• ই-পেপার

পূজামণ্ডপের গেট ভাঙচুরের সময় হিন্দু যুবক আটক

ঢাকার মাদরাসায় মিলল ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা পিস্তল

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার মাদরাসায় মিলল ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা পিস্তল
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদরাসার নির্মাণাধীন ওয়াশরুম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় কটি পাকিস্তানি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৪। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। এর আগে বুধবার (১৭ জুন) বিকালে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব-৪ এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মাদরাসা প্রাঙ্গণের অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য মজুদ করে রেখেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওয়াশরুমে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে ওয়াশরুমের পূর্ব-দক্ষিণ কোনের টয়লেটের মেঝেতে কয়েকটি ইটের নিচে একটি ছেঁড়া হলুদ রঙের শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলিসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।

‎পরে উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং কারা এটি সেখানে রেখে গেছে তা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মো. গিয়াস উদ্দিন সরকার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধনীরামপুর বাজার মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের সময় এ ঘটনা ঘটে।

মো. গিয়াস উদ্দিন সরকার ধনীরামপুর গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় জমির পরিমাপক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ধনীরামপুর খেলার মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে গিয়াস উদ্দিন এশার নামাজ আদায়ের জন্য ধনীরামপুর বাজার মসজিদে যান। এশার ফরজ নামাজ শেষে বিতর নামাজ আদায়ের সময় তিনি দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে যান। সেখান থেকেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে যান। বিষয়টি খেয়াল করে অন্য মুসল্লিরা এগিয়ে গিয়ে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মুরাদনগর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে রাতেই গিয়াস উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। তিনি নামাজরত অবস্থায় মারা যান।’

বাবুগঞ্জ

লোহালিয়া–সিংহেরকাঠী সংযোগ সেতুর বেহাল অবস্থা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
লোহালিয়া–সিংহেরকাঠী সংযোগ সেতুর বেহাল অবস্থা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া ও সিংহেরকাঠী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন কয়েক শ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি দুই গ্রামের মানুষের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ এই পথে চলাচল করেন। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। মীরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ উপজেলা সদর ও বরিশাল শহরে যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ এ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিম বলেন, সেতুটির জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পটিয়া

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর মৃত্যু, দ্বিতীয় স্ত্রী কারাগারে

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর মৃত্যু, দ্বিতীয় স্ত্রী কারাগারে
সিরাজুল ইসলাম। (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হয়ে সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহার আকতার ববিকে (৩৯) আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফোরক সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় পটিয়া থানায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার ভাই শেখ মোস্তান (৩৬) ও ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেনকে (২১) এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে কবিরুল ইসলাম আকিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় আটক নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ববিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অপর দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মিনহার আকতার ববি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১টার দিকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনদের সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সিরাজুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময় বিষয়টি মীমাংসার জন্য পারিবারিক বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

নিহতের ভাগ্নে মো. বদিউল আলম বলেন, ‘আমার মামা দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে কষ্ট করে উপার্জন করে অর্থ-সম্পদ গড়েছেন। সেই সম্পত্তি নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মামার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পূজামণ্ডপের গেট ভাঙচুরের সময় হিন্দু যুবক আটক | কালের কণ্ঠ