• ই-পেপার

অবশেষে পুনর্বাসনের সহায়তা পেল বেতাগীর সেই পাগলি

যশোর

ঝোপ থেকে সন্ত্রাসী ‘চশমা সাইদের’ গলাকাটা লাশ উদ্ধার

যশোর অফিস
ঝোপ থেকে সন্ত্রাসী ‘চশমা সাইদের’ গলাকাটা লাশ উদ্ধার

যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি সাইদ সরদার ওরফে ‘চশমা সাইদকে’ (৩২) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাইদ সরদার রঘুরামপুর গ্রামের নয়া সরদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা ও মাদক-সংক্রান্তসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সাইদ সরদারের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পাশেই একটি ধারালো চাকু পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, মাদক ব্যবসা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মমিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, তরুণ নিহত

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, তরুণ নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে পিটুনিতে এক অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীর (২২) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়িতে জনতা ছিনতাইকারী সন্দেহে অজ্ঞাতনামা ওই তরুণকে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

দোকানের নাম বদলে ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’, জার্সি পরে এলে কেজিতে ছাড় ১০ টাকা

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও
দোকানের নাম বদলে ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’, জার্সি পরে এলে কেজিতে ছাড় ১০ টাকা
কাওসার আলীর সবজির দোকান থেকে সবজি নিচ্ছেন এক ক্রেতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাঙালির মাঝে টানটান উত্তেজনা, চারদিকে রঙের খেলা আর প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এই ফুটবলের উন্মাদনা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বাজারের অলিগলি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। বিশ্বকাপের আবহে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাঁচামালের আড়তে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সবজি ব্যবসায়ী কাওসার আলী।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কাঁচাবাজারের বাকি সব দোকান থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক কাওসার আলীর দোকানটি সম্পূর্ণ আলাদা। কাওসার আলী নিজের খুচরা সবজির দোকানটিকে সাজিয়েছেন নীল-সাদা রঙের আর্জেন্টিনার পতাকায়। পুরো দোকান ঘিরে রাখা হয়েছে অসংখ্য পতাকা দিয়ে। চারদিকে উড়ছে ছোট-বড় নানা আকারের পতাকা—যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনা এসে বসেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বাজারে।

আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার পতাকায় মোড়ানো কাওসার আলীর সবজির দোকান। ছবি : কালের কণ্ঠ

শুধু দোকানের সাজসজ্জাতেই থেমে থাকেননি কাওসার, বদলেছেন দোকানের নাম। দোকানটির নাম বদলে রেখেছেন আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার। দোকানের সামনে টানানো সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে নামটি। আর তার পাশেই আরেকটি আকর্ষণীয় ঘোষণা—‘আর্জেন্টিনার জার্সি পরে আসলেই কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত ছাড়।’

এ ঘোষণার পর থেকেই বাজারে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নরকম উৎসাহ। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে অনেক ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছেন কাওসারের দোকানে। কেউ কিনছেন শাক-সবজি, কেউ ফলমূল, আবার কেউ শুধু কৌতূহল মেটাতে এসে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে শুধু দেখতে আসছেন কাওসারের দোকান।

আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডারে সবজি কিনতে আসা রাহাত বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা তো কতই দেখেছি, কিন্তু জার্সি পরে সবজি কিনলে ১০ টাকা ছাড়—এমন কাণ্ড বাপের জন্মে শুনিনি! আমি কিছু বাজার করলাম। এতে মেসির প্রতি ভালোবাসাও প্রকাশ হলো, আবার পকেটের টাকাও কিছু বাঁচল।’

সবুজ মিয়া নামের আরেক আর্জেন্টিনা ফুটবলভক্ত বলেন, ‘আমি কিছু কিনতে আসিনি। আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডারের নাম শুনে দেখতে আসছি। আমার বাসা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এত দূর থেকেই আমার সঙ্গে আরো তিন জন আসছে।’

কাওসারের দোকান দেখতে আসা ব্রাজিলভক্ত মিরাজ বলেন, ‘আমি ব্রাজিলভক্ত, তবুও কাওসারের দোকানের কথা শুনে দেখতে আসছি। তার দোকানে সাজসজ্জা ও বিশেষ ছাড় বেশ ভালো লাগল।’

বাজারের নিয়মিত ক্রেতা রঞ্জু চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাজারে আসার পর কাওসারের দোকান চোখে পড়ে। কৌতূহলী হয়ে সেই দোকানে কেনাকাটা করতে যাই। আর্জেন্টিনার জার্সি না থাকায় কোনো ছাড় পাইনি। তবে কেনাকাটা করে ভালো লেগেছে।’

কাওসার আলী বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলে এই দলের খেলা নিয়ে আলাদা উত্তেজনা কাজ করে। তাই নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে দোকানটিকে আর্জেন্টিনার রঙে সাজিয়েছি। ক্রেতাদেরও একটু আনন্দ দিতে জার্সি পরে এলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি।’

স্থানীয়রা জানান, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এর আগে এই বাজারে দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন দোকানটি দেখতে। সকলে বলছেন এটি ফুটবল প্রেমের অনন্য প্রকাশ।

বিশ্বকাপের উত্তাপে যখন দেশজুড়ে চলছে প্রিয় দলকে ঘিরে নানা আয়োজন, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের এই ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’ যেন ফুটবল আর ব্যবসার এক অনন্য মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাজারের সাধারণ একটি সবজির দোকান এখন স্থানীয় মানুষের কাছে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

মসজিদে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মসজিদে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ, পাশে চিরকুট
মো. আমির হোসেন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি মসজিদ থেকে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই ইমামের নাম মো. আমির হোসেন (৪০)। তিনি ১৩ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করেছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। মসজিদের দোতলার একটি কক্ষে থাকতেন তিনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিরা ইমামকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় মরদেহের পাশে একটি ডায়েরি পড়েছিল। ডায়রি থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করে। 

‎‎মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মোতয়াল্লি মোহাম্মদ ইফতেকার আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার আসরের নামাজের সময় মুসল্লিদের নিয়ে তিনি (ইমাম) নামাজ পড়েন। কিন্তু মাগরিব ও এশার নামাজের সময় তিনি মসজিদে অনুপস্থিত ছিলেন।আমরা মনে করেছিলাম ইমাম সাহেব কোথাও কাজে গেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে খুঁজতে দ্বিতীয় তলায় জানালা দিয়ে দেখেন তার নিথর দেহ ফ্যানের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে। নিচে পড়ে আছে একটি মই।

‎‎সীতাকুন্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

অবশেষে পুনর্বাসনের সহায়তা পেল বেতাগীর সেই পাগলি | কালের কণ্ঠ