প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন নাভিশ্বাস, তখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জানা যায়, শিবচর পৌর অঞ্চলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর নিয়ম করে লোডশেডিং করা হলেও গ্রাম অঞ্চলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। আবার কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, শিবচর উপজেলায় ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট। এ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট যা অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হয়।
পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়। আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হইতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসারে বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের রোগীরা খুব কষ্টে আছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া বলেন, হাসপাতালে আইছি সুস্থ হইতে, কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গরমে মনে হয় দমই বন্ধ হইয়া যাইব। সারাক্ষণ ঘেমে থাকি, চোখে ঘুম আসে না। এই কষ্টে রোগ ভালো হওয়ার বদলে আরো বাড়তাছে।
এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, শিবচরে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।




