নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পার-ভোমবাগ এলাকায় নদীতীরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে নদীভাঙনকবলিত দুই পাড়ের বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মবহির্ভূতভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর দুই তীরের বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ-মন্দির ও স্থানীয় বাজার ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ইউছুফ মোল্যা বলেন, ‘নদীর মাঝখানে ট্রেজার বসিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। এতে করে নদীর দুই কূল ভেঙে পড়ছে। নদী পাড়ে আমাদের বসতঘর সহ ফসিল জমি ভেঙে যাচ্ছে। তাদের এখান থেকে বালু কাটতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা আমাদের কথা শুনছেন না। তারা রাতের অন্ধকারে বালু কাটছে দিনে ও বালু কাটছে। তারা তাদের ইজারাকৃত সীমানা অতিক্রম করে এসে বালু কাটছে। কিছু বললে রাতের অন্ধকারে এসে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমরা নিষেধ করে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের বাড়ি ঘর রক্ষা নদী থেকে বালু কাটা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করি।’
মো. আতাউর মোল্যা নামের আরেক বক্তা বলেন, ‘বালু খেকোদের একটা সিন্ডিকেট আছে। এরা কোটি কোটি টাকার মালিক। এদের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তাদের আর রক্ষা নেই৷ নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মতো এরা বালু কাটে। নদী ভাঙনে এখান থেকে অনেক পরিবার উচ্ছেদ হয়ে চলে গেছে। সরকারি জায়গায় বসবাস করছে। অথচ তাদের পৈতৃক জমি এই বালু খেকোদের কারণে নদী গর্ভে চলে গেছে। আমরা চাই অতিদ্রুত এই বালু কাটা বন্ধ করা হক।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালু উত্তোলন কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্বে থাকা শেখ তাজুল। তিনি বলেন, ‘ইজারা নেওয়া জায়গা থেকে আমরা বালু উত্তোলন করছি। কোনোকিছু ভাঙলে অভিযোগ দিলে সরকারি লোক সেখানে যাবে ব্যবস্থা নিবে। আমাদের সরকার ইজারা দিয়েছেন বলেই আমরা বালু কাটছি।’
স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো হুমকি দেইনি। হুমকি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ও নাই। আমরা ব্যবসা করি, ইজারা না পেলে তো বালু কাটতে যেতাম না।’
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি বালু মহাল রয়েছে। নতুন ইজারা দেওয়া হয়েছে। আজ নতুন ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই তাদের বালু উত্তোলন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে৷ পরবর্তীতে নিয়ম মেনে নির্ধারিত সীমানার মধ্য থেকে বালু উত্তোলন করতে বলা হয়েছে। নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




