• ই-পেপার

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ

ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় মিলেছে

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় মিলেছে
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। তার নাম শিউলী খাতুন (৩২)। তিনি সোনামুখী ইউনিয়নের চরকাদহ গ্রামের চান মিয়ার মেয়ে। কয়েকবছর আগে গাইবান্ধা জেলায় তার বিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

কাজিপুর থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিরাজগঞ্জের সিআইডির একটি টিম মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত অফিসার সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশের এসআই নুরুল হুদা জানান, মরদেহের হাতের ছাপ সংগ্রহ করে সিআইডি তার পরিচয় সনাক্ত করেছে। মুত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

এর আগে, বুধবার দুপুরে কাজিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলার কৃষ্ণগোবিন্দপুর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ।

ময়মনসিংহ

ব্রহ্মপুত্র খননের সুফল নিয়ে সংশয় বাড়ছে

বৈশাখ মাসে হাঁটুজলও থাকে না খননের পরও চর জাগছে নদে

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
ব্রহ্মপুত্র খননের সুফল নিয়ে সংশয় বাড়ছে
ময়মনসিংহ নগরের জেলখানার ঘাট এলাকার ব্রহ্মপুত্রে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের কথা। ময়মনসিংহের কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী যান নগরের জেলখানার ঘাট এলাকায়। উদ্দেশ্য, ব্রহ্মপুত্রপাড়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা নির্ধারণ। 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি করা হবে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে। অনুষ্ঠানের নাম ‘বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে’। নববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে ব্রহ্মপুত্র নদ মরে যাওয়ার জন্য আক্ষেপও করা হবে।

সংস্কৃতিকর্মীরা চলে যাওয়ার পর জেলখানার ঘাট এলাকায় যতদূর চোখ যায়, ব্রহ্মপুত্রের অনেক জায়গায় হাঁটু পরিমাণ পানিও নেই। অনেক জায়গায় চর পড়েছে। কসরত করে এদিক ওদিক ঘুরছে খেয়া নৌকা।

এদিকে, ছয় বছর ধরে ময়মনসিংহে চলছে ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজ। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদে শুকনো মৌসুমেও যেন নৌযান চলাচলের উপযোগী পানি থাকে। কিন্তু ছয় বছরেও সে উদ্দেশ্য পুরণ হয়নি। নৌযান চলাচলের উপযোগী হওয়ার বদলে শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদে হাঁটু পানিও থাকে না। অনেকে তখন পায়ে হেঁটে ব্রহ্মপুত্র পার হন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এ খনন কাজ করাচ্ছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। প্রকল্প অনুযায়ী ৯০ মিটার প্রস্থে ১০ ফুট গভীরতায়  খনন করা হবে, যাতে ওই অংশে বর্ষাকাল ছাড়াও সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী পানি থাকে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্প ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্রহ্মপুত্রে সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী পানি না থাকায় মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। এর পরও উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। 

প্রকল্প অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার  টোক এলাকা থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর হয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পর্যন্ত মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশে হবে এ খনন কাজ। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।

খনন কাজ ছয় বছর ধরে চললেও এ প্রকল্পে সুফল পাওয়া নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে আসছেন ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মীসহ নাগরিক সমাজের মানুষ। বিভিন্ন সময় তারা খনন কাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সভা-সেমিনার এমনকি রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। সংস্কৃতিকর্মী নদের চরে কর্মসূচি পালন করছেন। 

তাদের ভাষ্য, শুরু থেকেই এ খনন কাজ অপরিকল্পিতভাবে চলছে। খননের বালু নদীর পাড়েই রাখা হচ্ছে। ওই বালু নিলামে বিক্রি করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নিলাম হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ওই সময়ের মধ্যে স্তূপ করে রাখা বালু আবারও বৃষ্টির পানিতে ভেসে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে খননের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

‘ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন’ নামের নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজ শুরু হয়েছে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই। এত বড় একটি প্রকল্প শুরু করার আগে উচিৎ ছিল বিজ্ঞানসম্মতভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা। নদীর তলদেশের অবস্থা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ যাচাই করে দেখা। কিন্তু এসবের কোনো কিছু না করেই খনন শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বোঝা গেছে এই খনন  কোনো সুফল বয়ে আনবে না। আমি বহুবার বলেছি, এ খনন মূলত ব্রহ্মপুত্রকে আরো মেরে ফেলার শামিল।

ময়মনসিংহের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালের শুরুতে জেলায় শুরু হয় ব্রহ্মপুত্র খনন। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে খনন হওয়া ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালাসংলগ্ন ও কাচারি ঘাট এলাকায় অসংখ্য চর জাগে। 

চর দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌকার মাঝিরা জানান, খনন কাজ শুরুর আগে কখনো এমন চর জাগতে দেখেননি তারা। সরকারের টাকা ব্যয়ে খনন কাজের পরও নদীতে চর জেগে ‍উঠলে ময়মনসিংহের একটি নাট্য সংগঠন ওই চরে প্রতিবাদী নাটক মঞ্চস্থ করে। আরো একটি সংগঠন নদের চরে ‘মৃতের চিৎকার’ নামে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে। ওই দুটি ঘটনাই ব্যপক সাড়া ফেলে। প্রশ্ন ওঠে ব্রহ্মপুত্র খনন নিয়ে। 

