নড়াইলের ভোঁদড় পল্লীতে বসে একদল শিশু রংতুলি হাতে ফুটিয়ে তুলছে তাদের কল্পনার জগৎ। কারো তুলির টানে উদিত হচ্ছে লাল- সবুজের পতাকা, কেউ আঁকছে ভোঁদড় পল্লীর বাসিন্দাদের জীবন চরিত্র, কেউ ফুটিয়ে তুলছেন ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য, আবার কেউ তুলে ধরেছে সবুজ ঘেরা প্রকৃতি ও কেউ আঁকছে শাপলা। কেউবা ভাষা শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত ছবি, ছোট শিল্পীদের হাতে আঁকা ছবিতে কোনো রূপই যেন বাদ পড়ছে না।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন) বিকালে এ দৃশ্যের দেখা মেলে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ি গ্রামের ভোঁদড় পল্লীতে। ইন্টারন্যাশনাল অটার সারভাইভাল ফান্ডের সমর্থন ও সহযোগিতায় অটার ফিশিং কমিউনিটি ফাউন্ডেশন এবং এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ভোঁদড় দিবস ও সাংস্কৃতিক উৎসব -২০২৬ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠান ঘিরে ১ম দিনে শিশু কিশোর নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে উৎসবটি। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও রচনা প্রতিযোগিতা, ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রীতি প্রিয়ন্তি জানায়, ভোঁদড় পল্লীতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েছেন। জেলেরা কীভাবে মাছ ধরে সেই দৃশ্য সে এঁকেছে।
রিমি গোশ্বাল নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে এসেছি ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায়। এখানে এসে সব শিশুদের ছবি আঁকা দেখলাম। শিশুদের হাতে আঁকা প্রতিটি ছবি যেন জীবন্ত রূপ দিয়েছে। আমার মেয়ে একটি ছবি এঁকেছে৷ সে ও খুব আনন্দে উপভোগ করেছে।’
কৃষ্ণ লতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইতি রানী বিশ্বাস বলেন, ‘বিশ্ব ভোঁদড় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় আমার স্কুলের সাত জন শিক্ষার্থী নিয়ে এখানে অংশগ্রহণ করেছি। এখানে এসে শুধু ভালো লাগছে না, আমার শিক্ষার্থীরা এটি উপভোগ করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেলেমেয়েরা এসেছে। এ ধরনের উৎসব আগে কখনো হয়নি। মনে হচ্ছে খুদে শিল্পীদের একটা মিলনমেলা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিবেশ কর্মী সামছুল ইসলাম স্বপন জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো, বিপন্ন ভোঁদড় প্রজাতি সংরক্ষণ, চিত্রা নদীর দূষণরোধ, জলজ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, শতাব্দী- প্রাচীন ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচার, এসএম সুলতান আর্ট স্কুল নির্মাণে অনুমতি প্রস্তাব, ভোঁদড় পুনর্বাসন ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, টেকসই কমিউনিটি উন্নয়ন, ইকো-ট্যুরিজম, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, এই অনন্য ঐতিহ্যকে ‘ইউনিসেফ’ এর অমৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি পথে এগিয়ে নেওয়া।




