• ই-পেপার

পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হতে হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত শনিবার (২০ জুন) সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বল্লভপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তবে আজ বুধবার দুপুরে মামলা দায়েরের খবর প্রকাশ্যে আসে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ছাড়াও সদর দক্ষিণ এলাকা বাসিন্দা কাদের মিয়াজীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করেন। তবে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি যুবদলের কোনো স্তরেরই সদস্য নন।

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান বলেন, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কেউ নন। তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ফেইসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, ‘মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি আমরা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করব।’

মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার জানান, তিনি যুবদলেরই কর্মী এবং কুমিল্লা মহানগর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। বিএনপির সংসদ সদস্য এবং তার নেতার মানহানি হওয়ায় তিনি এই মামলাটি করেছেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর বাইরে মন্তব্য করতে চাই না।’

দামুড়হুদা

ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। 

গত ৮ জুন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ অনুমোদন দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিষদের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)-কে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি), উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং দর্শনার মো. সাহিকুল আলম অপু।

কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহবুবুর রহমান বাচ্চু। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহীন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার কমিটি অনুমোদনের চিঠি পান বলে জানান তিনি।   

এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের খবরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটির উদ্যোগে উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাঙনকবলিত তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এলজিইডি প্রতিনিধিদল

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
ভাঙনকবলিত তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এলজিইডি প্রতিনিধিদল
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের কবলে পড়া রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বুধবার (২৪ জুন)  দুপুরে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ভাস্কর কান্তি চৌধুরী, ভবন ব্যবস্থাপনা ও সেতু বাস্তবায়ন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী তাপস চক্রবর্তী উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল বাঁশের পাইলিং দিয়ে নির্মিত স্পার এবং নৌকাযোগে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা নদীর গতিপ্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন) উম্মে মাহফুজা হক, রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এলজিইডি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মূসা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী এবং উপজেলা বিএনপির নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মাবুসহ অন্যরা।

পরিদর্শন শেষে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত বিশেষজ্ঞ দলের মতামত নিয়ে তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় চলমান ভাঙন ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী বলেন, ‘গত বছর বুয়েটের এক প্রকৌশলীর পরামর্শে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং করে বাঁধ সুরক্ষার কাজ করা হয়েছিল। সীমিত ব্যয়ের এ উদ্যোগ চলতি বছরের তীব্র স্রোতের মধ্যেও বাঁধকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। তবে এবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বুয়েটের নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।’

এদিকে উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তা নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বুধবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

হাত ভেঙে ঝাড়-ফুঁকেই চলছিল চিকিৎসা

বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা গ্রুপ

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বাউলশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা গ্রুপ
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘পরাণের বান্ধব রে’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটির গাঙের নাইয়া’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী দেশবরেণ্য বাউল সাধিকা কাঙ্গালিনী সুফিয়া। ১১ দিন আগে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে তার বাঁ হাত ভেঙে যায়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে প্রতিবেশীদের ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। তবে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৪ জুন) সকালে তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়। বিকেলে তাকে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর বিলপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে কাঙ্গালিনী সুফিয়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না—এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তার সার্বিক চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ সহযোগিতার খবরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

আজ বুধবার বিকেলে নিজ বাড়িতে কথা হয় এই খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে। তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। বাথরুমে পড়ে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। রাতে জ্ঞান ফিরলে বাঁ হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং হাত নাড়াতে পারছিলেন না। ওই অবস্থাতেই রাত কাটান। পরদিন সকালে প্রতিবেশী নারী বিবি হাওয়ার কাছে গেলে তিনি ঝাড়-ফুঁক ও গাছগাছড়ার চিকিৎসা দেন।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া বলেন, ‘সেদিন ঘরে কোনো টাকাও ছিল না। পাশে ছিল না আমার একমাত্র মেয়ে পুষ্পও। তাই ঝাড়-ফুঁক আর গাছগাছড়ার চিকিৎসাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তবে গত কয়েক দিনে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছিলাম।’

তার শোবার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, একটি সাধারণ চৌকি, চারদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ছড়ানো-ছিটানো কাপড়চোপড়। দেশের অন্যতম খ্যাতিমান এই শিল্পীর জীবনযাত্রার এমন চিত্র যে কাউকেই নাড়া দেয়।

প্রতিবেশী বিবি হাওয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিন সকালে কাঙ্গালিনী সুফিয়া আমার কাছে আসেন। আমি তার হাতের অবস্থা দেখে ঝাড়-ফুঁক ও কিছু গাছগাছড়ার চিকিৎসা দিই। আমি সামান্য কবিরাজি জানি, তাই মানবিক কারণেই তাকে সাহায্য করেছি।’

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে পুষ্প জানান, দুর্ঘটনার তিন দিন পর তিনি ঢাকার সাভার থেকে মায়ের কাছে আসেন। আর্থিক সংকটের কারণে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্নজনকে জানিয়েছিলাম। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার সকালে মাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়।’

পুষ্প আরো জানান, সরকারি উদ্যোগে তার মায়ের নামে ২০ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সেখানে দুই কক্ষ, একটি বাথরুমসহ একটি টিনশেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় ‘সুফিয়া একাডেমি’র জন্য আরেকটি টিনশেড ভবন এবং বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। তবে এখনো মঞ্চের ছাদ ও বাউন্ডারি নির্মাণ হয়নি।

তিনি জানান, ‘সরকারি উদ্যোগে মা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পেতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলা একাডেমি থেকে মাঝে মাঝে কিছু সহযোগিতা পাওয়া যায়। বয়সের কারণে মা এখন আর নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারেন না। ফলে আর্থিক সংকট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মায়ের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য একজন নার্স বা সহকারী প্রয়োজন। পাশাপাশি তার রচিত প্রায় ৫০০টি গান সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা জরুরি। কারণ এখনো তিনি নতুন গান রচনা করেন।’

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্প বলেন, ‘মায়ের অসুস্থতার খবরে বসুন্ধরা গ্রুপ পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আশা করছি, এবার মা সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে প্রশাসন সব সময় রয়েছে। গত ঈদুল আজহায় তাকে ১০ হাজার টাকা এবং হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় আরো ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। বসুন্ধরা গ্রুপও তার পাশে দাঁড়িয়েছে জেনে ভালো লাগছে।’

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : 

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। তিনি ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খোকন হালদার এবং মা টুলু হালদার।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামীণ গানের আসরে তার সংগীতজীবনের সূচনা হয়। ১৫ বছর বয়সে বাউল সুধীর হালদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়, যদিও সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৮ সালে তিনি ওস্তাদ হালিম বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘সুফিয়া খাতুন’ নাম ধারণ করেন।

তার গুরুর মধ্যে ছিলেন দেবেন থাপা ও গৌর মোহন্ত। প্রিয় শিল্পী ছিলেন লালন ফকির ও আব্দুল আলীম। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তিনি ‘রাজ সিংহাসন’ চলচ্চিত্রে প্রথম কণ্ঠ দেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক কবি ফজল-এ-খোদা প্রথম তাকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলেন। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা মনোয়ার তাকে ‘কাঙ্গালিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এর পর থেকেই তিনি দেশজুড়ে ‘কাঙ্গালিনী সুফিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি ‘দেয়াল’, ‘নোনাজলের গল্প’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন। ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গান অবলম্বনে নির্মিত ‘নোনাজলের গল্প’ নাটকে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে ‘বুকের ভেতর আগুন’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি প্রায় ৩০টি জাতীয় এবং ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হতে হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ | কালের কণ্ঠ