• ই-পেপার

বাঁচার আকুতিতে ফেসবুকে ৫ পোস্ট, যেভাবে উদ্ধার সাজনের পরিবার

নোয়াখালী

সাঁতার শিখতে গিয়ে পানিতে ডুবে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
সাঁতার শিখতে গিয়ে পানিতে ডুবে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সাঁতার শিখতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে রমজান হাওলাদার (১১) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রমজান হাওলাদার একই এলাকার মো. রাসেল হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় মতইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহতের বাবা রাসেল হাওলাদার জানান, স্কুল শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরে রমজান তার মাকে জানায়, সে পুকুরে সাঁতার শিখতে যাবে। এসময় সে সঙ্গে দুটি প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। হঠাৎ একটি কল আসায় তার মা ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ছেলের সঙ্গে যেতে পারেননি। পরে রমজান একাই পুকুরে যায়। সাঁতার শেখার সময় অসাবধানতাবশত সে পানিতে ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর তার মা পুকুরঘাটে গিয়ে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে রমজানকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

সেনবাগ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভাঙ্গায় সুমন শেখ হত্যা : ১১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় সুমন শেখ হত্যা : ১১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা
সুমন শেখ। সংগৃহীত ছবি

ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) হত্যার ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সুমনের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

ভাঙ্গা থানা সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরো ৩০/৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমন শেখের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লায়।

এদিকে ভাঙ্গার সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের বাবা মিলন শেখ সাংবাদিকদের বলেন, হাসামদিয়া গ্রামের সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।

গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা ঈদগাঁহ মসজিদে সুমন শেখের জানাজা শেষে ঈদঁগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে সুমন হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসী বুধবার রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক আধা ঘণ্টার জন্য অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম : ১ নবজাতকের মৃত্যু, অন্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম : ১ নবজাতকের মৃত্যু, অন্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরই এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি চার নবজাতক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের চাঁদনি আক্তার (২০)। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহেই প্রসববেদনা শুরু হলে চাঁদনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তী আধাঘণ্টার মধ্যে আরও চার নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের কিছুক্ষণ পর একটি কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্র জানায়, চাঁদনির স্বামী মাহামুদুল হাসান ডলার (৩০)। দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তানসম্ভবা। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে আগে থেকেই জানা গিয়েছিল, চাঁদনির গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিরল হওয়ায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে চার নবজাতককে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। তারা সবাই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পর্যাপ্ত ইনকিউবেটর ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, সব নবজাতকের জন্ম হয়েছে মাত্র ২৮ সপ্তাহে। তাদের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় মায়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক পৃতীরাজ পাল চৌধুরী বলেন, পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় ওয়ার্ডে আনা হয়েছে। জীবিত চারজনেরই এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে সেই সুবিধা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এদিকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হলেও একজনকে হারিয়ে এবং বাকি চার নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনরা।

ফের দলবদল : আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন দুলু

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
ফের দলবদল : আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন দুলু
আলী আহমেদ দুলু। সংগৃহীত ছবি

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলী আহমেদ দুলু আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রায়পুরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তবে তার এ যোগদানের বিষয়ে বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনেও তার পাশে বিএনপির কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আলী আহমেদ দুলু বলেন, আমি কোনো দল করিনি, আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম। ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু করি। অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছি। তবে আমার মধ্যে বিএনপির আদর্শ ছিল। প্রকৃতপক্ষে আমি বিএনপিরই ছিলাম। ছাত্রদল করেছি। এখন আমি আমার ঘর, বিএনপিতে ফিরে এসেছি।

তিনি আরো জানান, নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা বিএনপি সভাপতির অনুমতি নিয়েই তিনি রায়পুরা প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

জানা যায়, আলী আহমেদ দুলুর রাজনৈতিক জীবনেও একাধিকবার দল পরিবর্তনের নজির রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার আগে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। প্রথমে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি এবং পরে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ লাভ করেন। এ ছাড়া রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন রাজনৈতিকভাবে নীরব ছিলেন দুলু। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় আবারও সক্রিয় হন এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন।

এদিকে, আলী আহমেদ দুলুর এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পুরা উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা বিএনপিতে প্রবেশ করলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা একসময় অবমূল্যায়িত ও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলী আহমেদ দুলুর দলবদলের সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণার বিষয়ে জানতে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বাঁচার আকুতিতে ফেসবুকে ৫ পোস্ট, যেভাবে উদ্ধার সাজনের পরিবার | কালের কণ্ঠ