• ই-পেপার

কু‌ড়িগ্রা‌মে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশি যুবককে হস্তান্তর

পটুয়াখালীতে বিপুল ইয়াবা-নগদ অর্থসহ আটক ১

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে বিপুল ইয়াবা-নগদ অর্থসহ আটক ১
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাত হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, নগদ অর্থ এবং এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে লেবুখালী টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী একটি সন্দেহভাজন যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় বাসে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ৪ হাজার ৪৫ টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলকে ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদক চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহের চেষ্টা করে আসছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নে এই ইয়াবার চালান পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযাজব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জব্দ মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পটুয়াখালীর অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে ঠেলে দিল বিএসএফ

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে ঠেলে দিল বিএসএফ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে ৬ নারী ও ১ শিশুকে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৪টার দিকে আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তাদেরকে ঠেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন ভোরে দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে এক শিশুসহ ৭ নারী বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা জানান, ভারতের একটি কারাগারে তারা প্রায় ২৫ দিন আটক ছিলেন। আজ ভোরে চোখবেঁধে তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ।

জহির আহমেদ নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আমি নিজে তাদেরকে আটক করে আমাদের মেম্বার ও কমলগঞ্জ থানায় জানাই। কিন্তু থানা থেকে আমাকে বলা হয়, তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিতে। পরে মেম্বার এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে দেই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোরে ব্রাজিলের খেলা ছিল। সবাই দোকানে বসে খেলা দেখছিলেন। এ সময় আনসার সদস্যও ছিলেন। তখন হঠাৎ স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে তারা আমাকে জানালে আমি সেখানে দ্রুত পৌঁছাই। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তবে একেকজন একেক রকম বলে, কারো বাড়ি, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার—এভাবে তাদের ঠিকানা জানায়। পরে আমি তাদের রেখে চা খেতে আসলে স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেন। তারা একটি অটোরিকশাযোগে চলে আসে।’

প্রতিবেদক ইউপি সদস্যকে প্রশ্ন করেন টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো দোকানে চা খাইতে আসছি, যারা ছিল তাদের পাশে তারা হয়তো টাকা-পয়সা খেয়ে ছেড়ে দিতে পারে।’

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু জানান, বিষয়টি তিনি জানার আগেই স্থানীয়রা তাদেরকে ছেড়ে দেয়। পুশইনের শিকার নারীরা সবাই বাংলাদেশি এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভারে বলে জানা গেছে।

কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে দুই-আড়াই বছরের এক শিশুসহ ৭ নারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে সংবাদ পাই। তবে পুলিশ খোঁজ নেওয়ার আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আটকের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানানো হলে হয়তো আমরা তাদের আটক করতে পারতাম’।

এদিকে, এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদের মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোন ধরেননি।

আসামি হয়ে আত্মগোপনে, অসুস্থতার সনদে যোগদানের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
আসামি হয়ে আত্মগোপনে, অসুস্থতার সনদে যোগদানের চেষ্টা
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

হত্যা চেষ্টা মামলায় আসামি হয়ে প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আলোচিত কোষাধ্যক্ষ  ইমরান মেহেদী হাসান। আত্মগোপন থেকে ফিরে সম্প্রতি তিনি আবারো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি অসুস্থতার সনদও যোগাড় করেছেন বলে জানা গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত সোমবার (২২ জুন)  কর্মস্থলে যান ইমরান। তবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অসুস্থতার কাগজপত্র যাচাই করে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমরান মেহেদী নানা কারণে বিতর্কিত ও আলোচিত। ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে মাগুরায় বদলি হন তিনি। তবে আবারো ময়মনসিংহে ফিরতে মরিয়া ওঠেন। এ জন্য আশ্রয় নেন প্রতারণার। তখনকার  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার স্বাক্ষর জাল করে নিজের বদলি আবেদনে সুপারিশ হাজির করেন। 

ওই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে কারাগারে ছিলেন ইমরান। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো ময়মনসিংহে ফেরার চেষ্টা করতে থাকেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবারো বদলির আদেশ করান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আদেশ করানোর পরও ইমরানের প্রতাণার মামলা থাকায় যোগদান করাতে আপত্তি করেন ওই সময়ের সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান। পরে ছাইফুল বদলি হলে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্ব নেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ফয়সাল আহমেদ যোগাদানের দিনই ইমরান আবারো যোগ দেন  ময়মনসিংহে।

এ নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়কে পোস্টার সাঁটানো হয়, যাতে দাবি করা হয় ইমরান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ফের ময়মনসিংহে যোগ দেন। তবে কালের কণ্ঠের  কাছে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ ও ইমরান। 

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মীর অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৩০ এপ্রিল একজন সংবাদকর্মীকে মারধর করেন ইমরান মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়। মামলার পর থেকে ইমরান মেহেদী হাসান ছুটি ছাড়াই প্রায় তিন মাস পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকার সময় তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। 

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিতির কারণে ইমরানের বেতন বন্ধ করে দেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। প্রায় তিন মাস পর গত সোমবার (২২ জুন) আবারো কার্যালয়ে যান ইমরান। এ সময় অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসকের সনদ দেখান। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইমরান মেহেদী হাসান বলেন, মামলার আসামি হওয়ার জন্য নয়, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে কাজে অনুপস্থিত ছিলাম। অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছি। তবে আজ (২৪ মে) পর্যন্ত আমার যোগদান গ্রহণ করেননি সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত)।’ মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে ইমরান বলেন, ‘একটি মামলা হয়েছিল। তবে সেটি বাদীর সঙ্গে মধ্যস্থতা হয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইরমানের মামলাটি বাদী তুলে নিয়েছেন বলে আমাদের হাতে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি জামিন পাওয়ার কোনো কাগজ আমাদের হাতে আসেনি। তবে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ইমরান একটি মামলার আসামি। তবে মামলার বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো  মন্তব্য করতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান কাজে অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি কাজে যোগ দিতে চাইছেন। বলছেন অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ আটক যুবক

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ আটক যুবক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ায় একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ ফরিদ হোসেন নামে এক যুবককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কাবিল মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আটক হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের নদীরকুল মাঠপাড়া এলাকার মৃত বুড়ো মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে কাবিল মোড় এলাকায় তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয়দের দাবি, ফরিদ কথিত শিপন বাহিনী’র একজন সক্রিয় সদস্য। তার কাছে আরো অস্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। এ বিষয়ে তদন্ত করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক ব্যক্তিকে পিটুনির কারণে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’