালু অংশ ঘেঁষে চটপটি, ফুসকা, চা ও খেলনার অসংখ্য স্থায়ী দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। 

নদীতীরে চোখে পড়ে বাগানবাড়ী ফুড কর্নার, বিসমিল্লাহ চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, হিমেল হাওয়া চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, আলাউদ্দিন চটপটিসহ বিভিন্ন দোকানপাট। রয়েছে চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল ও খেলনার দোকানসহ দুই শতাধিক দোকানপাট।

দর্শনার্থীরা জানান, তীরে হাঁটাচলার জায়গায় এসব দোকানপাট নির্মাণ করায় দর্শনার্থীদের চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। চলাচলের জায়গা না থাকায় নদীর তীর ঘেঁষে ব্লকের ওপর চলাচল করতে হয় দর্শনার্থীদের। এতে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় শিশুদের নিয়ে চরম বিড়ম্ভনার শিকার হচ্ছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের কোনো তদারকিও নেই। ফলে দখলবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, বিনোদন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি মেঘনা নদীতে ফেলা হয়। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, কক্সবাজার বা নারায়ণগঞ্জের মেঘনাপারের মতোই আলেকজান্ডার ‘মিনি কক্সবাজার’  অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। স্থানীয়রা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন স্পটটির সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছে।

নাজমুন নাহার নামের এক দর্শনার্থী বলেন, চলাচলের জায়গায় দোকান বসেছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে আসার পর আতঙ্ক করছে। ব্লকের ওপর বাচ্চারা ছিটকে পড়লে সোজা মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়বে। 

আইরিন সুলতানা নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তদারকি নেই। নইলে এই জায়গায় এত দোকান কীভাবে বসল।’ 

দর্শনার্থী শরীফ হোসেন বলেন, ‘মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দোকান বসানো হয়েছে। এগুলো দেখতে খুব খারাপ লাগছে, পরিবেশ অসুন্দর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উচিত এখনি এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া।’

দোকানদার আলাউদ্দিন ও জুয়েল হোসেন দুধা বলেন, ‘এখানে একটি চক্র রয়েছে। তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই সবাই দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন প্রশাসন সরিয়ে দিলে কিছুই করার নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নদীতীরে রাখা যাবে না। চলাচলের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।’ 

ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১ | কালের কণ্ঠ