• ই-পেপার

পঞ্চগড়

জ্বালানি তেল পাচার রোধে বাংলাবান্ধায় বিজিবির নজরদারি

হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
হাঁস নিয়ে দ্বন্দ্বের মর্মান্তিক পরিণতি: নাতির আঘাতে নানির মৃত্যু
ইয়ারুন নেসা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় হাঁস নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির লাথিতে আহত হয়ে ইয়ারুন নেসা (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রূপচান মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়ারুন নেসা ও তার নাতি মো. মেহেদী হাসানের পরিবারের পৃথক দুটি হাঁস ছিল। একপর্যায়ে নাতি তার হাঁস খুঁজে না পেয়ে দাদির হাঁসটিকে নিজের দাবি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কের এক পর্যায়ে ইয়ারুন নেসা হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করেন। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে মেহেদী হাসান নানিকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়ারুন নেসা পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের রূপচান মাঝির স্ত্রী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান বলেন, দুটি পরিবারের হাঁস নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের বড় ছেলে সোহরাব মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার মায়ের এমন পরিণতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামের এক অস্ত্র মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিব বৈকালী এলাকার জাকির শেখের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত প্রায় ১টার দিকে বৈকালী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আহাদুজ্জামান জানান, রাকিব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে দেড় থেকে দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। ওই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রাকিবের বাবা জাকির শেখ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

একই বছরের ৩ অক্টোবর যৌথবাহিনী জাকির শেখকে আটক করে। পরে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির শেখ বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভোলা প্রতিনিধি
বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. লাবিব মাহমুদ খান

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মো. লাবিব মাহমুদ খান (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত লাবিব চরফ্যাশন সরকারি  ট্যাফনাল ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চরফ্যাশন আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিহাব মাহমুদের ছেলে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চরফ্যাশন পৌর শহরের ডাকবাংলোর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিদ্যালয় মাঠে ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে খেলা চালাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী পাশের ডাকবাংলোর পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় লাবিবও তাদের সঙ্গে পানিতে নামে। 
একপর্যায়ে পুকুরের মধ্যে তাকে আর খুঁজে না পেয়ে সহপাঠীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমকে জানায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস খবর দিলে তারা এসে পুকুর থেকে লাবিবকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াজ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই লাবিবের মৃত্যু হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘লাবিব আমাদের নবম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন অকালমৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০ লাখ টাকার আশ্বাসে কিডনি বিক্রি, মিলল মাত্র ৫০ হাজার; আদালতে মামলা

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
১০ লাখ টাকার আশ্বাসে কিডনি বিক্রি, মিলল মাত্র ৫০ হাজার; আদালতে মামলা
ছবি : এআই দিয়ে প্রস্তুত করা

ঋণের বোঝা আর দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে এক দিনমজুরকে বিদেশে নিয়ে কিডনি অপসারণের পর প্রতিশ্রুত অর্থ না দেওয়ার অভিযোগে জয়পুরহাটে একটি মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি কিডনির পরিবর্তে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও হাতে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও বাকি পাওনা না পেয়ে সম্প্রতি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ওই ব্যক্তি।

মামলার বাদী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক দিনমজুর মন্টু মিয়া। গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি আদালত-৫-এ তিনি মামলার আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে পরদিন ১৪ জুন মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা (খাঁপাড়া) গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, একই ইউনিয়নের লওনা (বহুতি) গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।

এজাহারে মন্টু মিয়া উল্লেখ করেন, সংসারের অভাব-অনটন মেটাতে তিনি বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেয়। তাকে জানানো হয়, ঢাকার এক নারী কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে তার জন্য একটি কিডনি প্রয়োজন। বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

মন্টু মিয়ার অভিযোগ, প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর অভিযুক্তরা তার পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেয়। এরপর তাকে ভারত হয়ে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন চিকিৎসা দিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও প্রতিশ্রুত বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর দেওয়া হয়নি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও অভিযুক্তরা অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন।

মন্টু মিয়ার পরিবারের দাবি, কিডনি অপসারণের পর থেকে তিনি আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, মানুষের দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটকে পুঁজি করে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে কিডনি অপসারণ করা হয়ে থাকলে এটি অত্যন্ত গুরুতর ও ঘৃণিত অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত।

জ্বালানি তেল পাচার রোধে বাংলাবান্ধায় বিজিবির নজরদারি | কালের কণ্ঠ