• ই-পেপার

গুদাম থেকে চাল আত্মসাতের অভিযোগে কর্মকর্তা আটক

নোয়াখালী

বিএসটিআই অনুমোদন না থাকায় ২ কারখানাকে জরিমানা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
বিএসটিআই অনুমোদন না থাকায় ২ কারখানাকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকায় দুইটি ফিড কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে উপজেলার সেতুভাঙ্গা এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন। অভিযানে বিএসটিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ২৭৩টি পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে মাছ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত। তবে অভিযানে সেতুভাঙ্গা এলাকার দুটি ফিড কারখানায় বিএসটিআই সনদ না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ক্লাসিক ফিস অ্যান্ড ফিড মিলস-কে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই অপরাধে সেতু ফিড মিলস-কে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থলেই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।


 

ভাঙ্গায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দিনমজুর নিহত

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দিনমজুর নিহত
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ভ্যানের চালক বজলু মৃধা। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া হাসামদিয়া মহল্লায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত তোরাব মোল্লা (৭১) ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীকান্দা মহল্লার বাসিন্দা। 

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি কাভার্ড ভ্যান অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে তোরাব মোল্লা ও ভ্যানচালক বজলু মৃধা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোরাব মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বজলু মৃধাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান বলেন, তোরাব মোল্লার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত অটোভ্যান ও কাভার্ড ভ্যান ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাভার্ড ভানের চালক পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

‘থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করি’

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
‘থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করি’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের নদীপাড়ার রুপালী খাতুন (৪০) নামে এক নারী মাদক কারবারি মন্তব্য করে বলেন, প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না। আমি প্রতি মাসে থানায় ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা করি।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে মাদক কারবার বন্ধ করতে বললে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে পুলিশ স্থানীয়দের নিয়ে রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৫ পিস ও তার ছেলে আল আমিনের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পায়। সঙ্গে মাদক বিক্রির ১১ হাজার টাকাও উদ্ধার করে। পরে রবিবার মা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

রুপালী খাতুন শহরের নদীপাড়া এলাকার মিজান হোসেনের স্ত্রী এবং আল-আমিন (২২) ওই দম্পতির ছেলে। 

জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা মাদকের বিস্তার লাভ করায় স্থানীয়রা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১১ ও ১৩ জুন পাইক পাড়া গ্রাম থেকে দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। 

একই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে স্থানীয়রা শহরের নদীপাড়া এলাকায় রাসেল ও রূপালী খাতুনের বাড়িতে যান। 

স্থানীয় টিটোন হোসেন জানান, আমরা স্থানীয় ১৮-২০ জন মিলে নদীপাড়ায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে বলি।

এসময় রূপালী নামের এক নারী মাদক কারবারি আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে বলেন, প্রশাসনও আমার কিছু করতে পারবে না, আমি থানা পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করি। কিছুক্ষণ পর ওসিসহ পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছালে স্থানীয়রা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন।

পরে পুলিশ সঙ্গে নিয়ে রুপালীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৭৫ টাকা উদ্ধারসহ তাদের আটক করে। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ থানার কেউ মাদকের টাকা নিয়েছে এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। 

সান্তাহারে শিশু রাকা হত্যা : বেরিয়ে আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
সান্তাহারে শিশু রাকা হত্যা : বেরিয়ে আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য
রাকিকা আক্তার রাকা

বেরিয়ে আসছে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকা হত্যাকাণ্ডের আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরো একটি কারণ। ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেওয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করত। খেলাধুলার একপর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদিকে বিষয়টি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার দাদি ফাতেমাকে মারধর করেন। কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এর মধ্যে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু রাকামনিকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্যা বেগম ও তার পরিবার।

আসামি বন্যা বেগম স্বীকার করে যে, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির একটি ছোট সেড রয়েছে। সেখানে রাকা যখন মুরগি দেখছিল তখন পেছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে রাকার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়।

বন্যা বেগম দাবি করেন, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে। এরপর কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়।

ওসি আরো বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি আরো বলেন, রাকার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়েও জোড়ালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদি হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম, বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে।

গুদাম থেকে চাল আত্মসাতের অভিযোগে কর্মকর্তা আটক | কালের কণ্ঠ