kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে যে কারণে ডুবল নৌকা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে যে কারণে ডুবল নৌকা

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা। এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটিতেই পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। অধিকাংশ ইউপিতে নৌকার শোচনীয় পরাজয় নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই এখন চলছে নানা গুঞ্জন।  

দলীয় কোন্দলই নৌকার পরাজয় ডেকে এনেছে বলে মনে করেন অনেক নেতাকর্মী।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৮ নভেম্বর) এই উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নে। একই উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (বীর প্রতীক) বাড়ি। আওয়ামী লীগের হেভি ওয়েট এই দুই নেতার উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত অধিকাংশ প্রার্থী ভোটের মাঠে টিকতে পারেননি। আট ইউপিতেই ‘স্বতন্ত্র’ মোড়কে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
 
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্বধলা ইউনিয়নে (সদর) আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদির ৩৫৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনি পঞ্চম অবস্থানে। এই ইউপিতে মোট ভোটার ২৫ হাজার ৩৫৬ জন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ১৭ হাজার ৬০৫টি। নিয়ম অনুযায়ী জামানত ফেরত পেতে প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ পেতে হয়। নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া ঘাঘড়া, আগিয়া, বিশকাকুনী ও গোহালাকান্দা ইউনিয়নে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তালিকাতেও নাম নেই নৌকা প্রার্থীর।

পূর্বধলা উপজেলার ভোটার ও নেত্রকোনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রতন বলেন, পূর্বধলায় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একপক্ষ স্থানীয় এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের অনুসারী। কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ হোসেনের সমর্থক আরেকটি পক্ষ। প্রায় সব কয়টি ইউনিয়নেই এমপির অনুসারীরা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। আহমদ হোসেনের সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেনি। তাই দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকার বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন অনেকেই। টানা তিনবারের এমপির সমর্থকদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। যে কারণে নৌকার ভরাডুবি।

পূর্বধলা ইউনিয়নের নৌকার পরাজিত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদির বলেন, নৌকার মনোনয়ন পেলেও দলের স্থানীয় নেতারা আমার বিরোধিতা করেছে। স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। দুই গ্রুপের দুজন আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন।

নেতারা বিরোধিতা করলে নৌকার মনোনয়ন পেলেন কী করে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতায় কেন্দ্রীয়ভাবে যোগাযোগ করে মনোনয়ন পেয়েছি। এতে পূর্বধলার নেতাদের কোনো হাত নেই। আমাকে কেমনে ফেল করানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা জানতে চাইলে আমি সব বলব।

পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান বলেন, নির্বাচনে আমরা কোনো দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করিনি। দলের ভেতরের লোকজনের বিরোধিতার কারণেই নৌকার প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। এতে আমার কী করার আছে।



সাতদিনের সেরা