• ই-পেপার

অপারেশন ডেভিল হান্ট : বাগেরহাটে ৯ দিনে গ্রেপ্তার ১১৩

কক্সবাজার

নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে ৭ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ডোবা থেকে সকাল ৯টার দিকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শিশু ওয়াহিদুল নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এই কারণে মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 

শিশুর বাবা ইজিবাইক (টমটম) চালক তৌহিদুল ইসলাম লিটন জানান, তার সন্তান মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাদরাসায় পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ই নিখোঁজ হয় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তার হদিস মিলছিল না। ৪৫ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন পাশের চার নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ওয়াহিদুলের মরদেহ ভাসতে দেখে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ জানান, এ ঘটনায় পরিবারসহ এলাকাবাসীর সন্দেহ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। আশা করছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ শিশুর প্রতি বর্বরোচিত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।’

নেটওয়ার্কের সন্ধানে আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক
নেটওয়ার্কের সন্ধানে আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক
সংগৃহীত ছবি

অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে পাহাড়ের চূড়ার এক আমগাছে উঠে অবস্থান নেন এক শিক্ষক। রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আবু তাহের।

সরকার সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি অনলাইনে (হোয়াটসঅ্যাপ) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবেন। পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিদিনের তথ্য পৌঁছাবে।

সোমবার ওই শিক্ষক অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এক আমগাছের ডালে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, অনলাইনে শিক্ষক হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার স্কুলটি পাহাড়ের প্রায় তিন-চার শ ফুট নিতে অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক পাননি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও নেটওয়ার্ক খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে কোনোরকম নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান।

তিনি আরো জানান, চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে, নইলে তার পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যেত।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, ‘সমতলের শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও পাহাড়ি এলাকায় এটি অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদ্যুৎও পৌঁছায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকায়ও ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।’ তাই পাহাড়ি এলাকার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন (সোমবার) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গোমস্তাপুর

গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে রাতের আঁধারে  এক নারীকে  নৌপথে নৌকাযোগে বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রতিহত করেছে বিজিবি।  

সোমবার রাতে বেসামরিক মাঝিদের সহায়তায় এ চেষ্টা করে বিএসএফ বলে জানিয়েছে বিজিবি। ওই নারী সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। গত ১২ দিনের মধ্যে গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে  পুশইনের  বিএসএফ’র এটি তৃতীয় চেষ্টা। বিজিবির ওই নারীকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধের একটি ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজিবি জানায়, গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২৫/৩ আর এর নিকট দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের  আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা ওই নারীকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ’র সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সোমবার মধ্যরাতে দায়িত্বশীল নওগাঁ ব্যাটালিয়নের(১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষনিক নজরদারি ও টহল অব্যহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল  সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর কোন নতুন তথ্য জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, মাত্র দুদিন পূর্বে গত ১৩ জানুয়ারী গভীর রাতেও একই সীমান্তে দিয়ে শিশু,নারীসহ ১৫ জনকে  একই নদীপথে নৌকাযোগে পুশইনের বিজিবির চেষ্টা সীমান্তবাসীর সহায়তায় ব্যর্থ হলে ২ ঘণ্টার মাথায় তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে শিশু, নারীসহ ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএসএফ। টানা দুদিন সীমান্তে অবস্থানের পর গত ৬ জুন ওই ২৮ জনকে সীমান্ত থেকে ভারতে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর  আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর  সীমান্ত দিয়ে ২ নারীকে পুশইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ নিকটে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ  বারবার পুশইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে.কর্নেল মাসুম।

সদরপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা, সরঞ্জাম জব্দ

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা, সরঞ্জাম জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুরে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

সোমবার (১৫ জুন) বিকালের দিকে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অকোটেরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়াসহ পরিবেশ ও স্থানীয় কৃষিজমির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসময় অবৈধ বালু উত্তোলনের সরঞ্জামও জব্দ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নদী ও খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট : বাগেরহাটে ৯ দিনে গ্রেপ্তার ১১৩ | কালের কণ্ঠ