• ই-পেপার

মেট্রো রেল দুর্ঘটনা

নিহত কালামের সন্তানদের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা

স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মাজারুল ইসলাম সবুজ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আড়াইহাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো.সাবজেল হোসেন। 

মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজারুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার তানিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সবুজ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। জুয়া খেলার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি তিনি নিজের বেতন ও তাঁর মায়ের বেতনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন।

এজাহারে তানিয়া উল্লেখ করেন, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বাধা দিলে সবুজ তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন সকালে ফোন করে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করেন সবুজ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেলা ১১টার দিকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দরজা বন্ধ করে স্ত্রীকে মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন।

তানিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহত তানিয়াকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চিকিৎসা প্রদান করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। 

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগের অন্য মামলার গ্রেপ্তারের পরওয়ানা ছিল।

হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির
রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। পাশে বসে তার আছেন স্ত্রী হাসনা বানু। ছবি : কালের কণ্ঠ।

রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। জীবনের প্রায় ৫০ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন, দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন। অথচ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. নকির ও তার স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের একমাত্র ভরসা তার স্ত্রী।

হাসনা বানু জানান, দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করেন। স্বল্প আয়ের কারণে তারা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় ৬ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। একটি হুইলচেয়ারের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি, অনেককে বলেছি, কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। মনে হয় আমাদের কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।’

হাসনা বানু আরো জানান, মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই অর্থের বেশির ভাগই স্বামীর ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়ে যায়। বাকি টাকায় কোনোমতে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘নকির চাচা ও হাসনা চাচি দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। হাসনা চাচি এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। আমাদের সামর্থ্যও সীমিত। না হলে আমি নিজেই একটি সেকেন্ড হ্যান্ড হুইলচেয়ার কিনে দিতাম।’

তিনি সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মাঝেমধ্যে আমরা প্রতিবেশীরা যে যেমন পারি, কাঁচা বা রান্না করা খাবার দিয়ে সাহায্য করি। কিন্তু তাদের প্রয়োজন আরো বড় ধরনের সহায়তা।’

স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে পাবে।

দীর্ঘ ৬ বছর ধরে একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায় থাকা এই বৃদ্ধ রিকশাচালকের জীবনসংগ্রাম সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিই যেন নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে।

টেকনাফে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকনাফে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার (১৩ জুন) রাতে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া এলাকায় নাফ নদসংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

রবিবার (১৪ জুন) কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, নাফ নদ ও বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর আসে, জাদিমুড়া এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ মাটির নিচে মজুত করে রেখেছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২টি হ্যান্ড গ্রেনেড (৩৬ এমএমকে-আই), ৮টি এইচইডিপি গ্রেনেড (৪০ মিলিমিটার), ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি (৭.৬২ মিলিমিটার) এবং ২ কেটি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোনো অসাধু বা সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পড়লে সাধারণ মানুষের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। সময়োপযোগী এই অভিযানের ফলে একটি বড় ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

চরফ্যাশনে অবৈধ ট্রলিং বোট ও ৮০০ কেজি মাছসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
চরফ্যাশনে অবৈধ ট্রলিং বোট ও ৮০০ কেজি মাছসহ আটক ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার চরফ্যাশনে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, ৭ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল ও ৮০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে তিন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চরফ্যাশন থানার সুলতান ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চরমানিকার সদস্যরা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একটি সন্দেহভাজন অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট আটক করা হয়। পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি অবৈধ ট্রলিং জাল এবং ৮০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বোটে থাকা তিন জেলেকে আটক করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এই নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতেও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জব্দকৃত ট্রলিং বোট, জাল, মাছ এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত কালামের সন্তানদের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা | কালের কণ্ঠ