• ই-পেপার

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিজয়ে কেরানীগঞ্জে বিশেষ প্রার্থনা

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
এম আর মজিব। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে ভূমি হস্তান্তর করের ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর ওই ইউপির ১ থেকে ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৯ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানে মজিবের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা’ এনে এর প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এম আর মজিব তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে দাবি করে এ ধরনের আবেদনকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও সাজানো নাটক বলেছেন।

তবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই শিবপুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই লিখিত আবেদনে ৯ ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ হারে প্রদেয় নগদ ৩৫ লাখ টাকার পুরোটা পরিষদের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান মজিব বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে পুরো টাকা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেন।
 
অভিযোগের স্বপক্ষে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখার স্টেটমেন্টেও দেখা যায়, বিগত ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওই চেয়ারম্যান মোট ৯টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তুলে আত্মসাৎ করেন।

ডিসির কাছে দেওয়া লিখিত ওই আবেদনে বলা হয়, এসব ভুয়া প্রকল্পের কোনো রেজুলেশন ইউনিয়ন পরিষদে সর্বসম্মতভাবে পাস না করেই চেয়ারম্যান মজিব এককভাবে ৩৫ লাখ টাকার সমুদয়টা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

এ বিষয়ে আবদনকারী স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান মজিবের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখে শেষ করা যাবে না৷ শুধু সরকারের ভূমি হস্তান্তর করের প্রদেয় ১ শতাংশের ৩৫ লাখ টাকা কীভাবে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন, সেটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলেই পরিষ্কার বুঝা যাব।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এম আর মুজিব বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আবেদনকারীদের সব তথ্যই অসত্য। মূলত সামনে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ক্লিন ইমেজকে বিনষ্ট করতেই কিছু কুচক্রী মহল এসব অপকর্ম করাচ্ছেন৷

তিনি জানান, ৩৫ লাখ টাকা নয়, ভূমি হস্তান্তর করের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা হয়ত তোলা হয়েছে এবং সেই প্রকল্পগুলোর কাজও ইতোমধ্যেই সম্পন্নও করেছি, ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আবেদনটি এখনও হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুকুরের কামড়ে ধরাশায়ী গরু চোর!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
কুকুরের কামড়ে ধরাশায়ী গরু চোর!
প্রতীকী ছবি

বরগুনার আমতলীতে গরু চুরি করতে গিয়ে বাড়িতে পালিত পোষা কুকুরের কামড়ে আহত সোবাহান মৃধা (৫৫) নামের এক চোরকে আটক করেন গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখী।

বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের আহসানুল করিম নিয়াজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ওই বাড়িতে গরু চুরি করতে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান মৃধা। ওই সময় গরুর মালিকের পালিত পোষা কুকুরটি তাকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কামড় দেয়। এক পর্যায়ে তিনি কাবু হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বাড়ির গৃহিণী ধরে ফেলেন।

গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখী বলেন, আমার স্বামী আহসানুল করিম নিয়াজ চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। আমি আর আমাদের সন্তানদের নিয়ে বাড়িতেই থাকি। আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান প্রায়ই আমাদের বাড়ির পুকুর থেকে মাছ, তরিতরকারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করেন। তার নির্যাতনে এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ।

তিনি আরো বলেন, চোরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে আমরা বাড়িতে একটি কুকুর লালন-পালন করতে শুরু করি। ঘটনার সময় হঠাৎ করে কুকুরের ডাকাডাকির শব্দ পেয়ে আহত অবস্থায় চোরকে ধরে ফেলি। পরে এলাকার লোকজন এসে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে ওই রাতেই চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

ওই ঘটনায় গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখি আটক চোরের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আটক চোর সোবহানের শরীরের একাধিক স্থানে কুকুরের কামড়ের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ মুঠোফোনে বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত আটক চোর সোবহানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৯৪ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ যাত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৯৪ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ যাত্রী আটক

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইগামী এক যাত্রীর হ্যান্ড লাগেজ থেকে প্রায় সাড়ে ৯৪ লাখ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার ডিপার্চার (বহির্গমন) লাউঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

​আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ আবু বক্কর। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায়।

​বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাইগামী ‘বিজি১৪৭’ ফ্লাইটের যাত্রী আবু বক্করের হ্যান্ড লাগেজ তল্লাশি করে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৫ দুবাই দিরহাম এবং ৪ হাজার ৭৯০ ওমানি রিয়াল উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশি টাকায় যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৭ টাকা।

​শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি বিমানবন্দর কাস্টমস ও পতেঙ্গা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

​তিনি আরো জানান, যেকোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধসহ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সব গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ নজরদারি ও সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

টঙ্গীতে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীর খরতৈল এলাকার বহুতল ভবন থেকে পড়ে আলী আকবর (৪৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১২টার দিকে নির্মাণ কাজ করার সময় নিচে পড়ে যান তিনি।

আলী আকবর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, টঙ্গীর খরতৈল এলাকায় একটি ৭ তলা ভবনে বাঁশ বেঁধে নির্মাণ কাজ চলছিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাঁশ ভেঙে নীচে পড়ে যান কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক আকবর। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাছের গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পোয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শ্রমিক মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিজয়ে কেরানীগঞ্জে বিশেষ প্রার্থনা | কালের কণ্ঠ