নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ শেখকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাতের আদালতে এ আদেশ হয় বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, গত ৪ জুন আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে র্যাব। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। কিন্তু র্যাব তিন কার্যদিবসের মধ্যে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম সম্পন্নে ব্যর্থ হলে পুনরায় আবেদন করলে রবিবার আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ সেপ্টেম্বর জামশেদ শেখকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে র্যাব। একই দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমাণ্ডে পায় র্যাব। দেড় বছর পর একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি পাঠাগারে যাবার পথে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদীনি খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা এ শহরের আলোচিত সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বি। তার অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং তাদের সহযোগীরা মিলে ত্বকীকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
জামশেদ ছিলেন শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক। র্যাবের তদন্তে ত্বকী হত্যার সঙ্গে তার জড়িত থাকারও নাম উঠে এসেছিল। ত্বকী হত্যার এক বছরের মাথায় র্যাবের ফাঁস হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, আজমেরী ওসমান ও তার সহযোগীরা ত্বকীকে অপহরণ ও নির্যাতন করে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলার জন্য যে গাড়িতে রাখা হয়েছিল, সেই গাড়ি চালিয়েছিলেন জামশেদ।
এদিকে, ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত শেষ করে এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগপত্র জমা না দেওয়ায় বিচারকাজ শুরু হয়নি। গত ১ জুন এ মামলার ১০৪তম তারিখ ছিল। ওইদিন আদালত র্যাবকে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু।
যদিও এর আগেও কয়েক দফায় আদালত দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য তাগিদ দিলেও তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবারই আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।





