kalerkantho

শুক্রবার। ১৭ আশ্বিন ১৪২৭। ২ অক্টোবর ২০২০। ১৪ সফর ১৪৪২

তিন কোটি টাকার ক্ষতি

কাশিয়ানীতে বন্যায় ১ হাজার মৎস্য খামারি ক্ষতিগ্রস্ত

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২০ ১৩:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাশিয়ানীতে বন্যায় ১ হাজার মৎস্য খামারি ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে আনুমানিক প্রায় ৩ (তিন) কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামোগতও বেশ ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ মাছচাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, সমিতি ও স্থানীয় সুদ কারবারিদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে টাকা এনে মাছ চাষ করেছেন। বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে আবারো বড়ধরনের ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার দাবি করেন।

সরেজমিনে উপজেলার সিংগা, হাতিয়াড়া, পারুলিয়া, মাহমুদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘের-পুকুরের পাড় পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। কোনো কোনো পুকুরের পাড়ের ওপর দিয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট পানি হয়েছে। অনেকে পুকুরের চারপাশে জাল ও বাঁশের বানা দিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। তলিয়ে যাওয়া পুকুরগুলো একেবারে মাছশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। 

উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামের উপজেলার সবচেয়ে বড় মাছচাষি মো. ছাওবান বলেন, আমার দুটি পুকুরে (ঘেরে) রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাংগাস, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যায় পুকুর তলিয়ে সম্পূর্ণ মাছ ভেসে গেছে। জাল দিয়ে আটকাতেও সুযোগ পায়নি। এতে আমার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

কাশিয়ানী উপজেলা মৎম্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের তালিকা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবং চাষিদের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

এদিকে, উপজেলার পারুলিয়া, পুইশুর, হাতিয়াড়া, মাহমুদপুর ও সিংগা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়া অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, ব্রিজ-কালভার্ট, পোল্ট্রি ফার্ম। নষ্ট হয়ে গেছে মরিচসহ শাক-সবজির ক্ষেত। এর মিধ্যে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা