kalerkantho

সোমবার । ৪ জুলাই ২০২২ । ২০ আষাঢ় ১৪২৯ । ৪ জিলহজ ১৪৪৩

আনসার ও ভিডিপি, নেত্রকোনা মদন

নির্বাচনী দায়িত্ব পেতে দিতে হয়েছে ঘুষ, ৫ মাসেও মেলেনি ভাতা

মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি    

২২ মে, ২০২২ ১৪:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচনী দায়িত্ব পেতে দিতে হয়েছে ঘুষ, ৫ মাসেও মেলেনি ভাতা

মদন উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়।

ভোটকেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি (অনিয়মিত খণ্ডকালীন) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেতে দিতে হয়েছে ঘুষ। ধার-দেনা করে ঘুষ দিয়ে দায়িত্ব পালনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সম্মানীভাতা পাননি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। নির্বাচনী দায়িত্বের নামে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার আনসার দলনেতারা, এমনই অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক আনসার সদস্যের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

টাকা নিয়ে অন্যজনের নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হয়েছিল কিশোরদের। উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে মোট এক হাজার ২২৮ জন আসনার-ভিডিপি সদস্য তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। অপরদিকে, মদন উপজেলা ছাড়া পাঁচটি উপজেলায় বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত ৫৯৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকারী এক হাজার ৮২৩ জন আনসার সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।  

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে মদন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ভোটৱগ্রহণের আগে ও পরে মোট চার দিন দায়িত্ব পালন করেন আনসার সদস্যরা।   প্রতি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন ১৭ জন সদস্য। এর মধ্যে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি), বাকি ১৫ জন নারী-পুরুষ সদস্য। প্রত্যেক পিসি ও এপিসি প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতা পাবেন ৫২৫ টাকা। আর সাধারণ সদস্যরা প্রতিদিন ৪৭৫ টাকা করে পাবেন। এর সঙ্গে খাবার, যাতায়াতসহ শ্রেণিভেদে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান প্রত্যেক সদস্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য অনেক আগে থেকেই আনসার বাছাইপ্রক্রিয়া শুরু হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা ইউনিয়ন দলনেতার মাধ্যমে এই বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এ সময় যারা এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকা  ঘুষ দিয়েছেন তাদেরকে কোনো রকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই দায়িত্ব দেওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর যারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাদের বয়স্ক ও দুর্বল উল্লেখ করে বাদ দেওয়া হয়। নির্বাচনী দায়িত্ব পেতে বাধ্য হয়ে আনসার সদস্যরা ঘুষ দিয়েছেন। আর এই ঘুষের টাকা দলনেতারা আদায় করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছেন। সম্মানীভাতার আশায় নির্বাচনী দায়িত্ব পেতে প্রান্তিক এসব নিরাপত্তাকর্মী অন্যের কাছ থেকে সুদে ঋণ করে ঘুষ দিয়েও এখন পর্যন্ত সম্মানীভাতার টাকা পাননি।

দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্য পৌর সদরের ফজলু মিয়া বলেন, নির্বাচনী ডিউটিতে আনসার নেবে শুনে মদন আনসার অফিসে যাই। অফিসের লোকজন বলেছে, টাকা না দিলে ডিউটি দেওয়া হবে না। পরে ঋণ করে ১৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে ডিউটি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাতার টাকা পেলাম না।

আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেন, মহব্বত, হাবিনুর, সাজ্জাত, জোলহাস মিয়া, খাইরুদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, নির্বাচনে ডিউটি দেওয়ার কথা বলে আনসার অফিসের দলনেতা ছোট্টন ও সোনিয়া আক্তার আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০০ টাকা নিয়েছেন। তিন উপজেলার নির্বাচনে ডিউটি করতে আমরা তিন হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে ডিউটি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা ভাতা পাইনি।

জানতে চাইলে আনসার দলনেতা ছোটন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলব। এখন ব্যস্ত আছি।

টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দলনেতা সোনিয়া মুঠোফোনে জানান, কে বলেছে আমি টাকা নিয়েছি তার নামটা বলেন। আপনাকে অনুরোধ করছি ভাই, এটি নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রিমী ফেরদৌসী বলেন, আমি নির্বাচনের পর মদন উপজেলার দায়িত্ব পেয়েছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অফিসের কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. গোলাম মৌলা তুহিন জানান, বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ভাতা দেওয়া হয়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়ার নামে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা