kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

সরকারি কলেজ মাঠ এখন গোচারণ ভূমি, চাষ হচ্ছে মাসকলাই

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৩:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি কলেজ মাঠ এখন গোচারণ ভূমি, চাষ হচ্ছে মাসকলাই

করোনাকালীন ছুটিতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের তিন একর আয়তনের মাঠে গো খাদ্য হিসেবে চাষ করা হয়েছে মাসকলাই। গত তিনদিন ধরে স্থানীয় খামারিরা মাঠের এই মাসকলাই কিনে গরুকে খাওয়ানো শুরু করেছেন। এতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজ চত্বরে গরু ও রাখালদের চলছে অবাধ বিচরণ। কলেজ ক্যাম্পাস দেখে মনে হয় এ যেন এক গোচারণ ভূমি। এ অবস্থা দেখে কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে চরম ক্ষোভ। এদিকে কলেজ মাঠে মাসকলাই চাষ ও বিক্রির টাকা নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও কর্মচারিদের মধ্যে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

জানা যায়, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কলেজটি প্রায় দু'বছর আগে সরকারি ঘোষণাকৃত জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ কলেজ ছুটি হয়। এরপর কয়েক দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় দুই মাস আগে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সাথে আলোচনা না করে প্রায় তিন একর আয়তনের কলেজ মাঠে গো খাদ্য হিসেবে মাসকলাই ঘাসের চাষ করে কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান তরুণ। বীজ বপনসহ সার্বিক দেখভাল করেন কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। অধ্যক্ষের এমন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে  কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কিন্তু অধ্যক্ষর প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে কোনো সদস্যই এর বিরোধিতা করতে সাহস পায়নি। গত সপ্তাহে মাঠের মাসকলাই স্থানীয় খামারীদের কাছে ৩০ হাজার এর অধিক টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর গত তিন দিন ধরে মাসকলাই খাওয়ানোর জন্য ২০ থেকে ২৫টি গরু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজ মাঠে বেঁধে রাখা হয়। গরুর বর্জ্যে মাঠ নোংরা হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কলেজ মাঠ পরিষ্কার হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। এতে পহেলা সেপ্টেম্বর কলেজ খুললে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এদিকে, কলেজ মাঠে মাসকলাই চাষ ও বিক্রির বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ার পর কর্মচারীদের ওপর এ ঘটনার দায় চাপাচ্ছেন অধ্যক্ষ। কিন্তু কর্মচারীরা অধ্যক্ষের নির্দেশেই কলেজ মাঠে গো খাদ্য হিসেবে মাসকলাই চাষ করেছেন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া তারা মাসকলাই বিক্রির কোনো টাকা পাননি বলেও জানান। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বিকালে পৌর শহরের কয়েকটি মহল্লার যুবকরা কলেজ মাঠে খেলাধুলা করে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে এসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিকালে সময় কাটাতো। কিন্তু অধ্যক্ষ স্বেচ্ছাচারিতা করে কলেজ মাঠে গরুর ঘাস আবাদ করে মানুষ প্রবেশ বন্ধ করে দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান তরুণ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কলেজ মাঠে মানুষের আনাগোনা রোধে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মাসকলাই ঘাস চাষ করেছেন। সেই মাসকলাই বিক্রির টাকা নিয়ে কর্মচারীরা কলেজের বাগানের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করবে। 

মাসকলাই চাষের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রবিউল ইসলাম বলেন, কলেজ মাঠে দিনভর মানুষের আনাগোনা থাকে। তাদেরকে বাহিরে যেতে বললেও যায় না। তাই কলেজ ক্যাম্পাসে মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে অধ্যক্ষ স্যারের পরামর্শে মাঠে মাসকলাই ঘাস চাষ করা হয়েছে। এখন মাসকলাই বিক্রির এই টাকা দিয়ে বাগানের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু ঘাস বিক্রি হয়ে গেলেও কোনো টাকা কর্মচারীদের হাতে আসেনি বলে তিনি জানান। 

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, কলেজের মাঠে ঘাস চাষ করে খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অধ্যক্ষ কিংবা পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য তাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা