<p style="text-align: justify;">ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর ও তারাকান্দা) আসনের বর্তমান সংসদ সংসদ্য মুহাম্মদুল্লাহ এবং নির্বাচনে পরাজিত বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের মধ্যে বিরোধের জেরে নির্বাচনী এলাকায় বাড়ছে উত্তেজনা। বিবদমান এই দুই নেতার পক্ষে ও বিপক্ষে আপত্তিকর ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনী এলাকার শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।</p> <p style="text-align: justify;">গত মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষের দিনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর উত্তেজনা আরো বেড়েছে। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) নববর্ষের অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট। ওই মিছিলে অনেককেই লাঠিসোঁটা হাতে দেখা গেছে।</p> <p style="text-align: justify;">স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ। মোতাহার হোসন তালুকদার ছাত্রদল থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন। অন্যদিকে, এলাকায় খুব বেশি পরিচিত না হয়েও জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেন মুহাম্মদুল্লাহ।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative" data-id="1673171"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="ক্ষমতায় না আসতে পেরে একদল রাস্তায় ও সংসদে পাগলামি করছে : এমপি খোকন" class="img-fluid rounded-start m-0 w-100" height="66" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/2026/04/18/1776511880-9865517f51026670c68202f016d808c8.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p class="p-1 m-0 lh-sm">ক্ষমতায় না আসতে পেরে একদল রাস্তায় ও সংসদে পাগলামি করছে : এমপি খোকন</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/04/18/1673171" target="_blank"> </a></div> </div> <p style="text-align: justify;">নির্বাচনের পর থেকেই সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ এবং মোতাহার হোসেনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মোতাহার হোসেন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেন নির্বাচন কমিশনের ট্রাইব্যুনালে। মুহাম্মদুল্লাহর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মোতাহার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তার বিরুদ্ধাচরণ করে আসছেন। মোতাহার হোসেন তালুকদারের অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে মুহাম্মদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন।</p> <p style="text-align: justify;">পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রথমবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বাংলা নববর্ষের দিন। ওইদিন তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মোতাহার ও মুহাম্মদুল্লাহর উপস্থিতি দুইজনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পর প্রতিবাদে ওইদিনই তারাকান্দা উপজেলা সদরে ১১ দলীয় জোটের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করলে মিছিলে আবারও দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন মুহাম্মদুল্লাহ এবং মোতাহার।</p> <p style="text-align: justify;">ওই সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদুল্লাহ অভিযোগ করেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে মোতাহারের লোকজনের হামলায় খেলাফত মজলিসের নেতা হেদায়তুল্লাহ জখম হন। সংবাদ সম্মেলনে হেদায়তুল্লাহর রক্তমাখা ছবিও দেখান সংসদ সদস্য। তিন ঘণ্টা পর একই প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মোতাহার হোসেন বলেন, হেদায়তুল্লাহ জখম হয়নি। তিনি মুরগি জবাই করে সে রক্ত গায়ে মেখে মিথ্যাচার করেছেন।</p> <p style="text-align: justify;">মোতাহারের বিরুদ্ধে মুহাম্মদুল্লাহর আরও অভিযোগ, মোতাহার নিজের ইচ্ছামতো তারাকান্দায় সরকারি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করে যাচ্ছেন। সরকারি ওই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনে সংসদ সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তাদেরও ডাকছেন না। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোতাহার বলেন, ওইসব উন্নয়ন কাজ তিনি তদবির করে এনেছেন। যে কারনে সেখানে সংসদ সদস্যকে ডাকা হচ্ছে না। এ ছাড়া উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যকে ডাকার আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।</p> <p style="text-align: justify;">দুই নেতার এমন পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এবং আচরণে নির্বাচনী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। দুই নেতার এমন বিরোধী আচরণের পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তাদের নিয়ে তৈরি করা বিতর্কিত ছবি। ওইসব ছবি দুজনের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।</p> <p style="text-align: justify;">তবে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীরুল ইসলাম অবশ্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই নেতার পক্ষে বা বিপক্ষে থানায় কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ছবির বিষয়টি নিয়েও কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।</p>