<p style="text-align: justify;">নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাঈমা নাজনীন নাজ। </p> <p style="text-align: justify;">শনিবার (১৮ এপ্রিল) তদন্ত কমিটির সদস্য নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। </p> <p style="text-align: justify;">এর আগে সড়কের অনিয়ম নিয়ে ‘হাতের টানে উঠে আসছে সড়কের কার্পেটি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ অনলাইন, মাল্টিমিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। </p> <p style="text-align: justify;">খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলজিইডির আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৭০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পায় মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস সেন্টু নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কার্পেটিং শুরু হলেও প্রায় ২০০ মিটার কাজের পরই সামনে আসে অনিয়মের চিত্র।</p> <p style="text-align: justify;">সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে প্রায় ৮১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারি কাগজপত্রে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন মো. মনির মিয়া নামে এক ব্যক্তি। জানতে চাইলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভালো মানের কাজ করা হয়েছে।</p> <p style="text-align: justify;">স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। সে কারণেই নতুন কার্পেটিং হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে। তারা অনিয়মের অংশ তুলে নতুন করে মানসম্মত কাজ করার দাবি জানান।</p> <p style="text-align: justify;">উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, ‘সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। তিনি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’</p> <p style="text-align: justify;">এ বিষয়ে নাঈমা নাজনীন নাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে সরেজমিন তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।</p>