• ই-পেপার

মেহেরপুর

তেল মজুদের চেষ্টায় পাম্পে ক্রেতাদের ভিড়

ফরিদপুরে ২৬ লাখ টাকার স্কাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ২৬ লাখ টাকার স্কাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে র‌্যাব-১০-এর অভিযানে প্রায় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ মো. রানা গাজী নামে এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ফরিদপুর র‌্যাব-১০ সিপিসি-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রানা গাজী (৩২) সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দেবহাটা থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব ক্যাম্প জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

র‌্যাবের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন। 

র‌্যাব জানায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফরিদপুর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের অন্যতম সংযোগস্থল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা প্রায়ই এই রুট ব্যবহার করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপও উদ্ধার হচ্ছে।

মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, মাদক সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ বিষফোঁড়া। এটি আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো জানান, সাধারণ মানুষের কাছে মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে র‌্যাবকে জানাতে হবে। একটি তথ্য অনেক সময় একটি পরিবার বা একটি জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ, জব্দকৃত প্রাইভেটকার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি : বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই

অনলাইন ডেস্ক
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি : বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে কোটি কোটি টাকার পাশাপাশি প্রতি বারই মনোবাসনা পূরণের আশায় লেখা নামে-বেনামে অসংখ্য চিঠি পাওয়া যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার পাওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী একটি চিঠিতে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এক ফুটবলপ্রেমী।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় প্রায় ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। দানবাক্সগুলো থেকে এবার রেকর্ড পরিমাণ ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। পরে সেগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এনে গণনার কাজ শুরু হয়। গণনার সময় টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেখা অসংখ্য চিঠিও পাওয়া যায়।

এসব চিঠির মধ্যে একটি চিঠিতে একজন নিজেকে একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মহান আল্লাহর কাছে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি এবং ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

চিঠিতে লেখা ছিল, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। হে আল্লাহ, আপনি সর্বশক্তিমান। আপনার কাছে আমার একটি প্রিয় স্বপ্নের কথা জানাচ্ছি। আমি চাই ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আমার প্রিয় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করুক। লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড়ুক। হে আল্লাহ, আমাদের দেশের ফুটবলের উন্নতি করুন, খেলোয়াড়দের সফলতা দান করুন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরার তাওফিক দিন। আমিন।

— একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী।’

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রতিবছরই অর্থের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা অসংখ্য চিঠি পাওয়া যায়। তবে দেশের ফুটবলকে বিশ্বকাপে দেখার এমন আবেগঘন আবেদন এবার সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

লালমনিরহাটে আসামির দায়ের কোপে দুই পুলিশ অফিসার আহত

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে আসামির দায়ের কোপে দুই পুলিশ অফিসার আহত
সংগৃহীত ছবি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির দায়ের কোপে দুই পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ অফিসাররা হলেন হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল লতিফ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার  গেন্দুকুড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে  রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাশেদ চোরের বিরুদ্ধে চুরিসহ নানা অপরাধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালান এসআই রুহুল আমিন ও এএসআই আব্দুল লতিফ। এ সময় আসামি  রাশেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার এড়াতে দুই পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে দেশি ধারালো দা দিয়ে বেশ কয়েকটি এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যান। এতে এসআই রুহুল আমীনের হাতের কব্জিসহ শরীরের একাধিক স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। একই ভাবে আঘাত পান এএসআই আব্দুল লতিফ।

খবর পেয়ে থানার অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসআই রুহুল আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্বঙ্কামুক্ত না হওয়ায় অস্ত্রোপাচার করতে সেখান থেকে শনিবার সকালে তাকে বেসরকারি হাসপাতাল রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডক্টরস ক্লিনিক) ভর্তি করা হয়।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামির হামলায় দুজন অফিসার আহত হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রুহুলকে রংপুর ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে অপারেশন করতে। তাদের চিকিৎসার খোজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বশত্রুতার জেরে কুমিল্লায় বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
পূর্বশত্রুতার জেরে কুমিল্লায় বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফেসবুকের পোস্ট শেয়ার দেওয়া ও পূর্ব শত্রুতার জেরে মেহেদী হাসান আশিক মোল্লার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল কাদের চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।  

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জুগিরকান্দি প্রবাসী মেহেদী হাসান আশিকের মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মামলার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইন। 

অভিযুক্তরা হলেন– উপজেলা কাশিনগর ইউনিয়ন জুগিরকান্দি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৈহিদুল ইসলামের ছেলে শাহ মিজান (৪৫), শাহ জামাল (৪০), ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), সুলতান আহমেদের ছেলে মনির হোসেন (৩০), আলী রাজার ছেলে কামাল হোসেন (৪০), মোহন মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন মেম্বার (৪৭), মৃত নুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৭), মৃত আবদুল জলিলের ছেলে মো. তারেক (৩০), আবদুল কাদেরের ছেলে মো. মহোসিন (২৮), মৃত আবদুল মমিনের ছেলে মাছুমসহ (৩৫) অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আবদুল কাদের অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিযুক্তরাসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের বাহিরে থাকা দরজা, থাই গ্লাসের জানালা ভাংচুর করেন এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের কয়েক সদস্যকে মারধর করা হয়।’ 

আবদুল কাদেরের ছেলে নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার ভাই মেহেদী হাসান আশিক প্রবাসে থাকে। ফেসবুকের একটা ফেক আইডিতে আমার ভাইকে নিয়ে মিথ্যা বানোয়াডট তথ্য পোস্ট করে। আমাদের গ্রামের আবুল কালাম নামে একজন পোস্টটি শেয়ার করে। মিথ্যা তথ্যটি শেয়ার করলো কেন এ বিষয় জিজ্ঞেস করার জন্য আমাদের গ্রাম থেকে কিছু লোক গিয়ে আবুল কালামের নামে বিচার দিয়ে চলে আসে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর লুটপাট ও মারধর করে।’ 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তোফায়েল হোসেন জুয়েল বলেন, ‘মেহেদী হাসান আশিক উপজেলা আমাদের যুবদলের সদস্য। যারা হামলা করেছে তারা জামাত শিবিরের লোক। আমরা এই ঘটনার আইনগত সামাজিক সুস্থ বিচার চাই। আমাদের দলীয় আর কোন ভাইযের উপরে ও বাড়িতে হামলা করলে আমরা তা প্রতিহত করব।’ 

তবে অভিযুক্ত শাহ মিজান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। কামাল ফেইসবুকের একটা পোস্ট শেয়ার করার কারণে তাকে মারার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তারা নিজেদের বাড়ি ঘর নিজেরা ভাঙচুর করে এ ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে।’ 

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।,
 

তেল মজুদের চেষ্টায় পাম্পে ক্রেতাদের ভিড় | কালের কণ্ঠ