• ই-পেপার

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর স্মরণে মানিকগঞ্জে নানা আয়োজন

দিনাজপুর

মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে যুবকের মৃত্যু

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মো. কামরুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ১ নম্বর বুলাকিপুর ইউনিয়নের বলগাড়ী (চণ্ডীদাসপুর) গ্রামে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 

বজ্রপাতে কামরুল ইসলাম চণ্ডীদাসপুর গ্রামের দিলদার রহমানের ছেলে।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্য মো. মঈনুল ইসলাম। তিনি পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, কামরুল মাঠের জমিতে কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত পড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

মুজিবনগর সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মুজিবনগর সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার পাথরঘাটা গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১১০ নম্বর মেইন পিলার দিয়ে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে।

নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোজাম্মেল হক জানান, বিএসএফ সদস্যরা পুশইনের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে তাদের ফেরত নেন।

চলতি মাসে মেহেরপুর সীমান্তে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬; ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্তে ৪; ২৫ জুন গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্তে ৭; ধলা সীমান্তে ৩ জন ও কাজিপুর সীমান্তে ২ জনকে পুশইনোর চেষ্টা করে।

ট্রলারসহ ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

উখিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি
ট্রলারসহ ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। রবিবার (২৮ জুন) সকালে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। তবে অপহৃত পাঁচজনই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন— মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) ও মো. আইয়ুব (২৪)।

আবুল কালাম বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যান জেলেরা। পরে ট্রলারটি ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে। এরপর ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যান তারা। এসময় আশপাশে থাকা আরো কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

তিস্তার পানি বাড়ায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি

বাসস
তিস্তার পানি বাড়ায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি
সংগৃহীত ছবি

ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমে গেলেও ভাটিতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উত্তরের ৫ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবা গেটগুলো খুলে দেয়। ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি বলেছেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। একাধিক পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ দিন থেকে পানিবন্দি থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেনি।

এদিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ,রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা,কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া জানান, তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি পাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক নজরুল হক বলেন, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক বুলু মিয়া জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, গবাদি পশুসহ সন্তানদের নিয়ে বিপাকে রয়েছি।

চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুল বলেন, গত দুই দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে আছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খবর রাখেনি।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি কখনো বিপদসীমার ওপরে আবার কখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে পানি আরও বাড়তে পারে।

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর স্মরণে মানিকগঞ্জে নানা আয়োজন | কালের কণ্ঠ