পরে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর খনন প্রকল্পের তখনকার পরিচালক রাকিবুল ইসলাম তালুকদার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চর জাগার কারণ ব্যাখ্যা করেন। পরিচালক বলেছিলেন, পলি জমে প্রাকৃতিক কারণেই চর জেগেছে। খনন কাজ কয়েক বছর চললে চর জাগবে না। 

তবে সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে অসংখ্য চর জেগেছে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এসব চর জাগে বলে জানায় স্থানীয়রা। 

ব্রহ্মপুত্র নদ খনের দায়িত্বে থাকা বিআইডাব্লিউটিএ’র একজন প্রকৌশলী কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপের সময় জানান, নানা কারণেই ব্রহ্মপুত্র খনন কাজের সুফল পাওয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। 

প্রথমত, ব্রহ্মপুত্র নদের উৎসমুখ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা নদীর সঙ্গে সংযোগস্থল। মূলত ব্রহ্মপুত্র নদে পানি ওই উৎস নিয়ে প্রবেশ করে। তবে প্রাকৃতিক কারণে সংযোগস্থলটি বছরের আট মাসই শুকনো থাকে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্রে পানি ঢুকতে  পারে না। ওই অংশে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করে বিআইডাব্লিউটিএ খনন কাজ করতে পারেনি স্থানীয়দের বাধার কারণে। মানুষের ফসলি জমি থাকায় তারা ব্রহ্মপুত্র খনন করতে দেয় না। 

শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ব্রহ্মপুত্র খননের কাজ শুরু হয়েছে। 

এছাড়া আরো একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, খননের মাটি ব্যবস্থাপনা। খননের আগে পরিকল্পনা ছিল নদের পাড়েই রাখা হবে মাটি। পরে তা নিলামে বিক্রি করা হবে। তবে সব এলাকায় খাস জমি না পাওয়ায় মাটি রাখতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আবার বিভিন্ন জায়গায় মাটি রাখার পর তা বৃষ্টিতে আবারও নদীর পানিতে মিশে গিয়ে ভরাট হচ্ছে খনন হওয়া ব্রহ্মপুত্র। এছাড়া খনন শুরুর পর থেকে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশে পানির স্তর অন্তত দেড় ফুর নিচে নেমে গেছে।

ব্রহ্মপুত্র খননের ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বে থাকা বিআইডাব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহসীন কালের কণ্ঠকে বলেন, শুরু থেকেই আমরা অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এ কারণে এখনো খননের আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গ্রাম এলাকার কৃষক খননের সুফল পাচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। আবার নৌযান চলতেও দেখা গেছে ব্রহ্মপুত্রে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভরাটপ্রবণ একটি নদী। একদিকে খনন হলে অন্যদিকে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা কাটাতে একসঙ্গে যতগুলো ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করা প্রয়োজন, ততগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আশার কথা হচ্ছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সংযোগস্থলে খনন কাজ চলছে। এটি অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে। 

আলফাডাঙ্গা

ভোররাতে বাজারে আগুন, নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল নসিমনচালকের

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ভোররাতে বাজারে আগুন, নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল নসিমনচালকের
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ভেন্নাতলা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচজন। অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মিভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোররাত চারটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহতের নাম বাবুল মোল্যা। তিনি পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি একজন নসিমন চালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে আসে। সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে থাকেন। এসময় বাবুল মোল্যাও (৩৫) সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। হঠাৎ একটি দোকানের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বাবুল মোল্যা, আল-আমিন, আকিদুল, জাহাঙ্গীর হোসেন, হোসাইন বিশ্বাসসহ কয়েকজন আহত হন। বাবুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে পুড়ে যায় নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, হাবিব মোল্যার সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির হোসেনের কাপড়ের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসার পুঁজি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে দোকান পুড়ে মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। আগুন নেভানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন নসিমন চালক নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে জানানো হবে।’

কেন্দুয়ায় বজ্রাঘাতে ২ যুবকের মৃত্যু

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় বজ্রাঘাতে ২ যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পৃথকস্থানে বজ্রাঘাতে সামছুল হুদা (৩৫) ও আশরাফুল আলম (৩০) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দুয়ার ডাউকি এবং মাসকা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সামছুল হুদা উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী পশ্চিম পাড়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে এবং আশরাফুল আলম সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। দুজনের মধ্যে আশরাফুলের মানসিক সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় বাড়ির পাশের মরাপুড়ি ডোবায় বরশি দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মরাপুড়ি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। 

অন্যদিকে নিহত সামছুল হুদা ভোর ৬টার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশে মুড়িয়া বিলে মাছ ধরার জন্য গেলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘসময় বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকেরা খুঁজতে গিয়ে হাওরে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ বলেন, ‘উপজেলার দুই যুবক বজ্রপাতে নিহতের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কেউ আমাদের অবহিত করেনি। অবহিত করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।