চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসে। তবে বস্তা সংকটের কারণে উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষক।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই হাজার ৩৭৩ টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পাটের বস্তার সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট দূর করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন।
কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘দিন দশেক আগে আমি ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার কারণে ধান দিতে পারছি না।‘
সজল সরকার নামের কৃষক বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে ধান দিতে না পারায় খুব সমস্যায় আছি। ধান বিক্রি করছি টাকার জন্য। কিন্তু সময়মতো টাকা না পেলে পরে টাকা দিয়ে কী হবে।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করেছি। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা না, সুনামগঞ্জ জেলার গুদামেও বস্তা সংকট চলছে। আমাদের উপজেলায় আপাতত ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি খুব শিগগির বস্তা চলে আসবে। তখন পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’





