• ই-পেপার

এমসি কলেজে ধর্ষণ : ছয়জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
সংগৃহীত ছবি

প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন নাভিশ্বাস, তখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জানা যায়, শিবচর পৌর অঞ্চলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর নিয়ম করে লোডশেডিং করা হলেও গ্রাম অঞ্চলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। আবার কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, শিবচর উপজেলায় ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট। এ চাহিদার তুলনায়  সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট যা অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হয়।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়। আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হইতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসারে বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের রোগীরা খুব কষ্টে আছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া বলেন, হাসপাতালে আইছি সুস্থ হইতে, কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গরমে মনে হয় দমই বন্ধ হইয়া যাইব। সারাক্ষণ ঘেমে থাকি, চোখে ঘুম আসে না। এই কষ্টে রোগ ভালো হওয়ার বদলে আরো বাড়তাছে।

এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, শিবচরে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। 

পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে মো. খাদিম নামে একজন নিহত হয়েছন। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে সংঘর্ষ হওয়ায় টর্চ লাইটের আলো ব্যবহার করা হয়।

নিহত খাদিম মিয়া উপজেলার ধরন্তি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। সংষর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজন সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে মাছের পার্টি বিক্রির এক লাখ টাকা পাওনা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় মোশারফ মিয়া ধরন্তি  গ্রামের আলাল ও আশিক এর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চায়। এসময় মোশারফকে জানানো হয় যে খাদিম মিয়া টাকা দিতে বারণ করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতে সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়। 

সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের দেওয়া রায় ও নির্দেশনায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) রাত ১১টার দিকে ওয়ারেন্টভুক্ত মৃত আ. অদুদ মিয়ার ছেলে আমজাদকে (৫১) বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার একটি দল উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন একটি সাজা পরোয়ানাভুক্ত (সিআর) মামলার আসামি ছিলেন।

নরসিংদী জেলা দায়রা জজ আদালত এন আই অ্যাক্টের ১৩৮(১) ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাদী সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক আমজাদ ২০১৮ সালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপর গ্রামের জনৈক ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যক্তির নরসিংদীর তার নিজস্ব কাপড় ফ্যাক্টরি থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের চেক দিয়ে ৩০ লাখ টাকার পণ্য কিনেন। চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নরসিংদী কোর্টে মামলা করলে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের রায় প্রদান করেন। 

জানা গেছে, আমজাদ হোসেন ইতোমধ্যে বহু ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে চেক প্রদান বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সে টাকা আর পরিশোধ করত না। কিন্তু এবার তাকে আদালত ছাড় দেয়নি।

টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

টঙ্গীর শীর্ষ মাদক সম্রাজী আফরিনা বেগমের মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনসহ তার একাধিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল,  ইয়াবা ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। অভিযানে মাদক সম্রাজী আরফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তির জনৈক আমির হোসেনের ঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়।  আরফিনার একাধিক স্থাপনা ও গোপালপুর এলাকায় মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনে তল্লাসী করে ১১ পুঁড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬ টি মোবাইল ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনার ছয়তলা ভবনের এক ভাড়াটিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যাক্তির স্ত্রীকে সিগারেটে ইয়াবা ভরে খেতে পাওয়া যায়। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আরফিনার বাসায় ভাড়ায় এসে মাদক সেবন করছেন বলে সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তিতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। পদবিহীন জনৈক প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার আশ্রয়ে তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। ফলে সহজে কেউ কিছু বলতে পারে না। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নির্মূলের পূর্ব পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি, মাদক সেবী ও গডফাদার আইনের বাইরে থাকবে না। 

এমসি কলেজে ধর্ষণ : ছয়জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ | কালের কণ্ঠ