• ই-পেপার

ক্ষিপ্ত স্বামীর থাপ্পড়ে প্রাণ গেল নববধূর

জিয়ানগরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
জিয়ানগরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের জিয়ানগরে দুর্ঘটনায় ডুবে জাওয়া জাহাজ থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল ৫ ঘটিকার সময় উপজেলাধীন ১নং পারেরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকা থেকে জিয়ানগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান চালিয়ে এ লাশ উদ্ধার করে।

মো. আব্দুল্লাহ পাড়েরহাট ইউনিয়নের  উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছোট ছেলে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ অবস্থায় ছিল। তাকে বহু খোঁজাখুঁজি করার পরে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় দুর্ঘটনায় ডুবে থাকা এম ভি গ্রীন এসট্রল-১ নামের একটি জাহাজের পাশে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় তার ব্যবহৃত জুতা এবং জাহাজের সিঁড়ির ওপর তার মোবাইল দেখতে পেয়ে আব্দুল্লার বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিহত আব্দুল্লাহর বড় ভাইর রানা জানান, তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। আমি থানায় ডায়েরি ও করেছিলাম। আমার ভাই ওই জাহাজের কাছে কেন এবং কিভাবে গেছে সেটা আমি বুঝতেছিনা।  আমার ভাইয়ের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা সেটা ময়না তদন্তের পরে বুঝতে পারব। 

জিয়ানগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোহাব্বত খান জানান, নিহত আব্দুল্লার ভাই রানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে আব্দুল্লাহকে উদ্ধারের  জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিসকে  চিঠি পাঠাই। ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের যৌথ অভিযানে আজ বিকেলে আব্দুল্লাহর লাশ অর্ধগলিত অবস্থায় জাহাজের ভিতর থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

তিনি আরো জানান, জিয়ানগর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদারীপুরের সেই রেস্তোরাঁয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মাদারীপুর
মাদারীপুরের সেই রেস্তোরাঁয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরে একটি রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ৪০ জন অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের দায়ে রেস্তোরাঁ মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় শহরের পুরানবাজার এলাকার আরএফসি রেস্টুরেন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল মঈন শিকদার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার আরএফসি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে বেশ কয়েকজন ক্রেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত থেকে মাদারীপুর পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে একে একে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন। রবিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অসুস্থদের অভিযোগ, রেস্তোরাঁটির অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল মঈন শিকদার বলেন, ‘তদন্তে রেস্তোরাঁটির খাবার সংরক্ষণ ও প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের তেল ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে মালিক মো. রেজাউলকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।’

অভিযানের সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড, আরো যা জানা গেছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড, আরো যা জানা গেছে

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। বর্তমানে তিনি পুলিশের পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তার শরীরে কোনো গুরুতর শারীরিক জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জিসানের প্রকৃত শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নির্ণয়ে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে কুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

রবিবার (১৪ জুন) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে আহ্বায়ক করে গঠিত বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন এবং মনোরোগবিদ্যা বিভাগের একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় বোর্ডের সদস্যরা জিসানকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা সম্পর্কে মতামত দেবেন।

হাসপাতাল সূত্র মতে, জিসানের অসুস্থতার দাবি এবং তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থার মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, সেটিও বোর্ডের মূল্যায়নের আওতায় থাকবে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য কোনো জটিলতা ধরা পড়েনি। বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা কিংবা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে জিসানের পরিবার দাবি করছে, তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়।

জিসানের ভাই অ্যাড. রাসেল রাফি বলেন, হাসপাতালে আমার বাবাই ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সে চোখ খুলতে পারছে না, ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক বলেন, ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আদালতে হাজির করা হবে।

ওসি আরো জানান, মামলার বাদী নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি তার বাবার হেফাজতে রয়েছেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই প্রতিবেদন তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি উঠলেও পরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান। একই সঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনের দিকেও নজর রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্বৃত্তদের ফাঁকা গুলিবর্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত বাড়িঘর ঘিরে রেখে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক জানান, রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। হঠাৎ রাত ১০টার দিকে একাধিক গুলির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার বাড়ির উঠানে অবস্থান করে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা কাউকে খবর দিতে পারছিলাম না। খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। বাড়ির দিকে প্রচুর গুলি ছোড়া হচ্ছিল।

জুম্মাপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য ইলিয়াস বলেন, আমি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছি না। আমার সামনে ১০ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত অবস্থান করছে। তারা এলাকার বিভিন্ন বাড়িঘর ঘিরে অতর্কিত গুলি করছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।

স্থানীয় মো. হোসাইন বলেন, আমি বর্তমানে কক্সবাজারে আছি। বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও সন্তানরা ভয়ে কান্নাকাটি করছে। আমাদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চাই।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসলেও পরে দুর্বৃত্তরা আবার সুযোগ নিতে পারে। এলাকায় নিয়মিত টহল ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছি। পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ক্ষিপ্ত স্বামীর থাপ্পড়ে প্রাণ গেল নববধূর | কালের কণ্ঠ