শেরপুরে যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আট পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার সংবাদ জানা গেছে। বুধবার (২৪ জুন) আনুমানিক রাত ৮টার দিকে শ্রীবরদী-কুরুযা সড়কের শ্রীবরদী উপজেলার ভারেরা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাইক্রোবাসে করে ডিবি’র সদস্যরা একটি অভিযানে বের হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের মধ্যে ডিবি পুলিশ সদস্য শুভ্র ও মহসিন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশের গাড়িটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন শেষে শেরপুর শহরের দিকে ফিরছিল। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তার ওপর থাকা প্রতিবন্ধকতা এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় ডিবি সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ডিবি সদস্যদের বহনকারী নোহা মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশের গর্তে উল্টে পড়লে ভেতরে থাকা আরোহীরা গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশা এবং পুলিশের গাড়িটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ডিবি রেজাউল ইসলাম খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সড়কের ওপর অপরিকল্পিতভাবে কনস্ট্রাকশন কাজের সামগ্রী স্তুপ করে রাখার কারণেই মূলত: এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে এই প্রতিবন্ধকতা চালকদের দৃষ্টিসীমা ব্যাহত করে এবং গাড়ি দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে পতিত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের সংস্কার বা নির্মাণ কাজের জন্য একপাশে খনন করা এবং কিছু অংশে নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার ওপর স্তুপ করে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া সেখানে কোনো সতর্কীকরণ চিহ্নও ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার একপাশে খনন করে রাখা ও রাস্তার ওপর এই সামগ্রী রাখার ফলে যান চলাচলের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। যে কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগেও কয়েকবার এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারীরা।




