• ই-পেপার

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের আগুনে প্রাণ গেল রাজৈরের ফরিদের

চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে ৪ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে ৪ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়া এবং দুপুরে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নগরীর ধনিয়ালাপাড়ায় নিহত দুজন হলেন সাকিব (২৫) ও হৃদয় (২৪)। তাঁদের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। অপরদিকে রাউজানে নিহতরা হলেন রাউজান উপজেলার কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং পাশের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম কালের কণ্ঠকে জানান, শুক্রবার সকালে ধনিয়ালাপাড়া এলাকার একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে ওই দুই যুবক ভেতরে নামেন। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

অন্যদিকে, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলার ঝিকুটিপাড়া এলাকায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নামলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে সমীরণ দাশ নিচে নামলে তিনিও একইভাবে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাউজান স্টেশনের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুই ঘটনারই আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে।

পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ এসএসসি পরীক্ষার্থী

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ এসএসসি পরীক্ষার্থী
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে নাঈম (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাঈশ (১১) নামে আরেক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নাফিসা (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার করনাই এলাকার টাঙ্গন নদীর আতাইঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে করনাই সরকারপাড়া গ্রামের সোহেল রানার ছেলে নাঈম, আব্দুর রশিদের মেয়ে মাঈশ এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জুলফিকার আলীর মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা গোসল করতে টাঙ্গন নদীর আতাইঘাটে যায়। একপর্যায়ে নদীর স্রোতে ভেসে গিয়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয়রা দ্রুত নাঈম ও মাঈশকে উদ্ধার করে। গুরুতর অবস্থায় নাঈমকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাঈশ বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।

অন্যদিকে, নাফিসা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়রা তাকে খুঁজে দেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, নাফিসা তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবে।

সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন (৪২) নামের এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউদ্দিন সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি এবং মাদামবিবিরহাট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে সীতাকুণ্ডের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মাঝখানে চাপা পড়েন মহিউদ্দিন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি কতুব উদ্দিন শিবলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে সীতাকুণ্ডে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মো. আবু তাহের, সাবেক আমির মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী, সহ-সেক্রেটারি কতুব উদ্দিন শিবলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে জানতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রেমের বিয়ের আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা নুপুরের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ভাই-ভাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর
প্রেমের বিয়ের আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা নুপুরের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ভাই-ভাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রেম করে বিয়ের মাত্র আট মাস পর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নুসরাত জাহান নুপুরের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার মাস পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বড় ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পীরগাছা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, ঘটনার চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্বতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান নুপুর একই ইউনিয়নের পাঠক শিকড় গ্রামের আহাদ হোসেনকে প্রেম করে বিয়ে করেন। প্রায় আট মাস আগে হওয়া এই বিয়ে ছেলেপক্ষ মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার তা মেনে নেয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থতার কথা বলে নুপুরকে বাবার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরদিন থেকেই স্বামী আহাদ হোসেনকে তালাক দিতে তার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আহাদকেও শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। ওই রাতে নুপুর ও আহাদকে মারধর করা হয় এবং জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই খালিদ হাসান মিলুসহ পরিবারের কয়েকজনের নির্যাতনে নুপুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় আহাদ হোসেনকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সময় নুপুর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকের দাবি ছিল, নুপুরের মরদেহে আত্মহত্যার সুস্পষ্ট কোনো আলামত ছিল না। তাদের সন্দেহ, মারধরের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্বামী আহাদ হোসেন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিহতের ভাই ও ভাবিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের আগুনে প্রাণ গেল রাজৈরের ফরিদের | কালের কণ্ঠ