• ই-পেপার

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ভালুকায় লুটে নেওয়া সম্পদের টাকা চাওয়ায় মামলার হুমকির অভিযোগ

আদালতে আত্মসমর্পণের পর আ. লীগের ১৪ নেতা কারাগারে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
আদালতে আত্মসমর্পণের পর আ. লীগের ১৪ নেতা কারাগারে
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ১৪ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র পাল তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন
পাকা আমের স্বাদে ঠান্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

পাকা আমের স্বাদে ঠান্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

 


 
আসামিরা হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিরুল শহীদ মুন্না, জয়পুরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ভাদশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন স্বাধীন, পুরানাপৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খোরশেদ আলম সৈকত, পাঁচবিবি পৌরসভার প্যানেল মেয়র নূর হোসেন, পাঁচবিবি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস কে হক, পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর, ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজু, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য রতন হোসেন সরদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদদ্য নিশাত চৌধুরী, ভাদসা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাশির হোসেন, ইউপি মেম্বার পিন্টু হোসেন, মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব আলম মিলন এবং পুরানাপৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ।

জয়পুরহাট আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আসামিরা জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন থেকে পলাতক ছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা জানালে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কমলনগরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
কমলনগরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শারমিন আক্তার মুক্তা (২০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) ভোর রাতে উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মুক্তা উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার প্রবাসী হাসানের স্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভতী গ্রামের বাহার মিয়ার মেয়ে। তাদের ঘরে তামান্না নামে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ৩ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হাসানের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে উভয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেয়। এর মধ্যে আড়াই বছর আগে জীবিকার তাগিদে হাসান সৌদি আরব চলে যান। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে মুক্তার ননদের জামাই স্বপন তাকে প্রায় সময় কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ত করত। এমনকি গোপনে মুক্তা ঘুমিয়ে পড়লে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল স্বপন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয় তাদের মধ্যে। পরে বিষয়টি দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হলে স্বপনকে সতর্ক করা হয়।

নিহতের শাশুড়ি রুবি বেগম জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তার দুই মেয়ের জামাই (যার মধ্যে স্বপনও ছিল) বাড়িতে আসে এবং রাত্রিযাপন করে। গভীর রাতে তিনি তার মেজো ছেলের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। রুমে গিয়ে দেখতে পান, মেয়ের জামাই স্বপন ও অন্যরা মুক্তাকে ঘরের বারান্দায় শুইয়ে দিচ্ছে। তখন কাছে এসে দেখতে পান মুক্তা জীবিত নেই।

এদিকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও লাশের গলায় নখের আঁচড় পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে থাকায় এটি আসলে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। এতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।

তবে মুক্তার চাচা ফজর আলী মাঝি ও জেঠাতো ভাই নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তা আমাদের অনেক আদরের মেয়ে ছিল। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্বপন তাকে কুপ্রস্তাব ও গোপন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এ ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে মুক্তার শ্বশুর নিজাম উদ্দিন লোকলজ্জায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, স্বপন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। ঘটনার পর থেকে মুক্তার শ্বশুর, দেবর ও দুই ননদের জামাই স্বপনসহ পুরুষ সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গলার আঘাতের চিহ্নসহ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডিসি-এসপি পরিচয় দিয়ে করতেন চাঁদাবাজি

নওগাঁ প্রতিনিধি
ডিসি-এসপি পরিচয় দিয়ে করতেন চাঁদাবাজি
ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁয় নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিআইডির এসপি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে নাঈম হোসেন (২৮) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কম্পানির ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) মধ্যরাতে বগুড়া জেলার সান্তাহার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাঈম হোসেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পোওতা গ্রামের বাবুর ছেলে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২৫ মে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি ব্যবসায়ীকে বলেন, ‘আপনার ওষুধ সেবন করে একজন শিশু মারা গেছে। এখন পাঁচ লাখ টাকা না দিলে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হবে।’ মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে ওই ব্যবসায়ী প্রতারকের নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।

আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জের হাওরে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জের হাওরে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

 

এ ছাড়া গত ৩০ মে একই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন করা হয়। আমাকে ৪০ হাজার টাকা না দিলে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আইসিটি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নাঈম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে আসছিলেন। কখনো তিনি নিজেকে ওসি, কখনো এসপি, ডিসি কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার
সাভারের আশুলিয়ায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের ২ নেতা।

সাভারের আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছাত্র হত্যার মামলার আসামিসহ একাধিক মামলার আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইদুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়া থানার কাইচাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার কাইচাবাড়ী এলাকার মৃত পিয়ার আলী মাদবরের ছেলে ও আশুলিয়া ধামসোনা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম মেম্বার (৫৫) এবং একই থানার ইয়ারপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মোল্লা (৩৫)।

তাদের মধ্যে মো. আব্দুল হালিম মেম্বারের বিরুদ্ধে ২টি বৈষম্যবিরোধী ও ২টি অন্যান্য মামলাসহ মোট ৪টি  মামলা এবং সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে ৭টি অন্যান্য মামলা রয়েছে।

ঢাকা জেলা (উত্তর) ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, আব্দুল হালিম মেম্বারের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্র হত্যার মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার কাইচ্যাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মোল্লাকেও একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।