• ই-পেপার

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন উরুগুয়ে অধিনায়ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক
যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান
ইরান ফুটবল দল। ছবি: ফিফা

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ড্র করে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ দেশ; সেটাও কি না গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে!

কেপ ভার্দের মতোই গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিন ম্যাচ ড্র করেছে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ইরান। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়ামের পর আজ মিশরকেও রুখে দিয়েছে তারা। 

কিন্তু ইরানের নকআউট পর্বে ওঠার ভাগ্য এখনো সুতোয় ঝুলছে। ‘জি’ গ্রুপের তিনে থেকে শেষ করায় কোনো কিছুই আর নিজেদের হাতে নেই। যদিও ইরানিরা এখনো গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার শীর্ষ আট দলের তালিকার আছে। তবে পরের রাউন্ডে খেলতে হলে কয়েকটি সমীকরণ তাদের পক্ষে যেতে হবে।

তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের মধ্যে ইরান এই মুহূর্তে ৬ নম্বরে আছে। অর্থাৎ আর দুটি দল ইরানের ওপরে উঠলেই তারা নয়ে নেমে যাবে। সে ক্ষেত্রে তাদের নকআউট পর্বে খেলার আশা শেষ হয়ে যাবে।  

যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

[১] অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে যেকোনো এক দলকে জিততে হবে। কোনোভাবেই ড্র হওয়া যাবে না। তবে অস্ট্রিয়া জিতলে ইরানের জন্য ভালো। 
[২] ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানকে জিততে হবে অথবা ম্যাচটি ড্র করতে হবে।
[৩] ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ঘানাকে জিততে হবে।

কেইনকে কালো জাদু থেকে মুক্ত করে ঘানার তান্ত্রিক বললেন, ‘পরের ম্যাচেই সে গোল পাবে’

ক্রীড়া ডেস্ক
কেইনকে কালো জাদু থেকে মুক্ত করে ঘানার তান্ত্রিক বললেন, ‘পরের ম্যাচেই সে গোল পাবে’
ছবি : সংগৃহীত

ফর্মের তুঙ্গে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলও করেছেন। 

কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে কেইন ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তিনি বলার মতো কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি। যে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই শটেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

কেইনের হঠাৎ ছন্দ হারানোর কারণ হিসেবে তার ওপর কালো জাদু করার দাবি করেছিলেন ঘানার আলোচিত আধ্যাত্মিক সাধক ও তান্ত্রিক নানা কওয়াসু বোনসাম। 

তবে ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ড গোলশূন্য ড্র করার পর কেইনের ওপর থেকে নাকি সব ধরনের অভিশাপ তুলে নিয়েছেন বোনসাম। আজ রাতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে কেইন গোল পাবেন বলেও দাবি তার।

বোনসাম বলেছেন, ‘আমি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সাধক। এখন আমি হ্যারি কেইনকে মুক্ত করে দিচ্ছি যেন ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচে সে গোল করতে পারে।’

বোনসাম আরো বলেছেন, ‘হ্যারি কেইন আমার শত্রু নয়। আমি ওর বড় কোনো ক্ষতি করিনি। শুধু আমার দেশের (ঘানা) উপকার করতে চেয়েছি। আমার একটি পুত্রসন্তান আছে। আমি ওর নাম রাখব হ্যারি কেইন। কারণ, আমি কেইনের খেলা অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি।’

২০১৪ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার জাদুটোনার কারণেই রোনালদো চোটে পড়েছিলেন—সেই সময় এমন দাবি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন জাদুকর নানা কওয়াসু বোনসাম।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প

জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন ফুটবলারের স্ত্রী

ক্রীড়া ডেস্ক
জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন ফুটবলারের স্ত্রী
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফুটবলার বেয়োর স্ত্রী আন্দ্রেয়া। ছবি: রয়টার্স, ইন্সটাগ্রাম

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প কেড়ে নিয়েছে অনেকগুলো প্রাণ। সেই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেই সামনে এসেছে এক মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার হৃদয়বিদারক গল্প। মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেয়োর স্ত্রী আন্দ্রেয়া।

গত বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি আবাসিক ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে। সেই সময় ভবনের ভেতরে ছিলেন আন্দ্রেয়া, তার এক বছর বয়সী মেয়ে আলানা এবং পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্য। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার আগে আন্দ্রেয়া নিজের শরীর দিয়ে ছোট্ট মেয়েকে আগলে রাখেন যেন তার কোনো ক্ষতি না হয়।

