নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখল করে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশা। তিনি বলেছেন, আমার বাড়ি দখল করে নেন, তারপরও রাস্তার ফুটপাতে বসতে দিতে পারব না। প্রয়োজনে আমার বাসায় এসে ব্যবসা করুন, আমি ঘর ছেড়ে দেব; কিন্তু ফুটপাতে বসতে দেব না।
শনিবার (১৬ মে) রাতে হকারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, গত ৯ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বাসভবনে হকারদের সঙ্গে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের ছেলে আবুল কাওসার আশাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হকারদের পক্ষ থেকে ঈদ পর্যন্ত সড়কে বসে ব্যবসা করার সুযোগ চাওয়া হলে আশা বলেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই হকারদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তা না মেনে আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, আপনারা এতদিন রাস্তায় আন্দোলন করেছেন, বসার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন; কিন্তু আমাদের সঙ্গে এসে কোনো আলোচনা করেননি। জনগণকে কষ্ট দিয়েছেন। রাস্তা অবরোধ করে নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন।
আশা আরো বলেন, আমি যেকোনো সময় জনগণের জন্য উন্মুক্ত। রাত তিনটায়ও কেউ এলে দেখা করা যায়। আপনারা আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়।
বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে আল্লাহ ভালো সময় দিয়েছেন বলেই আপনাদের সঙ্গে সহজে বসে কথা বলতে পারছি। আগের সময়ে সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের কারণে আমাদের পালিয়ে থাকতে হতো।
হকারদের আন্দোলনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে হকারদেরও অবদান রয়েছে, আমরা সেটা ভুলে যাইনি। কিন্তু সে কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, অনেক হকার ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন ও মাস শেষে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়— বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিকল্প স্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে আশা বলেন, আমরা আপনাদের অন্য জায়গায় বসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সড়কে বসে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবেন না।
হকারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তাদের মধ্য থেকে দুই-তিনজন প্রতিনিধি এসে আলোচনা করলে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আপনারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছেন। এখন মামলা হয়েছে। এতে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়বেন।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানে জব্দ করা মালামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে মালামাল জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো অবৈধভাবে দোকানদারি করার কারণেই নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে একটি সমাধানের চেষ্টা করব।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে কালের কণ্ঠকে আবুল কাওসার আশা বলেন, হকাররা প্রচার করছেন যে তাদের ১০ দিন বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে— এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে হাঁটা একটি নাগরিক অধিকার। জনগণ, এমনকি আমরাও সেই অধিকার ভোগ করতে চাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি ফুটপাতে হকার বসার অনুমতি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ নই। বরং কেউ ফুটপাতে দোকান বসাতে চাইলে, সে যেই হোক না কেন, আমি তার বিরোধিতা করব।’








