• ই-পেপার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফাঁকা, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট, আসামির মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট, আসামির মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গৃহবধূ শাফিয়া বেগমকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের মামলায় প্রধান আসামি মো. রুবেল মিয়া ওরফে রুবেল প্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ডাকাতির অভিযোগে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. লিটন মুন্সির ছেলে। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানায়। তিনি বর্তমানে ঢাকার শাহজাদপুর খিলবাড়ীরটেক এলাকায় বসবাস করতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গীর এলাকায় নিজবাড়িতে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মামলার বাদী ফেরদৌসি বেগম মায়া। ওই সময় তার বাবা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান।

পরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে তার মা শাফিয়া বেগমের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনটি আঘাত করে হত্যা করে। এসময় তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং কানে থাকা স্বর্ণের দুল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর নিহতের মেয়ে ফেরদৌসি বেগম মায়া রূপগঞ্জ থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় প্রদান করেছেন।’

‘সবকিছু গাঙে নিয়া গেছে, শেষ ঘরডাও নিবো’

ইবাদ হোসেন, নেত্রকোনা
‘সবকিছু গাঙে নিয়া গেছে, শেষ ঘরডাও নিবো’
মগড়া নদীর ভাঙনে বসতভিটা বিলীন হয়েছে। একটি মাত্র ছোট ঘর টিকে আছে, তাও হারানো শঙ্কায় নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের গাভুরকাছ গ্রামের সুফিয়া বেগম। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

‘সবকিছু গাঙে নিয়া গেছে গা। অহন আর কিছুই করার নাই। এই যে ঘরডা আছে, পানিডা বাড়লেই এই শেষ  ঘরডাও নিবো। আমগোর জায়গা নাই, জমিন নাই। কিছু জমিন ছিল, তাও গাঙে ভাইঙ্গা নিয়া গেছে।’ 

বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন সুফিয়া বেগম। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের গাভুরকাছ গ্রামের একলাছ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া মগড়া নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছেন। পাশে একটি মাত্র ঘর বাকি আছে। দ্রুত সেটিও নদীগর্ভে চলে যাবে বলে আশঙ্কা তার। 

সুফিয়া বলেন, ‘এই চালার নিচে বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া কোনোমতে দিন পার করতেছি। অহন এইটুকুও যদি গাঙে ভাইঙ্গা নেয়, কই যামু, কী করমু-এই চিন্তাই কইরা দিন কাটে।’ 

সুফিয়া জানান, কয়েক দশক আগে বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে গাভুরকাছ গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। একসময় ছিল বসতভিটা, আবাদি জমিও ছিল। কিন্তু মগড়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে হারিয়েছেন জমি ও ঘরবাড়ির বড় অংশ। 

শুধু সুফিয়া বেগম নন, মগড়া নদীর ভাঙনে একই আতঙ্কে দিন কাটছে আটপাড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের। বর্ষা শুরু হওয়ার পর নদীর প্রবল স্রোতে গাভুরকাছ, গোয়াতলা, কালিয়াখালী, বাখরপুর ও জয়নগর এলাকায় তীব্র হয়েছে ভাঙন। স্থানীয়দের হিসাবে, এসব এলাকার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার কমবেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নদীর স্বাভাবিক স্রোতের পাশাপাশি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে দুর্বল হয়ে পড়ছে নদীর পাড়। তাই সামান্য স্রোতেই দেখা দিচ্ছে ভাঙন।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মগড়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় কোথাও কোথাও মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীপারের বসতঘরগুলো রয়েছে ঝুঁকিতে। কেউ ঘর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় অপেক্ষা করছেন।

গাভুরকাছ গ্রামের বাসিন্দা ওমর হাসান রুপন বলেন, ‘মগড়ার স্রোত দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। চোখের সামনে জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন দিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ 

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না। এমনকি জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘মগড়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মগড়া নদীর ভাঙনে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নদীপারের মানুষের মধ্যে বাড়ছে ঘর হারানোর আতঙ্ক। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, মগড়ার ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা। তা না হলে সুফিয়া বেগমদের মতো আরো অনেক পরিবারকে হারাতে হবে বসতভিটাসহ বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বর্ষায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো জরিপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জড়িতদের ড্রেজার ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে আরো কঠোর অবস্থান নেবে।

নড়াইলে শিশু বলাৎকারের মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে শিশু বলাৎকারের মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার একটি গ্রামে চার বছর বয়সী ছেলে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে মামলা হওয়ার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বাড়ি একই এলাকায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে অভিযুক্ত কিশোর প্রতিবেশী ওই শিশুকে ফুসলিয়ে এলাকার একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বলাৎকার করে। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায় ওই শিশু।

ভুক্তভোগী শিশু জানায়, এর আগেও অভিযুক্ত কয়েক বার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে শনিবার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় বলাৎকারের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, গ্রেপ্তার কিশোরকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বুড়িচংয়ে কোল্ড স্টোরেজে ইয়াবা সেবন, ৫ যুবকের কারাদণ্ড

বুড়িচং -ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচংয়ে কোল্ড স্টোরেজে ইয়াবা সেবন, ৫ যুবকের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি কোল্ড স্টোরেজে বসে ইয়াবা সেবনের সময় পাঁচ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার আল হেলাল কোল্ড স্টোরেজে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন।

জানা গেছে, কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কয়েকজন যুবক ইয়াবা সেবন ও বিক্রয় করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং থানার অধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সুরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৫১ পিস ইয়াবাসহ পাঁচ যুবককে আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রাকিব (২৮), সমেশপুর এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (২৯), জালালপুর এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে সৈকত আহমদ ইমন (২৫), শরিফপুর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসান শান্ত (২৭) এবং জালালপুর এলাকার মো. মানিকের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৮)।

পুলিশ জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত ও ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফাঁকা, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ | কালের কণ্ঠ