• ই-পেপার

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

শেরপুর প্রতিনিধি
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি আটক
সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের চোরাপথে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণজোড়া বিওপির টহলদল শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর থেকে তাদের আটক করে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটকরা হলেন- ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার আন্ধিরপাড়া গ্রামের আপন জলদাস (৩০), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আঠারবেকী গ্রামের নয়নতারা (২৫), চর আমানউল্লাহ গ্রামের বিজয় হরি জলদাস (৪৬), লম্বরিয়া গ্রামের সুলক্ষী (৪২) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী গ্রামের বীনা দাস (৩১)। এ ছাড়া আটকদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। 
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি মানবপাচারকারী চক্র জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শেরপুর সীমান্তের চোরাপথে তাদেরকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সুমন মিয়া, মো. সাজু, মো. আজিবর ও কালু মিয়ার সঙ্গে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে নেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। বুধবার রাতে তারা ঢাকা থেকে শেরপুরে এসে পৌঁছান। পরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৯৫-এর প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে তারা অবস্থান নেন। বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে বুধবার রাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির একটি টহলদল অভিযান চালিয়ে হারিয়াকোনা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাদের আটক করা হয়।

শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটক ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।’
 

কাগতিয়া দরবারে আশুরা মহফিল

অনলাইন ডেস্ক
কাগতিয়া দরবারে আশুরা মহফিল

কাগতিয়া আলিয়া গাউছুল আজম দরবার শরিফে শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল এ মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।

তিনি বলেন, মহররমের দশম দিন আশুরা নামে পরিচিত। এই দিনেই ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক, নির্মম ও নির্দয় ঘটনার সাক্ষী হয় পৃথিবীবাসী। প্রিয় নবী (দ.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-কে ফোরাত নদীর তীরে শহীদ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, যুগে যুগে যারাই আল্লাহ ও রসুল (দ.)-এর পথে থাকবেন তারাই বিভিন্নভাবে আঘাতের শিকার হবেন। কারবালার আদর্শ অর্জিত হয় ত্যাগ ও কোরবানির মধ্য দিয়ে।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মুনিরীয়া যুব তবলিগ কমিটির মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জালাল আহমদ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী ফয়সাল প্রমুখ।

টানা ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

অনলাইন ডেস্ক
টানা ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

পাইপলাইন স্থানান্তর কাজের জন্য আজ শুক্রবার (২৬ জুন) টানা ছয় ঘণ্টা ঢাকা জেলার কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কুতুবপুর ইউনিয়নে পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় নির্মিতব্য সেতুর পাশে গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজ চলবে।

এ জন্য আজ শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশিপুর, মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এছাড়া এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। তাই গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস।

বাবা হারানোর ৭ বছর পর মা-তিন বোন খুন, একা হয়ে গেলেন সিফাত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বাবা হারানোর ৭ বছর পর মা-তিন বোন খুন, একা হয়ে গেলেন সিফাত
সিফাত, তার মা ও তিন বোনের একসঙ্গে তোলা ছবি

১৮ বছর বয়সী জুনায়েদ ইসলাম সিফাত ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের আদরের সন্তান। তার চোখের সামনেই দরিদ্র বাবা কামাল হোসেন রাত-দিন খাটুনি খেটেছেন। ২০১৯ সালে বৃষ্টির মধ্যে হকার বাবা হাড়ি-পাতিলসহ সিলভার সামগ্রী নিয়ে গ্রামে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর মা আর বোনরাই বাবার আদরের স্থান পূরণ করেন। কষ্ট লাঘব আর নিজেদের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন সিফাত। সবমিলিয়ে ভালোই যাচ্ছিল তাদের দিনকাল।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক ঘাতক সিফাতের তিন বোনসহ মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এতে নিষ্ঠুর পৃথিবীতে সিফাতের আর কেউ নেই। এখন হাউমাউ করে কাঁদছেন সিফাত। সিফাত রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে পড়েন।

সিফাতের জন্মস্থান কুমিল্লার হোমনা হলেও বাবা জীবিকার তাগিদে ১০-১২ বছর আগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আসেন। এরপর ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সন্তানদের পড়ালেখা শিখিয়ে ভালো মানুষ করার তাগিদ নিয়ে ছুটে চলতেন বাবা। এজন্য কষ্ট হলেও স্ত্রী, তিন মেয়ে আর সিফাতের আবদার রক্ষা করতেন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে রাতদিন পরিশ্রম করতেন, এমনই জানালেন প্রতিবেশীরা।

ঘাতক তিন বোনসহ সিফাতের মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। তবে কী কারণে এ ঘটনা- তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি কেউ।

নিহতরা হলেন সিফাতের মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় বোন সায়মা আক্তার (২১), মেজো বোন ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট বোন শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারও (২৮) মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। 

সিফাতের বন্ধু ওমর ফারুক রনি বলেন, সিফাতরা ভাই-বোন সবাই খুব মেধাবী। লেখাপড়ার প্রতি তাদের অনেক আগ্রহ ছিল। বাবা হাড়খাটুঁনি পরিশ্রম করতো, শেষ তো বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছে। কুমিল্লায়ও তাদের আপন বলতে কেউ নেই। পরিবারটি এখন শেষ হয়ে গেছে।

সিফাত বলেন, আমার মা, বোনদের কী অপরাধ? কেন তাদেরকে এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে? আমি এখন কাদের নিয়ে বেঁচে থাকব? দুনিয়াতে আমার কেউ নেই বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি।

রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, সিফাত আমাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ৮ হাজার টাকা বেতনে তিনি ৭-৮ মাস আগে যোগ দেন। সকালে তিনি কাজে বাসা থেকে বের হন। সবার সহযোগিতা নিয়ে লেখাপড়াসহ পরিবারটি ভালোভাবেই চলছিল। তার পরিবারের সদস্যদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী, ভাড়াটিয়াসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীরপাড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী হকার মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক অন্ততকে গণপিটুনি দেয়।

বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়ত পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর তিনি এ ঘটনা ঘটান। রাণী নামের এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চান, তখন অন্তর বলেন তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়ত উদ্‌ঘাটন হতো না।