• ই-পেপার

জুলাই অভ্যুত্থান

শহীদ ফয়সালের কবরের সন্ধান চায় পরিবার

গাজীপুরে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ পুলিশের
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার কো লিমিটেডের শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কারখানার শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধের সময় বাধা দিলে পুলিশ-শ্রমিকের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনূর আলম জানান, ‘শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার সামনের শ্রীপুর-তেলিহাটি সড়কে নিহত লিজা আক্তারের মৃত্যুর বিচারের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছুড়ে মারে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
 
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘শ্রীপুরে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় আজ শনিবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। তারা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি কারখানায় হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি খারাপ হলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিক মৃত্যু ঘটনায় তদন্ত চলছে। ওই মৃত্যুর মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার শ্রমিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সুযোগে চারটি কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় একদল দুর্বৃত্ত। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীপুরের তেলিহাটি এলাকার কালার কো লিমিটেডের নারী শ্রমিক লিজা আক্তার। তিন দফায় ছুটি চাইলেও না দিয়ে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে  তার মৃত্যু হয়। পরদিন ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার অন্য শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ পাশের অন্য কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়ে। কতিপয় শ্রমিক আশপাশের ৪টি কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকার চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।  

নড়াইল

জেলার ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা

নড়াইল সংবাদদাতা
জেলার ৬০ শতাংশ গ্রামীণ সড়কই কাঁচা
নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নিরালী-দেবভোগ সড়ক। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

বর্ষাকালে ঘোরে না যানবাহনের চাকা। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটির অধিকাংশে এ সময় হাঁটু সমান কাদা। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে জীবন অর্ধেক শেষ। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় গ্রামবাসী ছুটেছেন  সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি প্রতিকার। 

এমন অবস্থা নড়াইল সদর উপজেলার নিরালী-দেবভোগ সড়কের। সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নিরালী গ্রাম থেকে একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগে গেছে সড়কটি। নদীর কূলঘেঁষা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের মাধ্যম এই সড়ক পাকা করার দাবি অনেক পুরনো। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও সে দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। 

এদিকে মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা নদীর কূল হয়ে আখুদা দেবভোগ, এগারোখান সড়কটিও রয়ে গেছে কাঁচা। কয়েক শ মানুষের বসবাস এ গ্রাম দুটিতে। সড়ক কাঁচা হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। 

শুধু এই দুই গ্রামের সড়ক নয়। জেলার তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশই এখননো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

সম্প্রতি সরেজমিনে নিরালী-দেবভোগ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে কাদা আর কাদা। তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কটি দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। 

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির কারণে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে তাদের  কষ্টের শেষ নেই। 

নিরালী গ্রামের সম্রাট বিশ্বাস বিশ্বাস বলেন, জন্মের পর থেকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল। সারা বছর ফসল আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শীতকালে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকাল  তা একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী পড়ে। তিনি জানান, গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার পান পাতার ওপর নির্ভরশীল। পান পাতা বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু সে পান যানবাহনে করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাদা ভেঙে মাথায় করে পান বহন করে নিয়ে যেতে হয় বাজারে। 

সম্রাট বিশ্বাসের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বারবার বলা হলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই জোটেনি। স্থানীয়রা একাধিকবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ গ্রামের বাবুল বিশ্বাস বলেন, ‘দেবভোগ নিরালী ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পাকা করতে একাধিকবার রাজনৈতিক নেতাদের বলা হয়েছে। ভোট আসলে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলে না।’

মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি রায়ের ভাষ্য, প্রতিদিন কাদা ভেঙে তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা এক হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য তিন হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৮১ কিলোমিটারের মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ। 

লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে এক হাজার ১৯৯ কিলোমিটার এর মধ্যে কাঁচা ৭৮৯ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।

কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা ৪৩৩ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৫৮ শতাংশ ।

স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা। চলতি অর্থবছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু সড়ক সংস্কারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, কিছু রাস্তা টেন্ডারে রয়েছে। এসব সড়ক জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আনার জন্য কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো পাস হলে  আগামী অর্থবছরে কাঁচা ও পাকা সড়ক ৫০ শতাংশে আনতে পারব। 

১০ দিন ধরে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র শরিফ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
১০ দিন ধরে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র শরিফ
সংগৃহীত ছবি

১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র মো. শরীফ। এ ঘটনায় থানায় জিডিও করেছেন মা মোফাশেরা বেগম। নিখোঁজের পর থেকে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে পরিবারটি।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার সন্ধান পেলে কমলনগর থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে পরিবারটি। 

এর আগে ১৭ জুন সকালে কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে সে আর ফিরে আসেনি। শরীফ স্থানীয় একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ও একই এলাকার রিকশাচালক করিম চৌধুরীর ছেলে। 

নিখোঁজ শরীফের মা মোফাশেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘটনার দিন ভোরে শরীফ নামাজ পড়তে ওঠে। ২০ টাকা দিলে সে বিস্কুট কিনে নিয়ে এসে খায়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। 

নিখোঁজ শরীফের ভগ্নিপতি মঈন উদ্দিন বলেন, ‘১০ দিন ধরে শরীফকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। দয়া করে কোথাও তাকে দেখলে কমলনগর থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। তার শোকে আমার শ্বাশুড়ি অনবরত কান্না করে যাচ্ছে। 

কমলনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউছার আহমেদ বলেন, ‘শরীফের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাকে খুঁজে পেতে। এ ছাড়া কেউ যদি তার সন্ধান পায় কমলনগর থানায় যোগাযোগ জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
 

ঝিনাইদহ সীমান্ত থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ সীমান্ত থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

​ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড গুলি এবং ২৪ বোতল ভারতীয় মাদক সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বেলেহাটি গ্রাম থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্থ সামন্তা বিওপির একটি টহলদল দুই চোরাকারবারিকে ধাওয়া করে।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা সীমান্ত পিলার ৫৭/১ থেকে ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলেহাটি গ্রামের একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। ​পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারদ ও মাদক মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শহীদ ফয়সালের কবরের সন্ধান চায় পরিবার | কালের কণ্ঠ