• ই-পেপার

সুজন নামের কুজন

  • কেরানীগঞ্জের মাটি লুটেরা এখন শতকোটি টাকার মালিক

৩ দিনেই উঠে গেল নতুন সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

অনলাইন ডেস্ক
৩ দিনেই উঠে গেল নতুন সড়কের পিচ, কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

নির্মাণের মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একটু টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে রাস্তার সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন।

ঘটনাটি ঘটে খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করায় নির্মাণের কয়েকদিনের এ মাথায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হাতের টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। এ সময় সড়কের ওপর একটি রোলার গাড়ি দেখা গেলেও সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সড়কের মাঝামাঝি অংশে নতুন একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও তার পাশেই পুরনো একটি কালভার্ট ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, পুরনো কালভার্ট না ভেঙ্গে তার ওপর দিয়েই পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে দেওয়া পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে শুরু করলে আজ বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন।

মহারাজপুর ইউনিয়নের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, রাস্তার ওপর খুবই পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে দেওয়া পিচ এখন হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) আবার ধুলাবালির ওপর পিচ দেওয়া শুরু হলে এলাকাবাসী বাধা দেন।

সড়কের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা মো. শহিদুল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে রাস্তা, তারপর খাল। খালের পাড়ঘেঁষা অংশটা অনেক নিচু। সেখানে আজ পিচ দেওয়ার পর রোলার চালাতেই ফাটল ধরেছে। এভাবে কাজ হলে বর্ষার সময় সড়কের ওই অংশ ধসে পড়বে।’

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ একই প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার ওপরের অংশ কিছুটা উঠে যাওয়াকে অনেকেই সমস্যা ভাবছেন। কিন্তু এটি কাজের একটি ধাপ। প্রথমে লেভেলিং করা হয়, পরে সিল কোট দেওয়া হয়। এখনো আরো এক দফা পিচ দেওয়া হবে। তখন রাস্তা মজবুত হবে। মূলত ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় প্রয়োজন। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য পুরনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিটুমিন দেওয়ার পরও ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভয়নগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
অভয়নগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা বাদশা বুলবুলকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাদশা বুলবুল উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হরিশপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্যার ছেলে।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা বাদশা বুলবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হরিশপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

ভোলা

বিদ্যালয় রয়েছে, তবু শিক্ষাবঞ্চিত চরের শিশুরা

শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা প্রশাসনের তদারকির অভাব শিক্ষক ও ভবন সংকট

ইকরামুল আলম, ভোলা
বিদ্যালয় রয়েছে, তবু শিক্ষাবঞ্চিত চরের শিশুরা
শিক্ষক মাত্র একজন। তিনিও আসেননি। তাই খেলাধুলায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারজানার চরে অবস্থিত চর জহির উদ্দিন রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছবি: কালের কণ্ঠ

নাগর পাটোয়ারীর চরের অবস্থান ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝে। চরের পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭৫ জন। শিক্ষক মাত্র একজন। গত ছয় মাসে একদিনও পাঠদান হয়নি এ বিদ্যালয়ে। দায়িত্বরত শিক্ষক মো. বাবলু মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও হয় না পাঠদান। 

শুধু পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, জেলার বিচ্ছিন্ন চরগুলোর প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমই কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ । সরকারি হিসাবের খাতায় চরগুলোতে বিদ্যালয় রয়েছে, তবে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সেখানকার শিশুরা। 

সম্প্রতি পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায় সেখানকার অফিসকর্মী মো. কবিরকে। সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের বারান্দা ঝাড় দিচ্ছিলেন তিনি। তখনো কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসেনি। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন শিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন কবির।

ডেকে আনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সালমা ও মো. নূর হোসেন নামের দুইজন জানায়, চলতি বছর ভর্তির পর থেকে মাত্র দুই দিন তাদের ক্লাস হয়েছে।

চরের বাসিন্দা মো. ফিরোজ আলম জানান, চরে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু শিক্ষক নেই। পূর্ব বিশারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন মাত্র শিক্ষক। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি মিড-ডে মিলের যে খাবার আসে, তা পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

মো. নোমান হাওলাদার নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়টিতে গত ছয় মাসে একদিনও ক্লাস হয়নি। একজন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি সপ্তাহে এক-দুইদিন থাকেন, আবার চলে যান। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি যে খাবার আসে, তার মধ্যে কিছু স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। বাকি খাবার নানা অজুহাতে শিক্ষক বাবলু নিয়ে যান। 

স্থানীয়রা জানান, তারা বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকদের অনীহার কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবলু জানান, তিনি একাই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক। বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক কাজে উপজেলায় থাকতে হয়। এ সময় পাঠদান বন্ধ থাকে। মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চরের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে তেমন উপস্থিত থাকে না। তাই নষ্ট হয়ে যাবে বিধায় মিড-ডে মিল পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।’

তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফারাজানার চরে অবস্থিত চর জহির উদ্দিন রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে  ৭৫ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে একজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু তিনিও অধিকাংশ সময় আসেন না। তার পরিবর্তে কলেজপড়ুয়া শাকিল নামের স্থানীয় এক যুবককে দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কলেজ পড়ুয়া যুবক মো. শাকিলকে ক্লাস নিতে দেখা যায়। শাকিল জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম তাকে ক্লাস পরিচালনার জন্য রেখেছেন। তিনি চরের শিশুদের কথা চিন্তা করে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে বেতন থেকে তাকে মাসে কিছু সম্মানি দেন শিক্ষক রাকিব।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. তসলিম উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, একজন শিক্ষকের পক্ষে একটি বিদ্যালয় চালানো সম্ভব না। এছাড়া বিদ্যালয়টি একটি টিনের ঘরে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলামের দাবি, তাকে বিদ্যালয়ের কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে  থাকতে হয়। তাই শাকিল নামের স্থানীয় এক যুবক তাকে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন।

উপজেলার চর লাদেনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অবস্থিত মোহাম্মদ ভেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলছে একটি টিনের ঘরে। বিদ্যালয়ের তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন একজন মাত্র শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রনি কর্মকার জানান, তার বিদ্যালয়ে ছয়জনের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে চলতি বছরের শুরু থেকেই একজন  অনুপস্থিত। আরেকজন পারিবারিক কাজে ছুটিতে রয়েছেন। তাই তিনি একাই তিনটি শ্রেণির পাঠদান করেন।  বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

এদিকে, শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চর মোজাম্মেলে অবস্থিত পশ্চিম রামদেবপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও চর মোজাম্মেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এর মধ্যে পশ্চিম রামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতজনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে একজন প্রশিক্ষণে থাকায় ৭১ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে হয় দুইজন শিক্ষককে।

চর মোজাম্মেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শ্রেণি কার্যক্রম চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। সেখানে চারজন শিক্ষক থাকলেও একজনকে ডেপুটেশনে অন্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে, একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে রয়েছেন এবং একজন ছুটিতে। তাই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন চন্দ্র দাসকে একাই সামলাতে হচ্ছে ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল ও চর জহির উদ্দিনে মোট ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৯ জন শিক্ষক অর্থাৎ ৩০টি পদ শূন্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বরত শিক্ষকরাও আসেন তাদের ইচ্ছামতো। কিছু স্কুল চলে পক্সি শিক্ষক দিয়ে। প্রশাসনের  নেই কোনো তদারকি। ফলে চর দুটির প্রায় ৮০০ শিশুর শিক্ষা জীবনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার বুকে জেগে ওঠা অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পৃথক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এসব চরে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে জীবন ধারণ করেন।

শিশুদের শিক্ষার জন্য জেলার অর্ধশতাধিক দুর্গম চরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার শিক্ষার্থী সংখ্যা আট হাজার ৫২১ জন। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবসহ নানা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে চরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে সরেজমিনে ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত মদনপুর ইউনিয়নে প্রাথমিক শিক্ষার একই অবস্থা দেখা যায়। সেখানে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে দুই-একজন ছাড়া বাকিরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত নন। আবার কোনোদিন এলেও সকালে এসে দুপুরের আগেই চলে যান। এতে পাঠাদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা।  ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার না হতেই ঝরে পড়ছে তারা। 

চরে অবিস্থত চর পদ্মা মকবুল আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শিহাব উদ্দিন জানান, চরে শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। একেকটি   বিদ্যালয়ে দুই-তিনজন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তার বিদ্যালয়ে গত বছর পঞ্চম শ্রেণিতে ১৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র দুইজন। অভিভাবকদের অনেক বুঝিয়েও তাদের পরীক্ষায় বসানো যায়নি। 

তজুমিদ্দন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম কালের কণ্ঠকে জানান, মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত চর মোজাম্মেল ও চর জহির উদ্দিনে মোট ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৬। সেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে চরাঞ্চলের পদায়ন করা হবে। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জেনে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

দর্শনায় মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দর্শনায় মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি রায়সা বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে থেকে বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের একটি ভবনের সামনে সংস্কারকাজ চলাকালে শ্রমিকরা লাল রঙের টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং তাতে ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি দর্শনা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে।

কুড়লগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার নিষিদ্ধঘোষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে তারা এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।

সুজন নামের কুজন | কালের কণ্ঠ