• ই-পেপার

মা কারাগারে, মুক্তির দাবিতে দুই সন্তান রাস্তায়

র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)। ডাকাতির মামলা হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে—আশরফুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৮), সুমন (৩৬), সারোয়ার হোসেন সাগর (৩৫), সুমন ওরফে ক্যাপ সুমন (৩৫) এবং কাঞ্চন (৩৫)।

এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভুয়া র‌্যাব পরিচয়পত্র, পাঁচটি র‌্যাব লেখা কালো জ্যাকেট, পাঁচটি ক্যাপ, একটি মাইক্রোবাস, ছয়টি নম্বর প্লেট, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি পিস্তলের কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিন জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেরানীগঞ্জের কমদতলী এলাকায় ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ) এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিবি ওসি জানান, গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার আসামিরা একটি টয়োটা মাইক্রোবাসে করে সাভারের আকরাইন এলাকা থেকে খাগান বাজারের দিকে যাচ্ছেন।

পরে ডিবির একটি দল আকরাইন বাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরো জানান, আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার দোকান বন্ধ করে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণ, ৪০ ভরি রুপা ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে র‌্যাব পরিচয়ধারী একটি দল তার গাড়ি থামিয়ে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে ভবানীপুর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আশুলিয়া থানায় দায়ের করা ডাকাতি মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কঠোর : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কঠোর : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
নান্দাইলে উপজেলা পরিষদ হল রুমে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি : কালের কণ্ঠ

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। সেই লক্ষ সামনে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা হলরুমে জি আর চাল, দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে মানবিকতা উঠে গিয়েছে। এখন আর সম্মানিতদের সম্মান করা হয় না, যে যার মতো চলছে। এই অভ্যাস দূর করতে হবে। এই জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তা ছাড়া আমার মন্ত্রণালয় থেকে অনেক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের যে মানবিক আচরণ, মুরুব্বিদের প্রতি, ছোটদের প্রতি এমনকি পশুপাখিদের প্রতি যে আচরণ করা হতো তা হারিয়ে যাচ্ছে। আগে রাস্তা দিয়ে কেউ গেলে সালাম-ভদ্রতা দেখাতাম। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে বা যানবাহন বা প্লেনে গেলে দেখতাম সিনিয়রদের বসার জায়গা করে দিতে। অথবা চেয়ারটা এগিয়ে দিতে। এখন সব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিশু থেকে যুবক-যুবতীর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অনেক ধরনের পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন তথ্য চিত্র  ভিডিওর মাধ্যমে বড় পর্দা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তা প্রচার করা।

তিনি বলেন, আগে দেখেছি পরিচিত লোক বা প্রতিষ্ঠানে এমনকি রাজনীতি বিবেচনায় সহায়তা করা হতো। এখন সহায়তা করা হবে প্রাপ্য যারা তাদের। এখন সড়ক করা হবে ইট বিছানো। কাঁচা রাস্তায় অযথা টাকা ব্যয় করা হবে না। এখন আর কোনা কমিশন দিয়ে কাউকে কাজ করতে হবে না। কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা থাকবে। সরকারের সব উন্নয়নে জনগণকে পাশে থাকতে হবে। সরকার চায় যে যার জায়গা থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে।

তিনি বলেন, নান্দাইলের উন্নয়নে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায় ক্রমে সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হবে। এই জন্য দরকার সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নান্দাইল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত দিনব্যাপি ফল মেলার উদ্বোধন করেন। পরে তিনি পৌরসভার আমোদাবাদ মহল্লার একটি সড়কে তাল গাছ রোপণ করেন।

কেরানীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
প্রতীকী ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৫০০ টাকার বিনিময়ে বন্ধুকে ‘আব্বা’ ডাকতে বলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইমন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ মে) সকালে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ সাতপাখি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন রবিউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ইমন ও তাঁর বন্ধু আরাফাত হোসেন রবিউল (২৫) নদীপথে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে নৌকাযোগে নিজ এলাকায় ফেরার পথে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এলাকায় ফিরে রবিউল ইমনকে ছুরিকাঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ইমনকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমনের বাড়ি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ সাতপাখি এলাকায়। অভিযুক্ত রবিউলও একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল দাবি করেছেন, সদরঘাট থেকে ফেরার পথে ইমন মজা করে তাকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে ‘আব্বা’ ডাকতে বলেন। এ বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে সেই বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, অভিযুক্ত রবিউল থানার হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জে সিএনজি-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু, আহত ৫

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে সিএনজি-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু, আহত ৫
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিনথিয়া রহমান হুমাইরা (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিনথিয়া রহমান হুমাইরা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মো. আশিকুর রহমান শামীমের মেয়ে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ঢাকামুখী একটি সিএনজি অটোরিকশাকে একই দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে এতে থাকা শিশু হুমাইরা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এসময় তার মা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক, নিহত শিশুর বাবা-মাসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান জানান, প্রাইভেট কারটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর গাড়িটির চালক পালিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মা কারাগারে, মুক্তির দাবিতে দুই সন্তান রাস্তায় | কালের কণ্ঠ