• ই-পেপার

নগরকান্দায় সহিংসতার পরিকল্পনা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩২

ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে কুয়েতপ্রবাসীর আত্মহত্যা

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে কুয়েতপ্রবাসীর আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে স্ত্রী স্বামীর দূর সম্পর্কের ভাগনেকে পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক কুয়েতপ্রবাসীর আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আনোয়ার উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের কেরামত আলী বেপারী বাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার প্রায় নয় বছর ধরে কুয়েতে কাজ করতেন। প্রবাসে থাকাকালে তিনি স্ত্রী আকলিমা আক্তারের কাছে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে স্ত্রী তার নামে জমিও কিনেন। প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার (৩৪) স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ওই যুবককে বিয়ে করেন। কাকতালীয়ভাবে ওই যুবকের নামও আনোয়ার। দশ দিন আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন প্রবাসী আনোয়ার। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তিনি চেয়েছিলেন দুই ছেলের দিকে তাকিয়ে তাকে পুনরায় নিয়ে আসতে। তবে একপর্যায়ে আকলিমা তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। 

নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার আকলিমা তার স্বামীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অভিমান ও ক্ষোভ থেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার জন্য আকলিমাকে দায়ী করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঢাকা থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। আকাশপথে সিলেট পৌঁছানোর পর দুপুর ১টার দিকে তিনি বাসযোগে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান। তিনি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের মঞ্চে পৌঁছানোর পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠান শেষে দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এরপর বিকেলে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সেখানে বিশ্রাম নিয়ে ফের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একটি সভায় যোগ দেবেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হবেন তিনি।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে ভোটের প্রচারে মৌলভীবাজারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনে জয়লাভ ও সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম মৌলভীবাজার এলেন তিনি।

তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক
তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জে শাহাদাত হোসেন শ্যামল (২০) নামের এক যুবকের পায়ে পুলিশের গুলি করার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৭ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেনো দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৯ সালে মুন্সীগঞ্জের কামারকান্দা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে শাহাদাত হোসেনকে গুলি করা হয়। সে সময় শ্যামল এবং সঙ্গে থাকা তার বন্ধুরা অভিযোগ করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্যামলের পায়ে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনার দিন প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পর দিন শ্যামলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
 
ওই বছরের ৪ এপ্রিল শ্যামল ছাড়া মামলার অন্য ৫ আসামি আদালত থেকে জামিনে বের হন।

রামগতি

যেখানে সড়ক ছিল, সেখানে এখন খাল

দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয়দের

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
যেখানে সড়ক ছিল, সেখানে এখন খাল
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খালেক সড়কের এক কিলোমিটার অংশ খালে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

গ্রামীণ সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছিল প্রায় ৩০ বছর ধরে। একপর্যায়ে এর গায়ের ওপর হানা দেয় মেঘনার জল। জোয়ারের সময় পানির তোড়ে ভাঙতে শুরু করে। সড়কের মাটি চলে যেতে থাকে স্রোতের সঙ্গে। একসময় সড়কটি পরিণত হয় খালে। 

পথটির নাম খালেক সড়ক। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এ সড়কের এক কিলোমিটার অংশ এখন খাল। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। 
 
এদিকে, স্থানীয়দের দুর্ভোগের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে কালিরখালের পাশ দিয়ে মাটি ফেলে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সংযোগ করা হয় আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে। পরে এটি কাঁচা সড়ক হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের  তালিকাভুক্ত হয়। ২০২০ সালের দিকে সড়কের পাশে খাল খনন করার পর তাতে নদীর পানি ঢোকে। 

ওই বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর তত্ত্বাবধানে সড়কটি রক্ষায় গাছ ও টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঠেক দেওয়া হয়। কিন্তু পানির স্রোতে সেটিও ভেঙে যায়। এরপর মেরামত বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ধীরে ধীরে সড়কটি ভেঙে খালে পরিণত হয়।

স্থানীয়রা জানায়, আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের নবীউল মিয়ার মসজিদ থেকে আলী মিয়া ফরাজী বাড়ির দরজা পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। অথচ এ সড়ক দিয়ে  প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ রামগতি উপজেলা সদর,  আলেকজান্ডার, রামদয়াল বাজার, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করতো। সড়ক না থাকায় এখন পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে তাদেরকে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, সড়কটি চরআলগী ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী এবং মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিসহ এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোজিনা আক্তার ও আকলিমা বেগম নামের দুই স্কুলছাত্রী জানায়, সড়ক না থাকায় তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব আহমেদ বলেন, ‘কেউ দেখলে বলবে এটি রাস্তা নয়, বরং খাল। অথচ বাস্তবে এটি ব্যস্ততম একটি গ্রামীণ সড়ক। সড়কটি খালে পরিণত হওয়ায় এখন এলাকাবাসীর কষ্টের শেষ নেই।’ দ্রুত সড়কটির  মেরামত চান তিনি।

চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শফিক উদ্দিন বলেন, ‘মেঘনার জোয়ারের আঘাতে সড়কটি ভেঙে গেছে। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি, অন্তত একটি প্রকল্প দিয়ে হলেও সড়কটি সাময়িক  মেরামত করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে। পর্যায়ক্রমে এটি গাইডওয়াল দিয়ে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুহুল আমিন বলেন, সড়কটির করুণ অবস্থা স্বচক্ষে দেখলাম। খুব দ্রুত এটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে রাস্তা ভেঙে খাল হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত এটি মেরামত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। পরে এটি পাকা করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।