• ই-পেপার

১৮ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমার

পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় পুকুরে মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে রোহান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় মহিষের গোসল করা দেখতে গিয়ে শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রোহানকে মৃত ঘোষণা করেন। পানিতে ডুবে নিহত শিশু রোহান বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার হারুন রশীদের ছেলে। হারুন রশীদ পেশায় একজন মুদি দোকানদার। 

বাবা হারুন রশীদ বাড়িতে দোকানের কাজে ব্যস্ত আর মা বাড়িতে গৃহিণীর কাজ করছিল। এরমধ্যে শিশু রোহান বাড়ি থেকে বাহির হয়ে খেলতে খেলতে পুকুর পাড়ে গিয়ে মহিষের গোসল করা দেখতে থাকে। অসাবধানতাবসত শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়।

বৈগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. মশিউর রহমান বকুল পরিবারের বরাত দিয়ে জানান,  দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বৈগ্রাম দক্ষিণপাড়া ভাত ভঙ্গা কবরস্থান পুকুরে মহিষের গোসল করাচ্ছিল জনৈক ব্যক্তি। শিশু রোহান মা-বাবার অজান্তে বাড়ি থেকে বাহিরে এসে খেলতে খেলতে চলে যায় কবরস্থান পুকুর পাড়ে। সেখানে দাড়িয়ে থেকে মহিষের গোসল করা দেখতেছিল। 

অসাবধানতাবশত শিশু রোহান পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। মা-বাবা অনেক খোঁজার পরে জানতে পারে কবরস্থান পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে শিশু রোহানকে। মুহূর্তে সেই পুকুরে গিয়ে শিশু রোহানকে খুঁজতে শুরু করে বাবা হারুন রশীদ। পরে শিশু রোহান পানিতে ডুবে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দিতে শুরু করে বাবা। স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাকিমপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রোহানকে মৃত ঘোষণা করেন। 

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  দুপুর ১টার দিকে পুকুরে পড়ে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে নিয়ে আসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তবে ধারণা করা হচ্ছে পথিমধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

ফেনীতে পৃথক জায়গায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ফেনীতে পৃথক জায়গায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

ফেনীতে পৃথক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে শহরের নাজির রোড ও সদর উপজেলার শর্শদি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

নিহতরা হলেন ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া গ্রামের মৃত আলী আশরাফের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৬০) এবং ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি গ্রামের ইউছুফের ছেলে আবু সুফিয়ান তোরাব (২২)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ফেনী রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শহরের নাজির রোড এলাকায় রেজিয়া বেগম ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

অন্যদিকে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকায় পৌঁছালে আবু সুফিয়ান তোরাব ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, হাসপাতালের দুর্নীতিতে আপস নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি
স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, হাসপাতালের দুর্নীতিতে আপস নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হবে। 

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও প্রধানমন্ত্রী সব খাতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন, যার মধ্যে স্বাস্থ্য খাত অন্যতম অগ্রাধিকার।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই হাসপাতাল শুধু ফরিদপুর নয়, আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষেরও প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই এখানে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম চলতে পারে না। হাসপাতালে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।

রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ বলেন, রোগী হাসপাতালে এসে যদি সঠিক চিকিৎসা না পায় এবং চিকিৎসার অভাবে তাকে ঢাকায় পাঠাতে হয়, তাহলে সেটি হাসপাতালের অদক্ষতার পরিচয়। আমাদের লক্ষ্য হবে রোগী যেন এখানেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা পায়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে দুর্নীতি বন্ধ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে কোনো আপস করব না। কারণ এটি আমার দায়িত্ব ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত দিনের মতো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে বা অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সেটি সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতাল হবে মানুষের সেবার জায়গা, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর, হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কুণ্ডু, সহকারী পরিচালক ওমর ফয়সালসহ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজার

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ
মৌলভীবাজার এনসিপির মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন। সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা চান তিনি।

শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজার পুলিশ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন তাকে গলায় ছুরি ধরে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তাকে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালে মেরে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

তিনি আরো জানান, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ও মতবিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং এনসিপির অন্যান্য কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ ছাড়া কুলাউড়ার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডে আরেক দফা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং এতে দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

১৮ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমার | কালের কণ্ঠ