• ই-পেপার

ছাত্রলীগের কয়েক সেকেন্ডের মিছিল, গ্রেপ্তার ১১ নেতাকর্মী

ভোলা

বিদ্যালয় রয়েছে, তবু শিক্ষাবঞ্চিত চরের শিশুরা

শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা প্রশাসনের তদারকির অভাব শিক্ষক ও ভবন সংকট

ইকরামুল আলম, ভোলা
বিদ্যালয় রয়েছে, তবু শিক্ষাবঞ্চিত চরের শিশুরা
শিক্ষক মাত্র একজন। তিনিও আসেননি। তাই খেলাধুলায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারজানার চরে অবস্থিত চর জহির উদ্দিন রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছবি: কালের কণ্ঠ

নাগর পাটোয়ারীর চরের অবস্থান ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝে। চরের পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭৫ জন। শিক্ষক মাত্র একজন। গত ছয় মাসে একদিনও পাঠদান হয়নি এ বিদ্যালয়ে। দায়িত্বরত শিক্ষক মো. বাবলু মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও হয় না পাঠদান। 

শুধু পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, জেলার বিচ্ছিন্ন চরগুলোর প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমই কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ । সরকারি হিসাবের খাতায় চরগুলোতে বিদ্যালয় রয়েছে, তবে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সেখানকার শিশুরা। 

সম্প্রতি পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায় সেখানকার অফিসকর্মী মো. কবিরকে। সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের বারান্দা ঝাড় দিচ্ছিলেন তিনি। তখনো কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসেনি। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন শিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন কবির।

ডেকে আনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সালমা ও মো. নূর হোসেন নামের দুইজন জানায়, চলতি বছর ভর্তির পর থেকে মাত্র দুই দিন তাদের ক্লাস হয়েছে।

চরের বাসিন্দা মো. ফিরোজ আলম জানান, চরে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু শিক্ষক নেই। পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন মাত্র শিক্ষক। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি মিড-ডে মিলের যে খাবার আসে, তা পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

মো. নোমান হাওলাদার নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়টিতে গত ছয় মাসে একদিনও ক্লাস হয়নি। একজন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি সপ্তাহে এক-দুইদিন থাকেন, আবার চলে যান। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি যে খাবার আসে, তার মধ্যে কিছু স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। বাকি খাবার নানা অজুহাতে শিক্ষক বাবলু নিয়ে যান। 

স্থানীয়রা জানান, তারা বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকদের অনীহার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবলু জানান, তিনি একাই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক। বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক কাজে উপজেলায় থাকতে হয়। এ সময় পাঠদান বন্ধ থাকে। মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চরের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে তেমন উপস্থিত থাকে না। তাই নষ্ট হয়ে যাবে বিধায় মিড-ডে মিল পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।’

তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারাজানার চরে অবস্থিত চর জহির উদ্দিন রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে  ৭৫ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে একজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু তিনিও অধিকাংশ সময় আসেন না। তার পরিবর্তে কলেজপড়ুয়া শাকিল নামের স্থানীয় এক যুবককে দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কলেজ পড়ুয়া যুবক মো. শাকিলকে ক্লাস নিতে দেখা যায়। শাকিল জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম তাকে ক্লাস পরিচালনার জন্য রেখেছেন। তিনি চরের শিশুদের কথা চিন্তা করে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে বেতন থেকে তাকে মাসে কিছু সম্মানি দেন শিক্ষক রাকিব।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. তসলিম উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, একজন শিক্ষকের পক্ষে একটি বিদ্যালয় চালানো সম্ভব না। এছাড়া বিদ্যালয়টি একটি টিনের ঘরে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলামের দাবি, তাকে বিদ্যালয়ের কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে  থাকতে হয়। তাই শাকিল নামের স্থানীয় এক যুবক তাকে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন।

উপজেলার চর লাদেনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অবস্থিত মোহাম্মদ ভেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলছে একটি টিনের ঘরে। বিদ্যালয়ের তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন একজন মাত্র শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রনি কর্মকার জানান, তার বিদ্যালয়ে ছয়জনের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে চলতি বছরের শুরু থেকেই একজন  অনুপস্থিত। আরেকজন পারিবারিক কাজে ছুটিতে রয়েছেন। তাই তিনি একাই তিনটি শ্রেণির পাঠদান করেন।  বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

এদিকে, শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চর মোজাম্মেলে অবস্থিত পশ্চিম রামদেবপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও চর মোজাম্মেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এর মধ্যে পশ্চিম রামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতজনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে একজন প্রশিক্ষণে থাকায় ৭১ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে হয় দুইজন শিক্ষককে।

চর মোজাম্মেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শ্রেণি কার্যক্রম চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। সেখানে চারজন শিক্ষক থাকলেও একজনকে ডেপুটেশনে অন্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে, একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে রয়েছেন এবং একজন ছুটিতে। তাই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন চন্দ্র দাসকে একাই সামলাতে হচ্ছে ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল ও চর জহির উদ্দিনে মোট ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৯ জন শিক্ষক অর্থাৎ ৩০টি পদ শূন্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বরত শিক্ষকরাও আসেন তাদের ইচ্ছামতো। কিছু স্কুল চলে পক্সি শিক্ষক দিয়ে। প্রশাসনের  নেই কোনো তদারকি। ফলে চর দুটির প্রায় ৮০০ শিশুর শিক্ষা জীবনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার বুকে জেগে ওঠা অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পৃথক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এসব চরে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে জীবন ধারণ করেন।

শিশুদের শিক্ষার জন্য জেলার অর্ধশতাধিক দুর্গম চরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার শিক্ষার্থী সংখ্যা আট হাজার ৫২১ জন। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবসহ নানা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে চরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে সরেজমিনে ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত মদনপুর ইউনিয়নে প্রাথমিক শিক্ষার একই অবস্থা দেখা যায়। সেখানে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে দুই-একজন ছাড়া বাকিরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত নন। আবার কোনোদিন এলেও সকালে এসে দুপুরের আগেই চলে যান। এতে পাঠাদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা।  ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার না হতেই ঝরে পড়ছে তারা। 

চরে অবিস্থত চর পদ্মা মকবুল আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শিহাব উদ্দিন জানান, চরে শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। একেকটি   বিদ্যালয়ে দুই-তিনজন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তার বিদ্যালয়ে গত বছর পঞ্চম শ্রেণিতে ১৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র দুইজন। অভিভাবকদের অনেক বুঝিয়েও তাদের পরীক্ষায় বসানো যায়নি। 

তজুমিদ্দন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম কালের কণ্ঠকে জানান, মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত চর মোজাম্মেল ও চর জহির উদ্দিনে মোট ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৬। সেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে চরাঞ্চলের পদায়ন করা হবে। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জেনে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

দর্শনায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দর্শনায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি রায়সা বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে থেকে বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের একটি ভবনের সামনে সংস্কার কাজ চলাকালে শ্রমিকরা লাল রঙের টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং তাতে ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি দর্শনা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে।

কুড়–লগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার নিষিদ্ধ ঘষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ছিল। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে তারা এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।

ফের পেছাল নোয়াখালীর শিশু আসমা হত্যা মামলার রায়

নোয়াখালী প্রতিনিধি
ফের পেছাল নোয়াখালীর শিশু আসমা হত্যা মামলার রায়
ছবি: কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বহুল আলোচিত ৫ বছরের শিশু আসমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় দ্বিতীয় দফায় পিছিয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে গঠিত বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলে। এর আগে গত ২৪ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও বিচারক তা এক মাস পিছিয়ে ২৪ জুন (বুধবার) নির্ধারণ করেছিলেন। আজ আবারও তা পিছিয়ে ১ জুলাই ধার্য করা হলো।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামে নিজবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা আক্তার। ঘটনার নয় দিন পর একই বাড়ির বাসিন্দা বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ হেফাজতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি শাহাদাত স্বীকার করেন, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

নিহত আসমার বাবা মাওলানা মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। আমি আদালতের কাছে এই জঘন্য অপরাধের একমাত্র আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করার দাবি জানাই। যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বলেন, ‘২৪ মে রায় হওয়ার কথা থাকলেও আদালত তা পিছিয়ে ২৪ জুন করেছিলেন। আজ দ্বিতীয় দফায় তারিখ পরিবর্তন করে ১ জুলাই করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাবে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সেলিম শাহী বলেন, ‘মামলায় উপস্থাপিত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অত্যন্ত জোরালো। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি এবং আশা করি আদালত আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন।’

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর চাটখিলজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সর্বস্তরের মানুষ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চাটখিলে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নিহত শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী।

তাড়াশে গৃহবধূ হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার

তাড়াশ -রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
তাড়াশে গৃহবধূ হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

পারিবারিক কলহের জেরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছুরিকাঘাতে তিন সন্তানের জননী মোছা. আতিকা খাতুনকে (২৮) হত্যা মামলার এক মাস পর এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ মামলার প্রধান আসামি আতিকার স্বামী মো. আলাউদ্দিন (৪০) এখনো পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া গ্রামে তাড়াশ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আলাউদ্দিন, মো. আল আমিন (৩২), তাদের বাবা মো. এন্তাজ আলী ও মা শিউলী খাতুন (৪০)।

জানা গেছে, গত ২৮ মে গভীর রাতে মোছা. আতিকার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে প্রথমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে ঘরে রাখা ধারালো ছুরি দিয়ে তার বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভোরের দিকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনেন। পরে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামীসহ মামলার অন্য আসামিরা পালিয়ে যান। প্রায় এক মাস পর পুলিশ মামলার প্রধান আসামি ছাড়া অপর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করল।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর দুপুরে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের কয়েক সেকেন্ডের মিছিল, গ্রেপ্তার ১১ নেতাকর্মী | কালের কণ্ঠ