kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

করোনায় নিয়ন্ত্রণহীন বগুড়া, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৪ জুন, ২০২১ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় নিয়ন্ত্রণহীন বগুড়া, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

বগুড়ায় লকডাউন সত্বেও যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে। জেলার দুটি হাসপাতলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো এখন কোন বেড ফাঁকা নেই। আইসিইউ, এসডিইউ (হাই ডিপেডেন্সি ইউনিট) কোথাও তিল পরিমান ঠাঁই নেই। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপে শয্যা সংখা ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৬৪ করা হয়েছে।

বগুড়ায় পৌর এলাকা ও সদর থানায় সর্বাত্মক স্বাস্থ্যবিধি আরোপের পঞ্চম দিনেও মানুষ ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দিনের বেলা পুলিশ কিছুটা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলে মানুষ কথা শুনছে না। প্রচন্ড চাপে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। এ ছাড়া রাতেও স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষো করে বাজার, দোকান বসছে। চলছে প্রাইভেটকার, সিএনজি থ্রি-হুইলার আটো রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে।

পৌর এলাকার পুলিশ সুপারের বাসভবনের কয়েক গজ দূরে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে বৌ বাজারে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিটি দোকান ও হোটেলে বেচাকেনা চলে। সেখানের জমজমাট চায়ের দোকানে যুবকরা আড্ডায় মেতে ওঠে। পৌর এলাকার মালতিনগর, রহমাননগর, বাদুড়তলা, সেউজগাড়ীতে মানুষ ঘরে থেকে বেরিয়ে জটলা করে আড্ডা দেয়। অথচ জেলা প্রশাসনের বিধি-নিষেধে বিকাল তিনটার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে কারণে বগুড়ায় মৃত্যুর মিছিল কমছে না। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবারও বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট আটজন মারা গেছে। এটি জেলায় একদিন সর্বোচ্চ মৃত্যু।

জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বৃহস্পতিবার করোনা আপডেট দিতে গিয়ে বলেন, আমারা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। বগুড়ার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যল কলেজ (শেজিমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আটটি আইসিইউ, পাঁচ এসডিইউসহ ১০০ করোনা শয্যা আছে। তবে রোগীর পরিমাণ বাড়ায় তিল পরিমান জায়গা নেই। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

বগুড়া মোহম্মদ আলী হাসপাতলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ১১৬ বেড নির্ধারিত ছিল। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে আরো ৪৭ বেড বাড়িয়ে এখন ১৬৪ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। তবুও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন রোগী আসা অব্যাহত আছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতলের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, তাদের হাসপাতালে আটটি আইসিইউ বেডের মধ্যে ছয়টি বেড ভালো আছে অন্য দুইটি বর্তমানে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার খারাপের কারণে অচল হয়ে রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ক্রান্তিকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় সামাজিক সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। লকডাউন আরো কঠোর না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। চিকিৎসকদের করার কিছু থাকবে না। যত দিন সকলকে করোনা টিকার আওতায় না আনা যাবে ততো দিন স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।



সাতদিনের সেরা