• ই-পেপার

শচিনের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় ১৫ বছরের সূর্যবংশী

একই সময়ে দুই স্টেডিয়ামে ইনফান্তিনো! ভাইরাল ছবির রহস্য কী

ক্রীড়া ডেস্ক
একই সময়ে দুই স্টেডিয়ামে ইনফান্তিনো! ভাইরাল ছবির রহস্য কী
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ দিনে ঘটেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। একই সময়ে দুই ভিন্ন স্টেডিয়ামে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ফুটবলভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি কেউ কেউ মজাও করছেন, ইনফান্তিনো কি আদৌ মানুষ, নাকি তার যমজ ভাই রয়েছে!

গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ দুই ম্যাচ—ইকুয়েডর বনাম জার্মানি এবং কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট—একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ চলাকালে দুই স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ইনফান্তিনোকে একই আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তৈরি হয় ধোঁয়াশা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো নয়, এবারের আসর তিনটি দেশে এবং চারটি ভিন্ন টাইম জোনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে সর্বোচ্চ দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৮০০ মাইল। ফলে একই সময়ে দুটি ভিন্ন স্টেডিয়ামে ইনফান্তিনোর উপস্থিতি কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকে।

এ ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন লিখেছেন, ‘তিনি কি সত্যিই বাস্তব মানুষ?’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এখন মনে হচ্ছে ভিনগ্রহবাসী নিয়ে যে গুঞ্জন ছিল, সেটাই হয়তো সত্যি!’ কেউ আবার রসিকতা করে বলেন, ‘আগে যেমন এন’গোলো কান্তে পুরো মাঠ কভার করতেন, ইনফান্তিনো এখন পুরো বিশ্বকাপ কভার করছেন।’

আরেক সমর্থকের ধারণা, ‘সম্ভবত ইনফান্তিনোর একজন যমজ ভাই আছেন।’

যদিও বাস্তবে একই সময়ে দুই ম্যাচে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, একদিনে একাধিক ম্যাচ মাঠে বসে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এজন্য তিনি কাতার এয়ারওয়েজের দেওয়া একটি ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন শহরে দ্রুত যাতায়াত করছেন।

ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে ফিফার কাছে ব্রাজিলের অভিযোগ, টানা হলো মেসির প্রসঙ্গ

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে ফিফার কাছে ব্রাজিলের অভিযোগ, টানা হলো মেসির প্রসঙ্গ
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাতিল হওয়া গোলকে কেন্দ্র করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা একটি গোলের উদাহরণ টেনে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারে একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণের দাবি জানিয়েছে তারা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুসের একটি গোল প্রথমে স্বীকৃতি পেলেও পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে স্কটিশ এক ডিফেন্ডারকে ‘ফাউল’ করেছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। তবে মাঠের রেফারি মেক্সিকোর সিজার রামোস শুরুতে কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম এস্তাদাও-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে সিবিএফ জানায়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভিএআর কেবল স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুলের ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিযোগের পক্ষে উদাহরণ হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার ম্যাচে লিওনেল মেসির প্রথম গোলের কথাও উল্লেখ করেছে ব্রাজিল। তাদের দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতিতে সেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। তাই সব দলের ক্ষেত্রে সমান ও স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।

চিঠিতে সিবিএফ আরো বলেছে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়; বরং বিশ্বকাপজুড়ে ভিএআর ব্যবহারে ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং সব দলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া স্কটল্যান্ড ম্যাচে রেফারি হিসেবে সিজার রামোসকে নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ব্রাজিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও তার একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সিবিএফের দাবি, সেই অতীত বিবেচনায় নিয়ে ফিফার অন্য রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

তবে এই বিতর্কের মধ্যেও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। রাউন্ড-৩২-এ আগামী ২৯ জুন তারা জাপানের মুখোমুখি হবে।

প্যারাগুয়েকে অপেক্ষায় রেখে নকআউটে উঠল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
প্যারাগুয়েকে অপেক্ষায় রেখে নকআউটে উঠল অস্ট্রেলিয়া
গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয় প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার লড়াই। ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া ছিল দুই দলই। তবে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয় প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার লড়াই। এই ড্রতেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া, আর শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে প্যারাগুয়েকে।

শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই জ্যাকসন আরভিনের শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এরপর জর্ডান বস, ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো ও নেস্টোরি ইরানকুন্ডার কয়েকটি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে প্যারাগুয়েও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে। গ্যাব্রিয়েল আভালোস, হুলিও এনসিসো এবং দিয়েগো গোমেজ গোলের চেষ্টা চালালেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ দৃঢ়তায় ভাঙন ধরাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরো বাড়ে। ৫০ মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকান প্যাট্রিক বিচ। অন্য প্রান্তে জর্ডান বস ও টেতে ইয়েঙ্গির নেওয়া শটও আটকে দেন অরল্যান্ডো গিল। যোগ করা সময়েও দুই গোলরক্ষক গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেভ করে নিজেদের দলকে হার এড়ান।

শেষ পর্যন্ত ৯৫ মিনিটের লড়াই শেষে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ শেষ হয় ০-০ সমতায়।

এই ড্রয়ের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'ডি' থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। আর শেষ ৩২ এ জায়গা পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় তাকতে হচ্ছে প্যারাগুয়েকে। 

শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের

ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তুরস্ক। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নকআউটের স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবল সম্মান রক্ষার লড়াই। সেই ম্যাচেই দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্দা গুলেররা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তুরস্ক। 

তবে এই জয়ে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথম দুই ম্যাচে হারায় আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয়েছে তুর্কিদের। অন্যদিকে হারলেও আগেই নকআউট নিশ্চিত করে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ৩২-এর টিকিটে কোনো প্রভাব পড়েনি। চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে পা রাখছে তারা। 

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল স্বাগতিকদের দারুণভাবে। ম্যাচের আড়াই মিনিটেই কর্নার থেকে ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। ১০ মিনিটে দলীয় আক্রমণ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা আর্দা গুলের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৩১ মিনিটে এরেন এলমালের বাড়ানো বল থেকে অরকুন কোকচু গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই ব্যবধান নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।

বিরতির পর আবারও সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৯ মিনিটে সেবাস্তিয়ান বারহাল্টারের দূরপাল্লার জোরালো শটে স্কোরলাইন হয় ২-২।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ হলেও গোলের দেখা মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় কান আয়হান। তার সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে তুরস্ক।

তবে জয় পেয়েও হাসতে পারেনি তুরস্ক। প্রথম দুই ম্যাচে হারের কারণে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল তারা।