• ই-পেপার

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি

আক্রান্ত বেশি তরুণরা, মৃত্যুহার বেশি বয়স্কদের

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

অনলাইন ডেস্ক
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
থানার কলাপসিবল গেটের অপরপ্রান্ত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কথা বলছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম। পাশে দাঁড়িয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান ও পুলিশের অন্য সদস্যরা। সংগৃহীত ছবি

রংপুর মহানগরীতে থানার ভেতরে এক সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মারধরের শিকার ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছিল। ওই যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানায় আনা হয়। ওই যুগলের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। লাভলু নামে এক নেতার ডাকে থানায় যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

অভিযোগ রয়েছে, থানায় গিয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়।

রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্ধার করা প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে পকেট থেকে তিনি ফোন বের করলে ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, এখানে ওসি, এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারল। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। আমার নামে ১৩টা মামলা, আমি ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার। তারপরেও তারা আমাকে মেরে চোখটা কি রকম করল, মাথায় দুই জায়গায় মারছে। বন্দুক দিয়ে মারছে। আমার ফোন দুইটা কেড়ে নিয়েছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীর মত রয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, মারধরের পর পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে রক্তমাখা তুলা দেখান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন দেখান।

খবর পেয়ে থানায় যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ওই যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় থানার ভেতরে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, রাকিবকে পুলিশ ধরে মারল, আমারও মাথায় ঘুসি তুলছিল। শুধু বাচ্চা দুইটাকে ধরে মারছে, এটা দেখে নিষেধ করায় অপরাধ হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্যরা জানান, ওসি নিজেই স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা রাকিবকে পিটিয়েছে। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন সামসুজ্জামান সামু। বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের হেয় করে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পোশাক চেঞ্জ হয়েছে, কিন্তু পুলিশের চরিত্র চেঞ্জ হয়নি। তাদের রক্তে এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারী গন্ধ পাওয়া যায়। আমরা জানি পুলিশ মানবিক, কিন্তু পুলিশের এই আচরণ আশা করিনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে থানা ঘেরাও করা হবে।

এদিকে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের ওসি আজাদ রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা থামান।

তবে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কাপড়ে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, এরকম অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট (ক্লোজড) করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।

একইসঙ্গে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি, ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতয়ালী সুকুমার রায়কে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক

দেবীদ্বারে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে একজন নারী নিহত ও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। আহতদের দেবীদ্বার ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ১টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আফরোজা পরিবহনের একটি নাইট কোচ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত নারী যাত্রীর নাম লিজা আক্তার (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মীর করিমের স্ত্রী। তিনি চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত ৩টা নাগাদ অভিযান চালিয়ে নিহত নারীর লাশ ও আহতদের উদ্ধার করেন। চান্দিনা থানার ইলিয়েটগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ি থেকে রেকার আসতে বিলম্ব হওয়ায় আহতদের উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে।

রবিউল নামের আহত এক যাত্রী জানান, বাস চালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার পর থেকে গাড়ি এলোমেলোভাবে চালিয়ে আসছিলেন। আমরা তাকে সতর্কও করেছি। দেবীদ্বার এলাকায় আসার পর হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে কাত হয়ে পড়ে যায়। অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমের ঘোরে ছিলেন। গাড়িতে প্রায় ৪০/৪৫ জন যাত্রী ছিলেন।

দেবীদ্বার থানার এসআই সাগর সাহা ঘটনাস্থল থেকে রাত ৩টায় জানান, চালক সম্ভবত ঘুমের ঘোরে থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায়। দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত ৭ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমেক হাসপাতালে এবং বাকিদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছি। আমরা থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ করেছি। রেকার আসলে বাসটি উঠানোর পরই বলা যাবে বাসের নিচে আর কেউ আছে কি না।

নিজ বাসায় কারামুক্ত আইভী, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নিজ বাসায় কারামুক্ত আইভী, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় এসে উঠেছেন। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় আসেন তিনি।

এসময় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরো অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।

এদিকে আইভীর আইনজীবী অ্যাড. আওলাদ হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আমি ও তার পরিবারের লোকজন আসি। সেই সঙ্গে রাত ১০টায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে অর্ডার দিয়েছে সেগুলি নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করি। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌঁছেছে।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আবারও আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আরও দুইটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কারাভোগ করছেন।

সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তাঁর কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে মেয়র পদে টানা জয়ী হন তিনি।

রামগতিতে হেফজখানার নির্মাণ কাজে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
রামগতিতে হেফজখানার নির্মাণ কাজে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে একটি হেফজখানা মাদরাসার জমি দখল ও নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রব রোড নামের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা গেছে, হেফজখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের রব রোড এলাকার মালেক কম্পানি মসজিদ সংলগ্ন ৬৩ শতক জমি কিনেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন। বুধবার সকালে ওই জমিতে নির্মাণ কাজের জন্য মাটি ভরাট করতে গেলে স্থানীয় সোলাইমান দফাদারের ভাড়াটে লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে হামলা চালায়। এতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় হামলায় উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন জমির মালিক জামাল উদ্দীন, ছেলে সুমন, পথচারী মামুন, প্রতিপক্ষের মরিয়ম বেগম, শরীফা খাতুন, সাকিবুর রহমান ও সুরমা আক্তার। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভুক্তভোগী জামাল উদ্দীন বলেন, হেফজখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে তিনি এ জমি কিনেছেন। সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জমিগুলো দখলে নিতে চায়। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক সালিশে জমির মালিকানার বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও দখলবাজ সোলাইমান ও তার ভাড়াটে লোকজন জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আজকে আমরা কাজ করতে গেলে তাদের ভাড়াটে লোকজন দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আমাদেরকে।

অভিযুক্ত সোলাইমান দফাদারের সঙ্গ যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। দুপক্ষের কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্রান্ত বেশি তরুণরা, মৃত্যুহার বেশি বয়স্কদের | কালের কণ্ঠ