নির্মাণের মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একটু টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন।
ঘটনাটি ঘটে খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করায় নির্মাণের কয়েকদিনের এ মাথায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হাতের টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। এ সময় সড়কের ওপর একটি রোলার গাড়ি দেখা গেলেও সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও তার পাশেই পুরনো একটি কালভার্ট ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, পুরনো কালভার্ট না ভেঙ্গে তার ওপর দিয়েই পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে দেওয়া পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে শুরু করলে আজ বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, রাস্তার ওপর খুবই পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে দেওয়া পিচ এখন হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) আবার ধুলাবালির ওপর পিচ দেওয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন।
সড়কের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা মো. শহিদুল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে রাস্তা, তারপর খাল। খালের পাড়ঘেঁষা অংশটা অনেক নিচু। সেখানে আজ পিচ দেওয়ার পর রোলার চালাতেই ফাটল ধরেছে। এভাবে কাজ হলে বর্ষার সময় সড়কের ওই অংশ ধসে পড়বে।’
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ একই প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার ওপরের অংশ কিছুটা উঠে যাওয়াকে অনেকেই সমস্যা ভাবছেন। কিন্তু এটি কাজের একটি ধাপ। প্রথমে লেভেলিং করা হয়, পরে সিল কোট দেওয়া হয়। এখনো আরো এক দফা পিচ দেওয়া হবে। তখন রাস্তা মজবুত হবে। মূলত ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় প্রয়োজন। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য পুরনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিটুমিন দেওয়ার পরও ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।