• ই-পেপার

ছাতকে দুই গরুচোর হাতেনাতে ধরা

চার বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অটোরিকশা চালক আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধি
চার বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অটোরিকশা চালক আটক

নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিক ওরফে সুমন (৪৩) নামে এক অটোরিকশা চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চাটখিল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুমন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীধরপাড়ার কংসি বাড়ির আবুল কালামের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়, রবিবার চাটখিল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চার বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে অটোচালক সুমনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করেন। 

সোমবার দুপুরে অটোরিকশা চালক সুমন ওই এলাকায় আবার গেলে স্থানীয়রা তাকে চিনে ফেলেন। পরে তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে সুমনকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

তিস্তার পানি বাড়লেও আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই

নীলফামারী সংবাদদাতা
তিস্তার পানি বাড়লেও আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই
সংগৃহীত ছবি

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে রাতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে শুরু করেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টা ও ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। পরে দুপুর ১২টা, বিকেল ৩টা এবং সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে ৫২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার নির্ধারিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রবিবার রাত থেকে পানি বাড়লেও সোমবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরো বলেন, পুরো বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ব্যারাজের উজান অংশে সাধারণত ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অবস্থান করে। তাই অস্বাভাবিক বা তীব্র ঢল না হলে নীলফামারী অংশে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা কম। তবে ব্যারাজের ভাটির নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

হত্যার পর আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয় হাত-পা বাঁধা লাশ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
হত্যার পর আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয় হাত-পা বাঁধা লাশ
সংগৃহীত ছবি

ঝালমুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার কানের সোনার দুল ছিঁড়ে নিয়ে হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ আলমারির ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই হত্যাকারী ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার পর তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) রাত  ৯টার দিকে পুলিশ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম থেকে ওই ছাত্রী ও ঝালমুড়ি বিক্রেতার লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন (৯)। সে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের কৃষক ও ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে ও ৪১নং কাশীবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। নিহত ঝালমুড়ি বিক্রেতার নাম সুরাইয়া আক্তার। সে একই গ্রাম কাশিবাটির আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও লুৎফর রহমানের মেয়ে।

নলতা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ এমাদুল ইসলাম ও ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের খোকন জানান, কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার প্রতিদিন কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে। সোমবার সকালে ফারজানা ইয়াসমিনকে আগে স্কুলে আসতে বলে সুরাইয়া আক্তার। সে অনুযায়ী ফারজানা সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে এলে সুরাইয়া তাকে ডেকে নিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর জন্য বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার হাত ও পা বেঁধে কানে থাকা সোনার কানের দুল ছিঁড়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে  হত্যা করে লাশ আলমারির ড্রয়ারে রেখে দেয়। দুপুরে ফারজানা বাড়িতে না যাওয়ায় তার বাবা ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে থাকে।

একপর্যায়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফারজানার গলা কাটা লাশ ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তারের বাড়ির আলমারির ড্রয়ার থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে আটক করে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে। এসময় তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামবাসী এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত  ফারজানা ও সুরাইয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। রাত ৯টার পর অতিরিক্ত পুলিশ এসে ফারাজানা ও সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম জানান, তার বোনঝিকে (বোনের মেয়ে) সোনার দুলের জন্য হত্যা করেছে সুরাইয়া।

কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল বলেন, ফারজানাকে  সোমবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে স্কুল থেকে সুরাইয়া ডেকে নিয়ে যায়। যাহা স্কুলের সিসি ক্যামেরা দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে অবহিত করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় ফারজানাকে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকেলে তিনিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। স্কুলছাত্রী ফারজানার হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়ার ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখে। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে ইট দিয়ে থেঁতলে মেরে ফেলে ও তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফারজানা ও সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

এবার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ডাকাতি মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
এবার গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালাল ডাকাতি মামলার আসামি
গ্রেপ্তার সম্রাট

জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এবার গাজীপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে গেছে ডাকাতি মামলার এক আসামি।

রবিবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরের দিকে ওই আসামিকে গারদখানা থেকে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায় সম্রাট (২৭) নামের ওই আসামি।

তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তাত্তাপাড়া এলাকার দুলাল মন্ডলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে গাজীপুরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে সদর মেট্রো থানা পুলিশ।

আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যে গারদখানায় নেওয়া হয়। এসময় কৌশলে হাতকড়া থেকে হাত বের করে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।

ওসি আরো বলেন, ‘আসামি সম্রাটকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে সে কৌশলে হাতকড়া থেকে হাত বের করে পালিয়ে যায়। তার হাত চিকন হওয়ায় সে এই সুযোগটি কাজে লাগায়। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘ডাকাতি মামলার এক আসামি কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। 

ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

ছাতকে দুই গরুচোর হাতেনাতে ধরা | কালের কণ্ঠ