• ই-পেপার

খোয়াই নদীতে নিখোঁজের ২ দিন পর দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার

‘সারাডা শহরে দুর্গন্ধ, নাক চাইপ্পা চলন লাগে’

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
‘সারাডা শহরে দুর্গন্ধ, নাক চাইপ্পা চলন লাগে’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় সড়কের পাশ ময়লার স্তূপ। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সংগৃহীত

হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে হঠাৎই নাক চেপে ধরলেন রিকশাচালক হারুণ মিয়া। কথা বলতে থাকা হঠাৎ চুপ। প্রায় এক শ গজ যাওয়ার পর বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে। খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কথা বলছিলেন হারুণ মিয়া। পৌর এলাকার মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস জানান তার অভিজ্ঞতার কথা। বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনও কখনও আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

সম্প্রতি সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ যেভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ চোখে পড়বেই। এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা দায়।

সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এলে ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায়। রেলপথে এলে স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে ডানদিকে চোখে পড়ে একাধিক ময়লার স্তূপ। আর নৌপথে গোকর্ণঘাটে এসে নামলে তো রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যা সরিয়ে নিতে এলাকাবাসী মানবন্ধন করলেও তাতে কোনো ফল মেলেনি। 

বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে থাকা ময়লা-আবর্জনা মানুষকে আরো বেশি অস্বস্থিতে ফেলছে। সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ বলে দেয় পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থার কথা। 

শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই ডাস্টবিন। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার যে প্রক্রিয়া, তা অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে দিয়ে রাখা ডাস্টবিনে বাসিন্দারা ময়লা ফেলেন। আবার কোথাও কেউ  ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এভাবে শহরের শতাধিক স্থান ময়লা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 

নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিশ্বাসও ফেলা যায় না।  শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনও বলেন লেবার সংকট, কখনও বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে দুর্বিসহ অবস্থায় রয়েছে শহরের মানুষ। সড়কের পাশে ফেলা রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হচ্ছে।’ 

সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান শামীম আহমেদ। 

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু এলাকার ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর-গোপালগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর-গোপালগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ, লালমিয়া সিটি কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন।

পরে সেখান তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিতে লেখা প্লাকার্ড প্রদর্শন করে।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো অনেকের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্য তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। 

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় গ্যাস পাম্পে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ, লক্ষ্মীপুর ভিক্টোরি কলেজ, অক্সপোর্ড কলেজের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা। 

ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহে দলিল লেখক জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৩০ হাজার টাকা করে এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এহসানুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফরিদ খলিফা ও মাসুদ মিয়া। মাসুদ মিয়া পলাতক রয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আব্দুল মতিন, আব্দুস সামাদ, মোশারফ হোসেন মোসা, মোফাজ্জল হোসেন মোসা, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, নাজমুল মিয়া,  মোখলেছুর রহমান, শাহজাহান আকন্দ, আতিকুল ইসলাম ও সিদ্দিক মিয়া।
যাব্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সিদ্দিক মিয়া পালাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী গ্রামের দলিল লেখক জাকারিয়াকে লাঠিসোঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে আসামিরা। এ ঘটনায় ভালুকা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

১৬ জুলাইকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বিজিবি মোতায়েন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ জুলাইকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বিজিবি মোতায়েন
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিগত বছরের ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিন সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও নজরদারি চালাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘বিগত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এবছর কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।’

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এতে সভাস্থল থেকে শহরের বাজার এলাকা হয়ে পাচুড়িয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

নিহতরা হলেন- জেলা শহরের উদয়ন রোড এলাকার সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা, থানাপাড়া এলাকার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী, সদর উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার, বেদগ্রামের রমজান মুন্সী এবং সোহেল রানা।

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। অপরদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের বাগেরহাটের প্রবেশদ্বার মোল্লারহাট সেতু পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউও ঘোষণা করা হয়।