• ই-পেপার

চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে বুধবার থেকে রোজা শুরু

ট্রাক উল্টে রেল লাইন ব্লক, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কু‌ড়িগ্রাম
ট্রাক উল্টে রেল লাইন ব্লক, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেই স‌ঙ্গে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুভর্তি ট্রাকটি রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়লে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে ব্লক হয়ে কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।

রেল লাইন বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী যাত্রীদের বাস, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা গেছে। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে এবং দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘ‌টে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে আসতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন থেকে ট্রাকটি অপসারণ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুড়িগ্রাম আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশাযোগে তিস্তা স্টেশনে রওনা দেই। আমার মতো শত শত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন।’

কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’

দুর্গাপুর

অবৈধভাবে রুটি উৎপাদন করায় ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
অবৈধভাবে রুটি উৎপাদন করায় ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের জন্য অবৈধভাবে বনরুটি উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের শিবগঞ্জ ঘাটে মিড ডে মিলের বনরুটি পরিবহনকালে ১০টি বস্তায় মোট ৯০০ প্যাকেটসহ একজনকে আটক করে প্রশাসন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধভাবে উৎপাদন ও পরিবহনের দায়ে সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় ব্যবসায়ীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাত জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ফিডিং কর্মসূচির বনরুটি নির্ধারিত স্থানে উৎপাদন না করে সরকারি প্যাকেট ব্যবহার করে অবৈধভাবে মিড ডে মিলের বনরুটি উৎপাদন করে আসছিল দুর্গাপুর পৌর শহরের শিবগঞ্জের ‘ভাই ভাই’ বেকারি। তাকে আটকের পাশাপাশি কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
 

নিজের ভিটায় ঠাঁই নেই, পরিত্যক্ত ঘরে কাটছে আনোয়ারার জীবন

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
নিজের ভিটায় ঠাঁই নেই, পরিত্যক্ত ঘরে কাটছে আনোয়ারার জীবন

ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে বসতঘরে। আর থাকার জায়গা না পেয়ে মা আনোয়ারা বেগম (৭৫) ঘুরে বেড়ান পথেঘাটে। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে। একসময় যে বাড়িতে সবাই মিলেমিশে থাকতেন, আজ সেই বাড়িটাই যেন তার কাছে বড্ড অচেনা। একরাশ হতাশা নিয়ে দিন কাটছে এই অসহায় নারীর।

আনোয়ারা বেগম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত ছদুর হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ছদুর হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন তিনি। পরে ছেলের বিয়ে হলে সংসারে নতুন সদস্য আসেন। ধীরে ধীরে ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম নিজেই সংসার ছেড়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে শুরু করেন।

থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় পরে স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নেন। এখনো রাত কাটান সেখানে। এদিকে ছেলে প্রবাসে গিয়েও সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফলে পরিবারটিও এখন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছেলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, সেখানে আমি এক ধরনের বোঝা। একটি ঘরে সবাই একসঙ্গে থাকাও সম্ভব হচ্ছিল না, তাই নিজেই বের হয়ে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে চেয়ে খাই। কখনো খেতে পারি, কখনো উপোস থাকতে হয়। সরকারি সহায়তা শুধু বয়স্ক ভাতা পাই। স্বামীর ভিটায় যদি একটি ঘর হতো তাহলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘আনোয়ারা বেগমের জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে তার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতে পারে। বর্তমানে তিনি যে পরিত্যক্ত নড়বড়ে ঘরে থাকছেন সেখানে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’

ধর্ষক-মাদকের পক্ষে তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে : আইনমন্ত্রী

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ধর্ষক-মাদকের পক্ষে তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ধর্ষক ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কারো পক্ষে কেউ তদবির করলে হাজতে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক নেতাও তদবির করেন, তবে সেই নেতাকেও একই মামলায় হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান সোহেল, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম, পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিস বিন হাসান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।

সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে অবহেলার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিস করেন। কিন্তু জেলা ও উপজেলার অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে এখনো অফিসে আসার অনীহা রয়েছে। কর্মকর্তারা যদি স্ব স্ব স্থান থেকে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনো সংকট থাকবে না।’

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা (এফিসিয়েন্সি) বৃদ্ধি ও জনভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে প্রথমে ৬০-৭০ কোটি টাকা এবং পরে তা বাড়িয়ে ২৮০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতি পাওয়ায় একনেক বৈঠকে সেটি স্থগিত করেছি। রাষ্ট্রের টাকা বেশুমার লুটপাট ও বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার বন্ধে এখন প্রকল্পগুলোর বাস্তবতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা এখন স্মার্ট হয়ে গেছে। তারা সীমান্তে মাদক পাচারে ড্রোন ব্যবহার করছে। আদালতে আইনি ফাঁক-ফোকর গলাতে তারা অল্প পরিমাণে (১০-১৫ পিস) মাদক বহন করে। ফলে বিচারকরা পরিমাণের দিকে তাকিয়ে সহজে জামিন দিয়ে দিচ্ছেন। এদের দমনে সরকার আরো কঠোর হবে।’

চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বাজেট অত্যন্ত চিন্তাশীল, সুদূরপ্রসারী, উচ্চাভিলাষী এবং জনকল্যাণের বাজেট। বিএনপি দেশ ও জনগণের রাজনীতি করে বলেই এই বাজেট নিয়ে রাজপথে কোনো মিছিল-মিটিং নেই।’