বোরো ধান ঘরে তোলার পরপরই শুরু হয় আউশ আবাদের মৌসুম। বোরোর চেয়ে আউশে ফলন কম বলে বিগত সময়ে এ আবাদের প্রতি মনোযোগ ছিল না কৃষকের। এ কারণে সরকার আউশ চাষে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ দিয়ে থাকে।
তবে প্রণোদনার পরও ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ বিভাগে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমি। যদিও এখনো চলছে আউশের চারা রোপণ, তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ দিয়ে থাকে। প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমি চাষের জন্য দেওয়া হয় এ প্রণোদনা। বিভাগের চার জেলায় এ প্রণোদনার আওতায় রয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৬০০ জন কৃষক। সারা দেশে আউশে মোট সরকারি প্রণোদনা ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
কৃষকরা বলছেন, আউশের ফলন কম হওয়ায় তাদের আগ্রহ কম থাকে। আউশের চারা পরিণত হওয়ার অনেক সময় ভেঙে যায়। আউশ ধান কাটার সময় দেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এতে পরিণত ধান কাটতে কয়েকদিন দেরি হলে ধানে চারা গজিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ কারণে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আউশের আবাদ কম হয়।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কড়মরিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখ সাদী কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি সরকারি প্রণোদনায় এর আগে দুইবার আউশ চাষ করেছেন। তবে এবার করেননি। বোরো ধানে যেখানে প্রতিকাঠায় (১০ শতাংশ) আট থেকে ১০ মণ ধান পাওয়া যায়, আউশে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ তিন মণ। এ কারণে আউশ চাষে খরচ খুব কম হলেও কৃষক আগ্রহী হয় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদেও পূরণ হয়নি চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।
সূত্র জানায়, এ বছর ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদ করা হয়েছিল ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর জমি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৯ হাজার ৮১২ হেক্টর জমির আবাদ। এতে লক্ষ্যমাত্রর চেয়ে ফলনও কম হয়েছে। তিন লাখ ৯২ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন।
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আউশ চাষ হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়। এ জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত মোট আবাদ ১২ হাজার ১৪৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা নেত্রকোনা জেলায়। এ জেলায় লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৮৬০ হেক্টর। হাওরবিষ্টিত হওয়ায় জেলায় বর্ষাকালে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে আউশের আবাদ কম হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ময়মনসিংহ বিভাগে আউশের আবাদ হয়েছে ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এখনো চারা রোপণ চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা আক্তার বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক এখনো চারা রোপণ করতে পারেনি। তবে এখনো চারা রোপণ চলছে। আশা করা যায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।