অভিযানের পর উদ্ধারকর্মীরা আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় ছোট্ট আলানা। চিকিৎসকেরা মনে করছেন, মায়ের শেষ মুহূর্তের সেই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে।

স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন ফুটবলার হেক্টর বেয়ো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘একদিন আমি আমার মেয়েকে বলব, তার মা নিজের জীবন দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিল। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত সে মেয়েকে ছেড়ে যায়নি। তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও, তুমি একজন সত্যিকারের বীর মা।’

আরেকটি পোস্টে শোকাহত বেয়ো লেখেন, ‘আমি কীভাবে আমাদের মেয়েকে বোঝাব, তার জীবন বাঁচাতে তুমি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছ? আমি তখন তোমাদের পাশে ছিলাম না। এই শূন্যতা আমি কীভাবে পূরণ করব?’

বর্তমানে ছোট্ট আলানা এবং তার খালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

২৮ বছর বয়সী হেক্টর বেয়ো ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলছেন। 

এদিকে ভয়বাহ এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার সাবেক বিউটি কুইন গিসেল রেয়েসের মা ওমাইরা রেয়েসও প্রাণ হারিয়েছেন। 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ৪৫০০ জনের বেশি। হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

হকির কিংবদন্তি আবদুস সাদেককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন প্রতাপ শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
হকির কিংবদন্তি আবদুস সাদেককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন প্রতাপ শঙ্কর
প্রাক্তন বাংলাদেশি জাতীয় ফুটবল, হকি খেলোয়াড় এবং কোচ প্রতাপ শঙ্কর

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সব্যসাচী, হকির কিংবদন্তি আবদুস সাদেককে স্মরণ করতে গিয়ে প্রাক্তন বাংলাদেশি জাতীয় ফুটবল, হকি খেলোয়াড় এবং কোচ প্রতাপ শঙ্কর এক আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেছেন। তিনি বলেন, সাদিকের মৃত্যু শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বাঙালি ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

টি-স্পোর্টসের অফসাইড টক নামক এক অনুষ্ঠানের আলোচনায় সদ্যঃপ্রয়াত আবদুস সাদিককে নিয়ে এ স্মৃতিচারণা করেন তিনি।

স্মৃতিচারণায় প্রতাপ শঙ্কর বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি একটি নক্ষত্রের পতন। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—সব মিলিয়ে যে সম্মান সাদেক পেয়েছেন, তা আর কোনো বাঙালি হকি খেলোয়াড় পাননি। জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অবদান ছিল অসাধারণ।’

আবদুস সাদেক
আবদুস সাদেক

সাদিকের নেতৃত্বগুণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে আমার চার বছরের জুনিয়র ছিল। কিন্তু মাঠে নামলে মনে হতো ও-ই সিনিয়র, আমি জুনিয়র। এত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ খুব কমই দেখেছি।’

ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, সাদিক ছিলেন তাদের পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ‘আমাদের বাড়িতে এলে লুচি, লাবড়া আর বুটের ডাল খেতে খুব পছন্দ করত। আমার স্ত্রীকে আগেই বলে রাখত, ‘আমি ওইদিন আসব, খাবারটা তৈরি করে রেখো।’

ষাটের দশকের শুরুর দিকে কম্বাইন্ড স্পোর্টিং ক্লাবে একসঙ্গে খেলার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। “প্রথম দিকে সাদেক একটু ভয় পেত। আমি বলতাম, ‘ভয়ের কী আছে? আমি তো আছি।’ কিন্তু মাত্র দুই বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গেল। ১৯৬৫ সালে সেই সাদেকই আমাকে বলত, ‘নদা, তুমি চিন্তা করো না, মন দিয়ে খেলো।’ এই স্মৃতিগুলো আজও চোখে ভাসে।”

তিনি আরো বলেন, ‘সাদেকের মৃত্যুর দিন সারাক্ষণ ওর খেলাগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। আমি ভারত-পাকিস্তানের অনেক বড় খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছি। পাকিস্তানের আনোয়ার আহমেদ খান এবং ভারতের অজিত পাল সিংকে আমি বিশ্বের সেরা সেন্টার-হাফদের মধ্যে মনে করি। আমার কাছে সাদেকও একই মানের একজন খেলোয়াড় ছিল।’

আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘সাদেক বাঙালি ছিল বলেই হয়তো পাকিস্তান জাতীয় দলের মূল একাদশে সব সময় সুযোগ পেত না। যখন ওকে ছাড়া উপায় থাকত না, তখনই দলে রাখা হতো। বিষয়টি আজও আমাকে কষ্ট দেয়।’