• ই-পেপার

আড়াই মাসের সায়ানকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেল অজ্ঞাত নারী

হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বরিশালের বানারীপাড়ায় বিশারকান্দি ইউনিয়নের কদমবাড়ী গ্রামে দুই হাতে বিয়ের মেহেদির রঙ না মুছতেই মুনিয়া আক্তার (২২) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কদমবাড়ী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের (৩০) স্ত্রী। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, মাত্র দুই মাস পূর্বে বানারীপাড়ার কদমবাড়ী গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসানের সঙ্গে স্বরূপকাঠী উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে মুনিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।

মেহেদী হাসানের বাবা-মা (মুনিয়ার শ্বশুর ও শাশুড়ি) জানান, ঘটনার দিন শনিবার সকাল থেকেই মুনিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন। তবে দুপুরের দিকে হঠাৎ করে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পরবর্তীতে দরজা ঘরের ভেতর মুনিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। 

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। তারপরেও তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, নিহতের ননদ তামান্না ঘটনাটিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিয়ের কিছুদিন পর একদিন মুনিয়া তার (তামান্না) সঙ্গে একই রুমে একত্রে ঘুমিয়েছিলেন। ওই রাতে ঘুমের মধ্যে আচমকাই মুনিয়া তার গলা চেপে ধরেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে তামান্না ও তার পরিবারের দাবি—মুনিয়া সম্ভবত কোনো তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

রবিবার (১৭ মে) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন শেষে বাবার কাছে মুনিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে মুনিয়ার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তার বাবা বাদী হয়ে মেয়ে স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছে মর্মে থানায় ইউডি মামলা করেছেন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধানবোঝাই ভটভটির ধাক্কায় শিশু নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধানবোঝাই ভটভটির ধাক্কায় শিশু নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ধানবোঝাই ভটভটির ধাক্কায় জাহিদ হাসান (৭) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আবদুল্লাহ (১১) ও ডলার (১১) নামের আরো দুই শিশু। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের বাড়ির কাছে উপজেলার লাহারপুর ধোপপুকুর মোড়ে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জাহিদ মোবারকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাহারপুর ধোপপুকুর বাজার এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বাড়ির কাছে ধোপপুকুর মোড়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল একই এলাকার কয়েকজন শিশু। এসময় ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিশুদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিন শিশু আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত জাহিদকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সোয়া ১১টার দিকে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও ভটভটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) এক ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চার দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় একই সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকরা জানান, মাহির শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুড়ে যায়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তিনি মারা যান।

স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। নিহত মাহিও এর আগে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। সম্প্রতি মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জহির এখনো পলাতক রয়েছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ইবিতে বাসে সিনিয়র-জুনিয়রের বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, আহত ৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবিতে বাসে সিনিয়র-জুনিয়রের বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, আহত ৬
ছবি: কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডার জেরে সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুমতি বাসে এ ঘটনা ঘটে।

পরে এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় মারধর ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাইমুন আহাম্মেদ হৃদয়, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জিহাদ ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাস।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল ৪টার দিকে ঝিনাইদহগামী একটি বাসে অন্তর বিশ্বাসসহ কয়েকজন সহপাঠী যাচ্ছিলেন। এসময় বাসের ভেতরে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৮–৯ জন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও গান-বাজনা করছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে অন্তরের পাশের এক শিক্ষার্থী তাদের হৈচৈ থামাতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের জিহাদ অন্তর বিশ্বাসের গলা চেপে ধরেন। পরে অন্তর বিশ্বাস হৃদয়ের গায়ে ধাক্কা দিলে হৃদয় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় বাসে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যস্থতায় মারধর বন্ধ হয়।

পরবর্তীতে বাসটি ঝিনাইদহ থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হৃদয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। এরপর লোকপ্রশাসন বিভাগের তামিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে পাল্টা মারধর করেন।

এদিকে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দুই পক্ষের মাঝে পড়ে আহত হন। তাকে রক্ষা করতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে লোকপ্রশাসন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের জানালা ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ৭–৮ জন শিক্ষার্থী মিলে অন্তর বিশ্বাসকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এসময় জিহাদ তার গলা চেপে ধরেন। পরে আমরা প্রধান ফটকে গিয়ে নিজেদের সহপাঠীদের রক্ষা করতে গেলে তামিম ও জিহাদের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় ইইই বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও আমাদের ওপর হামলা করেন। তবে তাদেরকে আমরা চিনি না। এ ঘটনায় আমাদের বিভাগের নাফিজ আনাম, সাগর গোঁড়ামি, আবির ও মুমিন মারধর শিকার ও আহত হন। এসময় তারা বলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, তোরা চিনিস আমরা কে? ভিসি কোন বিভাগের জানিস?

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম ঘটনায় আমাদের ভুল ছিল। এজন্য পরে আমরা সিনিয়র হিসেবে এই ঘটনার মীমাংসা করতে প্রধান ফটকে যাই। সেখানে আমাদের ৫ জনের বিপরীতে তারা ৪০ থেকে ৫০ জন অবস্থান নেয়। সেসময় তারা আমাদের ওপর সরাসরি হামলা করে। সেখানে শিক্ষকরা ছিল, তাদেরকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং সেখানে কী ঘটেছে তা আমরা জানি না।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই বিভাগের সভাপতি, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল বডি একসঙ্গে বসেছি৷ এটাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রশাসন এসব বিষয় নিয়ে খুবই সিরিয়াস। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আলোচনায় বসছি। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে উপস্থিত ছিলেন না।’

আড়াই মাসের সায়ানকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেল অজ্ঞাত নারী | কালের কণ্ঠ