• ই-পেপার

আদালতে প্রক্সি দেওয়া নারী ২ দিনের রিমান্ডে

পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার সময় আটক শিক্ষার্থী নাজিম কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার সময় আটক শিক্ষার্থী নাজিম কারাগারে

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় একদল যুবকের হাতে মারধরের শিকার ও পরবর্তীতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা শিক্ষার্থী নাজিম উদ দৌলাকে (২৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বনানী থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ দিন আদালতে আসামি নাজিম উদ দৌলার পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি। তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় নাজিম উদ দৌলাকে মব করে মেরে একদল লোক তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তিনি কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থানাধীন ১১ নম্বর ও ৬ নম্বর রোডের সংযোগস্থলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গতকাল তিতুমীর কলেজ এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে বনানী থানা পুলিশ। তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার জাদু চর গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের বাসন থানার টেকনোপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের আটক রাখার আবেদন থেকে জানা গেছে, গতকাল তিতুমীর কলেজ প্রাঙ্গণে আটক হওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে নাজিম আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসে। পরে আজ বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই কামাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নীলফামারীর সাবেক এমপি আশিকা ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারীর সাবেক এমপি আশিকা ৩ দিনের রিমান্ডে
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারী-৩ আসনের (সংরক্ষিত) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন হোসাইন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন মিরপুর-১ এলাকার এপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী মিছিল করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ব্যানার-ফেস্টুন ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।

এর আগে গত ২৫ জুন রাত ১১টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ওই ঘটনায় আশিকা সুলতালা জড়িত ছিলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তিনি আওয়ামী লীগের অর্থদাতা বলেও দাবি করা হয়। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং নেতৃত্বদানকারীদের শনাক্তের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

চেক জালিয়াতি মামলায় প্রক্সি : আটক নারী ও আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চেক জালিয়াতি মামলায় প্রক্সি : আটক নারী ও আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মূল মামলার আসামি নাসরীন সিকদার (বাঁয়ে) ও তার প্রক্সি দিতে আসা মনোয়ারা বেগম। সংগৃহীত ছবি

ঢাকার একটি আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় আসল আসামির পরিবর্তে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে আটক হওয়া মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতকে বিভ্রান্ত করা, জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার অন্য আসামিরা হলেন মূল মামলার আসামি নাসরীন সিকদার ও আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন। এ ছাড়াও মামলায় একাধিক অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় এই এজাহার দাখিল করেন। এর আগে এদিন দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৪-এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

​আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনআই অ্যাক্ট-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত মামলাটি উক্ত আদালতে বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মূল আসামি নাসরীন সিকদারের হয়ে মনোয়ারা বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ারা তার নাম-পরিচয় এবং মামলার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। বিচারকের সন্দেহ হলে আদালতের নথি ও পরিচয়পত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন। ঘটনার পরপরই মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন কৌশলে এজলাস ত্যাগ করে পালিয়ে যান।

​আটক মনোয়ারা বেগম আদালতে জানান, তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন।

তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি কিছু জানি না। ঢাকা জজ কোর্টের এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছেন। স্যার ডাকছে, আমি এসেছি, এটা যে অপরাধ আমি তা বুঝিনি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অর্থ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে মূল আসামি নাসরীন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেন তাকে প্রক্সি দিতে বাধ্য করেন। আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেন মামলার নথিতে ভুয়া ওকালতনামা তৈরি করে নিজের হাতে নাম লিখে আদালতে জমা দিয়েছিলেন, যা পরিচালনার কোনো আইনগত এখতিয়ার তার নেই।

​মূল মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি ও আসামি নাসরীনের পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ২৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আসামির দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের চেক ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ থাকার কারণে ডিজঅনার হয়। এই চেক জালিয়াতি মামলায় জালিয়াতি করে জামিন নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটি দণ্ডবিধির ২০৫, ৪১৯, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারার অপরাধ বলে বিবেচিত হয়েছে। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

৪৩তম বিসিএস নন ক্যাডারে নিয়োগের প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ হওয়ায় মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। তিনি বলেন, প্রচলিত আইনের ব্যর্তয় ঘটিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে হাইকোর্ট তা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন। গত বছর ৪৩তম নন ক্যাডারে নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে ৪৬২ জন চাকরিপ্রত্যাশী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এর আগে মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই ২০২৩ সালে ৪৩তম নন ক্যাডারে ৬৪২ জনকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। তারই প্রেক্ষিতে রিট দায়ের করা হয়।